ঘুম হারামের শহর
Urban Life

ঘুম হারামের শহর

The Publish Editorial July 23, 2026 1 min read

রাত দুইটা। গুলশানের একটি কফি শপের জানালার পাশে বসে মেহরিমা। গ্রাফিক ডিজাইনার, বয়স ছাব্বিশ। তার ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে আছে। পাশে এক কাপ ঠান্ডা হয়ে যাওয়া ক্যারামেল ল্যাতে। সে আজ সকালে একটি মেডিটেশন অ্যাপ খুলেছিল। Headspace, পাঁচ মিনিটের “ঘুমের জন্য মাইন্ডফুলনেস” সেশন। শেষ করার আগেই একটি ক্লায়েন্টের ইমেইল এলো। তারপর সন্ধ্যায় থেরাপিস্টের সাথে অনলাইন সেশন। তারপর আবার কাজ। এখন রাত দুইটা, এবং সে ঘুমায়নি।

আধুনিক ঢাকার তরুণরা স্বাস্থ্য-সচেতন হয়ে উঠছে। এটা সত্যি। তারা কফি খায় সজাগ থাকতে, মেডিটেশন করে মানসিক শান্তি খুঁজতে, থেরাপিতে যায় নিজেকে বুঝতে। কিন্তু এই তিনটি অভ্যাসের ভেতর একটি নিষ্ঠুর বিদ্রূপ লুকিয়ে আছে। এই তিনটির প্রতিটিই, পরোক্ষভাবে, তাদের ঘুম থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। এবং এই ট্র্যাজেডির শিকড় খুঁজলে আমাদের যেতে হবে ১৮৭৯ সালে। একজন আমেরিকান উদ্ভাবকের হাতের কাছে, যিনি ঘুমকে বলেছিলেন “Sleep is a waste of time, a heritage from our cave days.”।

থমাস এডিসন এবং ঘুম

থমাস আলভা এডিসন শুধু বাল্ব আবিষ্কার করেননি। তিনি রাতকে দিনে পরিণত করার দর্শনও আবিষ্কার করেছিলেন। এডিসন নিজে মাত্র তিন-চার ঘণ্টা ঘুমাতেন, এবং ঘুমকে তিনি মনে করতেন “সময়ের অপচয়, গুহামানবদের কাছ থেকে পাওয়া একটি উত্তরাধিকার।” তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে কৃত্রিম আলোর সংস্পর্শে আসা মানুষ বুদ্ধিমান হয়, আর রাত হলে ঘুমিয়ে পড়া মানুষ পিছিয়ে থাকে।

শিল্পবিপ্লব থেকেই মানুষের ঘুমের ধরনে বড় পরিবর্তন শুরু হয়েছিল, এবং এডিসনের বৈদ্যুতিক বাল্বের আবিষ্কারের পর এই পরিবর্তন অপরিবর্তনীয় রূপ নেয়। একসময় সূর্য ডুবলে মানুষের সামাজিক জীবন শেষ হতো। এডিসনের পর সূর্যাস্ত আর জীবনের সমাপ্তি ছিল না। বরং তা হয়ে উঠল সন্ধ্যার শুরু।

গত পঞ্চাশ বছরে মানুষের গড় ঘুম প্রায় দুই ঘণ্টা কমে গেছে, এবং ছয় ঘণ্টার কম ঘুমানো মানুষের অনুপাত ১৯৮৫ সালের পর থেকে প্রায় ছয় শতাংশ বেড়েছে। এটি জৈবিক পরিবর্তন না। এটি সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ফল। এডিসন যে আগুন জ্বেলেছিলেন, তা আজ ঢাকার বনানীতেও জ্বলছে।

ঢাকার কফি বিপ্লব: জেগে থাকার অর্থনীতি

ঢাকায় এখন কফি শুধু ড্রিংক্স না। এটি একটি পরিচয়ও বহন করে। বাংলাদেশে ২০১০-এর দশকে কফি শপ হ্যাংআউটের জায়গা হিসেবে জনপ্রিয় হতে শুরু করে, কারণ বাড়তি আয়ের একটি শহরে সাশ্রয়ী বিনোদনের বিকল্প তেমন ছিল না। তাই কফি শপ খাওয়া-দাওয়া ও আড্ডা বিনোদনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। দেশের মিলেনিয়াল ও জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে কফির প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি হয়েছে, এবং তাদেরকে এই বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোক্তা শ্রেণি ধরা হয়। 

