বিকালের নয়নতারা ও আরও সাত কবিতা

রাবিয়ার কবিতা খুশিতে উলালে, বিকালে হুদা লাগা, কখনো একটা মানবশিশু হয়ে উঠে রসমালাই

● রাবিয়া সাহিন ফুল্লরা

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

বিকালের নয়নতারা ও আরও সাত কবিতা The Publish

ইলাস্ট্রেশন : লেখকের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া ছবি অবলম্বনে / দ্য পাবলিশ


বিকালের নয়নতারা

~
হুদাই একটা বিকাল 
কাটায়ে দিব তরকারি গরম করে করে
রাইতের ভাত আরেক চুলায় ফুটবে টগবগ
জানলায় চোখ পড়লে দেখব 
লাউয়ের ডগায় ফুল আইছে
পুঁইয়ের লতাগুলা উঠে পড়ছে মাচায়
রাজমিস্তিরিরা আড্ডা দিতেছে পাশে
আর নয়নতারা তখনও ফুটে থাকছে
পাশের বারান্দায়

জুন, ২০২৪

উলালে

~
কী সুন্দর হাসি হাসি মুখ করে কথা বলতেছি
আহারে! আহারে!  
যেন মাত্রই বিষ্টি হইলো
আর মাত্রই রইদে চকচকা উঠানে ঝাড়ু দিতে আসলাম।
কাঠবাদামের ফুল রেণু রেণু
পড়ে আছে কাঁচা আম আর
কচি পাতার দল এখানে ওখানে।
একপাশে শুকনা পাতা মেলে দিয়ে
ঝকঝকা উঠানে
এখন লাল লাল মরিচ শুকাইতে দিবো রে!
মুগ আর খেসারীও দিবো কিছু
আর কিছু খাইশ্যা
আলাদা আলাদা বিছানে।
বিষ্টিতে ওদানো কাপড়ও
মেলতে হবে দড়িতে।
ওরে, অনেক রইদ রে আজকে উঠানে!
উলালে আমি ভুলেই গেছি কী ছিল যে মনে…

০৮ এপ্রিল, ২০২৫

দুপুরের পরে

~
দুপুরের পরে কী করা যায়
ঘুম তো শেষ, বই পড়তেও দিবা না, যাও
দেখো তো, বাইরে বাতাস আছে কি না
রিনিরিনি করে পাতারা কাঁপতেছে কি না
মসজিদের সামনে বিছায়ে থাকা ফুল
ইটের টাল আর তার পাশে
দেবী দূর্গার মত হাত ছড়ানো পেঁপেগাছ 
আছে কি না লাল কৃষ্ণচূড়া গাছ
পুঁইয়ের লতা আর নীল ভাসতে থাকা আকাশ
বিষ্টির পরে ওঠা মিষ্টি রইদ
দুয়েকটা রিকশা আর
পান-ফুচকার দোকান
আমরা বাইরে যাব!
গাড়ি কল দিছো?
হুমম, হ্যালো, হ্যালো..
দেখো তো, বাইরে বাতাস আছে কি না
ভার্সিটির ছেলেরা গান গাইতেছে কি না…

মে, ২০২৫

দুপুরবেলার পিঁউ পিঁউ

~

পাখিটা কোথায় বসে যে পিঁউ পিঁউ ডাকতেছে! ভাতের প্লেট হাতেই জানলা দিয়ে কতরকমে যে বিছরাইলাম। কাঁঠাল গাছে যে শালিকটা ডাকতেছে কতক্ষণ পর পর, তার ডাকের ভিতর থেকেই কি পিঁউ পিঁউ আসতেছে? না তো, নিমের ডালেও নাই কেউ।

তাহলে কে ডাকে এমন কোলছাড়া ছানার মতন?

বর্ষায় গাছেদের মতন পাখিরাও কেমন বাড়তেছে সংখ্যায়। সেদিন এক বসন্তবাউরির ডাক শুনে এত আনচান লাগলো! তারপর থেকেই মাথা বের করে দেখি, এই শহরে টিকে থাকা কে কোন পাখি!

একদিন এক কাঠঠোকরারে দেখলাম, লালঝুঁটি মাথায় কাঠের তক্তার উপর ভাত খেয়ে গেলো সামনের বারান্দায়। কী সুন্দর ছোপালো হলদে রঙ তার! 

আরে, ওই তো বুলবুলির ছানাটা!

