নিষিদ্ধ বৃক্ষ

সে হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছিলো এমতাবস্থায় তার হবু স্বামী তার জন্য একটা ফুলের তোড়া নিয়ে আসে এবং তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করে।

● তারেক আব্দুল্লাহ

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

নিষিদ্ধ বৃক্ষ, দ্য পাবলিশ The Publish

ইলাস্ট্রেশন : আলব্রেখট ডুরার / দ্য পাবলিশ


সে রক্ষণশীল মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিলো। মনস্থির করলো নিষিদ্ধ গাছের স্বাদ নেয়ার এবং ইচ্ছে মতো মোজমাস্তি করার। সে আমাকে এহেন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের একটা কারণ জানালো। আর তা হলো, উচ্চশিক্ষা থেকে তাকে বঞ্চিত করণ। সে মাধ্যমিক শেষ করলে তার বাবা তাকে বিশ্ববিদ্যালয় গমণ থেকে বিরত রাখে। কারণ, তার বাবা মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয় চরিত্র নষ্ট করে, সুবোধ ধ্বংস করে এবং সেখানে ছেলে-মেয়ে ফ্রি মিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ে। যার কারণে সুমহান মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়া থেকে রেহাই পায় না।

সে যখন তার ভার্সিটি পড়ুয়া বান্ধবীদের দেখতো তখন তার আত্মদহন হতো।

তাছাড়া সে থাকতো একটি কলেজের পাশে। সেখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলের দৃশ্য তার কাছে খুউব পরিচিত মনে হতো। তার ফ্রেন্ডসরা দারুণ স্মার্ট ও ভবিষ্যৎয়ের ব্যাপারে অন্যরকম কেয়ারিং হয়ে গেলো। 

তার এক বান্ধবী ভার্সিটিতে এক ছেলের প্রেমে মজলো। তারা উভয়ে গ্রাজুয়েশান কমপ্লিট করে বিয়ে করার সিন্ধান্তও নিলো। তার সেই বান্ধবী তাকে তার ভালোবাসার স্বাদ ও তার প্রেমিকের শক্তিশালী ব্যক্তিসত্তার কথা বলতো। আর এতেই সে চরম হতাশা অনুভব করতো। কারণ, সে তার বান্ধবীর মতো এমন কোনো ছেলেকে নিজের করে নিতে পারছে না যাকে সে বুঝবে, তার স্বভাব-চরিত্রের সাথে পরিচিত হতে পারবে। বরং, তাকে বাড়িতে একাকী অবস্থান করে এমন একজনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে যে তার বাবার কাছে এসে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিবে। 

বিষন্নতার অনুভূতি তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। তার হৃদয়ে নিঃসঙ্গতা ও বঞ্চনার বোধ আরো গভীর হয়েছিলো। উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং এমন এক শিক্ষিত যুবকের সাথে তার পরিচয় না হওয়ার আক্ষেপ—যে তাকে প্রচন্ড ভালোবাসবে এবং সেও তাকে খুব ভালোবাসবে। আর তারা দুজনে মিলে একটি শান্ত-সুখের দাম্পত্য জীবনের নীড় সাজাবে।

এক সন্ধ্যায় তাকে এক বান্ধবী তার বাড়িতে দাওয়াত দিলো। তার সাথে আরো অনেক বান্ধবী সেখানে ছিলো। তার সেই বান্ধবী ডিভাইসে একটি অশ্লীল ফিল্ম প্রদর্শন করলো। এটি ছিলো তার দেখা ছবিগুলোর একটি। সে ঐ ফিল্মে দেখতে পেলো পশ্চিমা মেয়েরা তাদের ইচ্ছেমতো যাচ্ছেতাই করছে। সে তাতে আরো অবাধ প্রেম ও উত্তেজনাকর দৃশ্যাবলি অবলোকন করলো। সে ফিল্মের এক পর্যায়ে দেখে যে, এক যুবক তার বান্ধবীর কাছে এসে তার ভাইয়ের সামনেই তাকে চুম্বন করে বসলো। অতঃপর একটি নিরিবিলি ও দূরবর্তী নদীর তীরে বেড়াতে বের হয়ে উভয়ে সাঁতার কাটার জন্য বিবস্ত্র হয়ে পানিতে নেমে পড়লো। একটু পর মেয়েটি পানি থেকে উঠে সবুজ ঘাসে হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ে।