২০১১ সালে North End Coffee Roasters-এর জন্মের মধ্য দিয়ে ঢাকায় প্রকৃত কফি সংস্কৃতির যাত্রা শুরু হয়, যা শুধু কফি পরিবেশন নয়, বরং বারিস্তা প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় কফি সংস্কৃতি বিকাশের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। তারপর থেকে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডিতে এক কফি শপের পর আরেক কফি শপ গজিয়ে উঠেছে।

কিন্তু এই কফি শুধু রুচি পরিবর্তনের গল্প নয়। এর পেছনে রয়েছে এক এক কঠিন বিজ্ঞান।

ক্যাফেইন ঘুম-জাগরণ নিয়ন্ত্রণের জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে। এটি একদিকে সজাগ থাককে বাধ্য করে, অন্যদিকে ঘুমের মানও নষ্ট করে। কফির অর্ধজীবন সাধারণত চার থেকে ছয় ঘণ্টা, তবে এটি দুই থেকে বারো ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। কফি অ্যাডিনোসিন রিসেপ্টর ব্লক করে ঘুমের প্রাকৃতিক সংকেত থামিয়ে দেয়।

অর্থাৎ রাত আটটায় এক কাপ কফি খেলে, তার অর্ধেক ক্যাফেইন এখনো রাত বারোটায় আপনার শরীরে সক্রিয়। আর ঢাকার অনেক তরুণ রাত এগারোটা-বারোটায় কফি খাচ্ছে।

Sleep Foundation-এর তথ্যানুুযায়ী ক্যাফেইন পানকারীদের মধ্যে ৩১ শতাংশ অনিদ্রা, ৩০ শতাংশ উচ্চ উদ্বেগ এবং ১৩ শতাংশ মাথাব্যথার অভিযোগ জানিয়েছেন। তারপরও তারা কফি ছাড়তে পারছেন না। কারণ ঘুম না হওয়ার ক্লান্তি কাটাতে আবারও কফি লাগছে। আর এটি একটি নিখুঁত দুষ্টচক্র, যার বিজ্ঞাপন ঢাকার প্রতিটি কফি শপের ইনস্টাগ্রাম পেজে হচ্ছে।

মেডিটেশন: শান্তির বাজার, অশান্তির উৎস

এবার আসুন মেডিটেশনে। ধানমন্ডিতে একটি ওয়েলনেস স্টুডিও সন্ধ্যা সাতটায় “অফিস শেষে মাইন্ডফুলনেস” ক্লাস চালায়। আসনে বসে চোখ বন্ধ করা মানুষগুলো একটু আগেও ট্র্যাফিকে বসে ছিলেন। ক্লাসের পর তারা হয়তো আবার ফোনে কাজের ইমেইল চেক করবেন।

মেডিটেশন সত্যিই উপকারী। এটি নিয়ে বিতর্ক নেই। কিন্তু এটি যেভাবে বিক্রি হচ্ছে, সেটা আলোচনার দাবি রাখে। বৈশ্বিক মানসিক সুস্বাস্থ্য বাজারের মূল্য ২০২৪ সালে ছিল ১৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫৬ বিলিয়নে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। মেডিটেশন মার্কেট ২০২৫ সালে ৯.৬৪ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৬ সালে ১১.৮৮ বিলিয়নে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে, অর্থাৎ ২৩.৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি।

এত বিশাল একটি বাজার তৈরি হয়েছে মূলত কারণ মানুষ ঘুমাতে পারছে না, মনের শান্তি হারিয়েছে, কাজের চাপে ভাঙছে। মেডিটেশন ইন্ডাস্ট্রি সেই সংকটকে পণ্য করে বিক্রি করছে। বার্নআউট ক্রমশ এমন কিছুতে পরিণত হয়েছে যা আপনি “নিজে নিজে” ভোগ করছেন। আর তখনই মাইন্ডফুলনেস অ্যাপ, রেজিলিয়েন্স ট্রেনিং ও ওয়েলনেস চেকইনের ব্যবসা মাঠে নেমে এই ব্যক্তিগতকৃত সমস্যাকে মুনাফায় রূপান্তরিত করছে।