ডানা মেলতে মেলতে উড়ি উড়ি করতেছে একা। 

পুঁইশাকের ক্ষেতে ছোট ছোট পাতার নিচে, সামান্য যে ছায়া সেখানে বসেই খানিক পর পর,  পিঁউ পিঁউ আর

চারপাশের দালান থেকে কেউ যদি ময়লা ফেলে আবার, এই ডরে তারে আমি চোখে চোখে রাখি। খানিক পরেই দেখি, দুইটা বুলবুলি হাজির। কার্নিশে বসে বাসি ভাত খাইতেছে, আর ছানাটা তার মায়েরে দেখেই যেন উড়া শিখে গেছে। 

ডুমুরের ডাল থেকে ডালে, ধীরে 

পাখনা দুইটা ছড়ায়ে, মায়ের লগে কী যে কুয়ারা করে!

২৬ জুন, ২০২৫

বাবল

~
আম্মু কই? আম্মু কই?
আম্মু ত বই পড়ে শুয়ে শুয়ে 
তুমি তার পাশে হাতি-ঘোড়া নিয়ে 
খেলো আর গীত গাও: মা মা মা! 
লোল আসে ঠোঁটে  
আর বাবল ফোটে
উড়াতে গিয়ে গড়ায়ে পড়ো বইয়ের উপর
চুমু দাও গালে আর চোখের পাতায়
আর নিজের রসমালাইয়ের মত গাল 
মেলে রাখো আম্মুর বইয়ের পাতায়।

২৫ অক্টোবর, ২০২৫

সাঁকো

~
পাশাপাশি দুইটা আই আর মাঝখানে সাঁকো।
চক দিয়ে একটা খুব এইচ আঁকা হলো।
সাঁকো ধরে আমরা কি এবার বনশ্রী যাবো?
বিষ্টি নামবে আর চকলেট মোমো খাবো..!

জানুয়ারী, ২০২৬

ছবি

~
ছবি তো আঁকতে পারি না ভালো।
খারাপও কি পারি?
সে হাবিজাবি আঁকে আর বকে—
বলে, এটা হলো মশারী।
এই দেখো, পাখির বাসা।
কি সুন্দর জঙ্গল!
ভিতরে কিন্তু পাখি আছে।
পাখি ডিমে বসে ছানা ফোটায়।
পাখি বেলকনিতে এসে খুঁদ খায়।
পাখি চঞ্চল—আমরা ঘুমাই।
পাখি নিরলে কথা বলে।
পাখি কি বুলবুল?
যেই একটা ছবি তুলতে যাই,
পাখি থাকে না। পাখি কবিতা হয়ে যায়।

জানুয়ারী, ২০২৬

গানের ভিতরে

~
সময় গড়ায়ে গেছে কত
অথচ একই গান যখন আবারো শুনি,
তাওয়ার মত রুটির গোলে পিরীতে পুড়ি।
নিজেরে গানের ভিতর সামলায়ে রাখি,
সারাদিনই গুনগুনাই, ডরে ডরেই থাকি
ছ্যাঁকা যদি লাগি যায় রুটির গায়ে
নিজেরে গানের ভিতর রাখি সামলায়ে।

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬


Picture of রাবিয়া সাহিন ফুল্লরা

রাবিয়া সাহিন ফুল্লরা

রাবিয়া সাহিন ফুল্লরা একজন কবি ও অনুবাদক। তাঁর বইয়ের মধ্যে রয়েছে দরিয়ার ফুল (২০২১) ও দুই আনা সফর (২০২৪)। তিনি একাধিক কবিতার গ্রন্থ অনুবাদ করেছেন এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখেন।

শেয়ার করুন

পড়তে পারেন

“আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা আমাদের বাচ্চাদেরকে নানাভাবে আদর করেন। কিন্তুক, সবগুলাই যে ভাল, তা মোটেও নয়।”

আবু তাহের তারেক

বাংলাদেশে নিখোঁজ হওয়া ঠেকানোর বা দ্রুত সন্ধান পাওয়ার ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত।

The Publish

নেপালের একটি পাহাড়ের ধস, বাংলাদেশের একটি নদীভাঙা গ্রামের গল্পের সঙ্গে কীভাবে জড়িয়ে যায়, সেই সুতোটাই টানবো আজ।

দ্য পাবলিশ সম্পাদকীয়

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের প্রকাশিত নথি বদলে দিয়েছিল যুদ্ধ আর কূটনীতি নিয়ে জনগণের বোঝাপড়া।

The Publish Newsroom

Scroll to Top