আরেক দৃশ্যে দেখলো, এক যুবতী পরীক্ষা উপলক্ষে গ্রুপ স্টাডি করতে তার এক ফ্রেন্ডকে বাড়িতে ডেকে আনলো। এবং তারা উভয়ে একটি ছোট্ট রুমে পড়তেছিলো। পড়া শেষ হতে হতে প্রায় মধ্যরাত হয়ে গেলো। তখন মেয়েটি রুমের দরজা লক করে তার বন্ধুকে এক গ্লাস মদ এগিয়ে দেয়। তারপর রাতভর যা ঘটার ঘটে।

এসব যৌন উত্তেজক দৃশ্য তার ঘুমন্ত আবেগকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তার হৃদয়ে কামভাবের আগুন জ্বলে উঠে। সাথে তার মনে অনেক প্রশ্নের উদ্রেক হলো: কেনো ওয়েস্টার্ন রমনীরা ইচ্ছেমতো জীবন উপভোগ করে, আর তা থেকে ইস্টার্ন মেয়েরা চরমভাবে বঞ্চিত হয়? ঠিক কী কারণে সে পশ্চিমা যুবতীদের মতো যাচ্ছেতাই করতে পারে না? এসব প্রশ্নের কারণেই মূলত সে নিজের জীবনে এমন মারাত্মক সিদ্ধান্ত নিতে উদ্ধত হয়। আর সেই সিদ্ধান্তটি হলো সে নিজের জীবনকে নিজের মতো উপভোগ করবে এবং সব ধরনের নিষিদ্ধ কাজে জড়াবে। এসব ভেবে সে আকর্ষণীয় পোষাকে নিজেকে সাজিয়ে, লোভনীয় ঘ্রাণের পারফিউম মেখে ঠোঁট, মুখ ও কপাল নানান ধরনের মেকাপে রঙিন করলো। আর নিজেকে আয়নায় এক ভিন্ন নারীরূপে দেখতে পেলো। সে অনুভব করলো এখন আমার নারীত্বের চিৎকারের সামনে কোনো পুরুষ নিজেকে স্থির রাখতে পারবে না।

তার প্রথম প্রেমিক ছিলো পার্শবর্তী কলেজের এক শিক্ষার্থী। একদিন তার সাথে ঘুরতে বের হয় সে। উভয়ে এক পাবলিক পার্কের কোণে গিয়ে বসে। সে অপেক্ষায় ছিলো কখন তার প্রেমিক তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাবে। কিন্তু, তা হলো না। মানে ছেলেটা তার সাথে চুমাচুমিতে মেতে উঠলো না। সন্ধ্যা হতেই পার্কজুড়ে নীরবতা নেমে আসে এবং লোকসমাগম কমে যায়। আর এতেই সে তার প্রেমিকের উষ্ণ আলিঙ্গন ও উত্তেজনাকর চুমাচুমির স্বাদ অনুভব করে। সেও তার বয়ফ্রেন্ডকে তীব্র স্বাদের কিসিং করে। তার এই অভিজ্ঞতা ছিলো খুবই মজার। যা সে অধিকহারে কামনা করে। ইচ্ছেমতো হাগিং আর কিসিং করতে পারলেও উত্তেজনার আসল স্বাদটা নেয়া হলো না তার। তবে, সে দৃঢ় প্রত্যয়ে মুখিয়ে আছে সেক্স করার জন্য।

এরই মাঝে একদিন এক নিকটাত্মীয়ের তরফ থেকে তার বিয়ের সম্বন্ধ আসে। ইতোপূর্বে তাকে প্রত্যাখ্যান করা সত্বেও এবারে সাথে সাথেই সে হ্যাঁ বলে সম্মতি দিলো। সম্মতিটা তার প্রতি সন্তুষ্টি থেকে নয়; বরং তার মাধ্যমে অবৈধ অবাদ যৌনাচারে পর্দা টেনে দেয়াই ছিলো তার মাকসাদ। উভয় পরিবার একমত হলো ছেলের গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করার পর বিয়েটা হবে। ছেলের পড়া শেষ হতে বাকি আরো দেড় বছর।