অর্থাৎ সমস্যাটা কাঠামোগত। কিন্তু সমাধানটা বিক্রি হচ্ছে ব্যক্তিগত হিসেবে। আপনার সিস্টেম খারাপ না, আপনি নিজেই সচ্ছল নন। তাই অ্যাপ কিনুন।

শহরের তরুণরাও এই ফাঁদে পড়ছেন। তারা Headspace ডাউনলোড করছেন ঘুমানোর জন্য, কিন্তু সেই অ্যাপটি খুলছেন ফোনে। যে ডিভাইসের নীল আলো মেলাটোনিন উৎপাদন দমন করে এবং শরীরকে মনে করায় এখনো দিন।

থেরাপি: সচেতনতার উদয় হলো, ঘুমেরও অস্ত গেলো

ঢাকায় থেরাপিস্টের কাছে যাওয়া এখন আর লজ্জার নয়। এটি অগ্রগতির চিহ্ন। এবং এটি সত্যিকারের ইতিবাচক পরিবর্তন। গত কয়েক দশকে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে, এবং তরুণ প্রজন্ম তাদের সংগ্রামের কথা প্রকাশ্যে বলতে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। এটি নিঃসন্দেহে ভালো দিক।

কিন্তু থেরাপি নেওয়ার প্রক্রিয়াটি একটু দেখুন। অফিস শেষে সন্ধ্যায় সেশন, তারপর সেশনে যা আলোচনা হলো তা নিয়ে ভাবতে ভাবতে রাত বাড়ে, ঘুম আর আসে না। মনোবিজ্ঞানের মতে, নিরন্তর পারফর্ম করার চাপ দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, বার্নআউট, এমনকি উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি করে এবং এটি ঘুমের সমস্যা ও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির অন্যতম কারণ।

মানুষ থেরাপিতে যাচ্ছে কারণ সে ক্লান্ত, উদ্বিগ্ন, ঘুমাতে পারছে না। থেরাপি তাকে বুঝতে সাহায্য করছে সে কেন এমন। কিন্তু সে বোঝার পরও রাতের বেলা যদি পরের দিনের ডেডলাইনের তালিকা মাথায় ঘুরতে থাকে, তাহলে ঘুম আসবে কোত্থেকে?

হাসল কালচার ও ঘুম না ঘুমানোর গৌরব

এই পুরো চিত্রের পেছনে একটি আদর্শ কাজ করে। যাকে বলে, হাসল কালচার। “ঘুম মৃত্যুর জন্য” এই বাক্যটি ঢাকার তরুণ উদ্যোক্তাদের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস থেকে শুরু করে LinkedIn পোস্টে ভাইরাল। হাসল কালচার আমাদের শেখায় ঘুম বিলাসিতা, বিশ্রাম দুর্বলের চিহ্ন এবং বার্নআউট সাফল্যের সিঁড়ির একটি ধাপ মাত্র। ক্লান্ত হলে আরেকবার কাপ কফি খাও।

কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ঠিক উল্টো কথা। ২৪ ঘণ্টা না ঘুমালে যে মানসিক বিপর্যয় হয় তা মদ্যপানের পর্যায়ে পৌঁছে। এবং দীর্ঘস্থায়ী ঘুম-সংকট স্মৃতি, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাথে যুক্ত মস্তিষ্কের কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যে ব্যক্তি গর্ব করে বলেন “আমি রাতে চার ঘণ্টা ঘুমাই,” তিনি আসলে তাঁর চিন্তাশক্তির সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করছেন না। আপনার কি মনে হয়, কম ঘুমালে আপনার অর্থনৈতিক সাচ্ছল্যবোধ উন্নত হবে?

ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকোনমিক রিসার্চের গবেষণা অনুযায়ী, ঘুম-সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বার্ষিক ৪১১ বিলিয়ন ডলারের উৎপাদনশীলতা নষ্ট করছে। হাসল কালচার আসলে অর্থনীতির শত্রু, বন্ধু একদমই নয়।

আগে মানুষ কীভাবে ঘুমাত?

এই প্রশ্নটি অদ্ভুত মনে হতে পারে, কিন্তু উত্তরটি আশ্চর্যজনক। শিল্পবিপ্লবের আগে শুধু ইউরোপ না, আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী সমাজেও “দ্বিভাজিত ঘুম”-এর রীতি ছিল। অর্থাৎ- রাতগুলো ছিল দীর্ঘ, শান্ত, প্রকৃতির সাথে সংগতিপূর্ণ। মানুষ সূর্যাস্তের পর কিছু সময় ঘুমাত, মাঝরাতে উঠে প্রার্থনা বা চিন্তা করত, তারপর আবার ঘুমাত ভোর পর্যন্ত। এডিসনের কৃত্রিম আলো এবং “মানুষ আলোর পরিবেশে উন্নত হয়” এই তত্ত্ব সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সীমানা মুছে দিয়ে আধুনিক জীবনের গতি বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের গ্রামে এখনো দেখবেন, রাত দশটায় ঘুমিয়ে ভোর পাঁচটায় উঠছে মানুষ। তারা কোনো মেডিটেশন অ্যাপ ব্যবহার করে না। তারা ঘুমায়। কারণ তাদের জীবনে এখনো সূর্যের ছন্দ আছে। ঢাকার তরুণরা সেই ছন্দ হারিয়েছে। তার বদলে পেয়েছে স্ক্রিনের আলো, ডেডলাইনের চাপ, এবং “সেলফ-কেয়ার” ইন্ডাস্ট্রির বিজ্ঞাপন। এবং এই ইন্ডাস্ট্রি আমাদেরকেই পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছে।

ঢাকা এবং বৈশ্বিক ঘুম-সংকটের মিলন

এই সংকট শুধু ঢাকার নয়। NLM (National Library of Medicine) এর তথ্য মতে,  নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে অর্থনৈতিক অস্থিরতা, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং পরিবেশগত চাপ ঘুম-সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে, অথচ এই দেশগুলোতে ঘুম-গবেষণা তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

সিঙ্গাপুরে ৬৮ শতাংশ জেন-জি কর্মীরা ২০২৪ সালে কাজের কারণে বার্নআউটের শিকার হয়েছেন। ডেলয়েটের গবেষণা বলছে, ৭৭ শতাংশ পেশাদার মানুষ তাদের বর্তমান কাজে বার্নআউট অনুভব করেছেন, এবং ৪২ শতাংশ এ কারণে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ঢাকায় এই পরিসংখ্যান এখনো সুশৃঙ্খলভাবে সংগ্রহ করা হয়নি। কিন্তু কফি শপে রাত দুইটার ভিড় নিজেই একটি ডেটাপয়েন্ট।

তবে কী করবো আমরা?

এখানে কোনো সহজ সমাধান নাই। কিন্তু কিছু সত্য স্বীকার করার সময় এসেছে। প্রথমত, বিজ্ঞান বারবার বলছে- সন্ধ্যা ছয়টার পর কফি না খাওয়াই ভালো। দ্বিতীয়ত, মেডিটেশন অ্যাপ ফোনে রাত বারোটায় খোলা মানে শান্তির নামে নিজেকে আরও জাগিয়ে রাখা। তৃতীয়ত, থেরাপি ভালো। কিন্তু ঘুমের বিকল্প নয়। ঘুম নিজেই একটি থেরাপি। এবং চতুর্থত, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঘুম উৎপাদনশীলতার শত্রু নয়। বিশ্রাম উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। এটি সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ভিত্তি।

ঘুম একটি বিপ্লব

এডিসনের সমসাময়িক সময়ের একজন বাঙালি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ, অথচ এডিসনের দর্শন তাঁকে স্পর্শ করেনি। তিনি লিখেছিলেন “বিশ্রাম কাজের অঙ্গ একসাথে ওতপ্রোত।” আধুনিক ঢাকার তরুণরা রবীন্দ্রনাথ পড়েছেন, কিন্তু যাপন করছেন এডিসনের দর্শন। তারা কফি খেয়ে জেগে থাকছেন, মেডিটেশন করে মনের শান্তি খুঁজছেন, থেরাপিতে গিয়ে ক্লান্তির কারণ বুঝছেন। কিন্তু ঘুমাচ্ছেন না।

মেহরিমা সেদিন রাত তিনটায় ঘরে ফিরেছিল। সকালে উঠে আবার একটি কফি নিলো সে। পরের মেডিটেশন সেশনের নোটিফিকেশন বাজছে তার ফোনে।

Author