অপারেশনের পর সে আমাদের হসপিটালের শিশু ও প্রসূতি ওয়ার্ডের বেডে শুয়ে ছিলো। তার কঠিন চিৎকারে ব্যথার ছাপ স্পষ্ট। এমন হালতে সে আমাকে তার অস্থির যৌন উত্তেজনার বর্ণনা দিচ্ছিলো। অপারেশনের ব্যথা ও সময় শেষ হওয়ার পর আত্মভৎসনার ব্যথা নিয়েও সে এসব আমাকে বলে যাচ্ছে। কারণ, তার মনে হচ্ছে ভুল-ত্রুটি ও অপরাধের বর্ণনা তার বুকের ভারকে হালকা করে দিচ্ছে। এজন্য সে আমার সাথে বাতচিত কন্টিনিউ করলো। সে অনুভব করতো তার সতি পর্দাই তাকে তার তীব্র যৌনতা চরিতার্থে বাঁধা প্রদান করে। এই অভিশপ্ত বাঁধা অবশ্যই উপড়ে ফেলতে হবে। একদা তার বাবা-মা পবিত্র হজ্জ আদায়ের লক্ষ্যে মক্কা সফর করে। আর বাড়িতে কেবল সে ও তার ছোটভাইই ছিলো। এটাই তার জীবনের সেই কাঙ্খিত সুযোগ এতোদিন যাবৎ যার অপেক্ষায় সে ছিলো।

যে ছেলের সাথে তার বাগদান সম্পন্ন হয় সে একদিন তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। একটু পরেই সে প্রস্থান করতে চাইলে সে তাকে তাদের সাথে ডিনার করতে জোরাজুরি করে। ছেলেটি ছিলো খুবই ধার্মিক। সে অনুভব করলো এই মেয়ের সাথে এখানে থাকাটা ফেৎনামুক্ত না। কারণ, এখনো তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়নি‌। সে জানে কোনো নারী-পুরুষ কোথাও একত্রিত হলে সেখানে তৃতীয়জন থাকে শয়তান। মেয়েটি বাহ্যিকভাবে পুতঃপবিত্রার ভান ধরলেও তার হৃদয়ে ছিলো তার সাথে সরাসরি যৌনাচারে লিপ্ত হওয়ার এক সুপ্ত বাসনা। যার মাধ্যমে সে তাকে অবাধ যৌনাচারে বাঁধা প্রদানকারী সতিপর্দাকে উপড়ে ফেলবে। তাদের ডিনার শেষ হলে তার ছোটভাই ঘুমিয়ে পড়ে। তার হবু বরও চলে যেতে উঠে দাঁড়ালো। কিন্তু সে তাকে এই বলে আরো কিছুক্ষণ থাকতে জোর করলো যে, আমরা আমাদের আগামী নিয়ে আলোচনা করবো এমন এক শান্ত-সুখের নীড় বানাতে যাতে আমাদের সারাজীবন আনন্দে কেটে যাবে। মেয়েটি রান্না ঘরে গিয়ে তার হবু বরের জন্য মজাদার পানীয় তৈরি করে ফিরতে কিছুটা দেরি করলো‌। অতঃপর এক আকর্ষণীয় সাজে ফিরে আসলো। সে এমন এক পোষাক পরিধান করলো যাতে তার শরীরের অধিকাংশই খোলা। এসেই হবু বরকে তার নিজের হাতে তৈরি শরবত পরিবেশন করে তার গা ঘেঁষে বসে পড়ে। যাতে সে তার উত্তেজক পারফিউমের ঘ্রাণে পাগলপারা হয়ে যায়। এভাবে তাদের প্রতিবন্ধকতাগুলো একে একে দূর হয় এবং শয়তানও অতিদ্রুত কাছে ভিড়তে শুরু করে। আর একইসাথে তাদের ফিসফিস প্রেমালাপ কামুক স্পর্শ ও হটেস্ট কিসিংয়ে রূপ নিলো। যখনই সে তাকে তার কাছে টেনে নিতে ইচ্ছা পোষণ করলো এতেই সে বুকে এক ধরনের চাপা লোলুপ ভার অনুভব করলো। এবং নিজেকে খাটে ফেলে ছড়িয়ে দিলো আর ছেলেটির কাছ থেকে কামনা করলো সে যেনো তার উরু আবিস্কার করে। এতেই ছেলেটি মনে করে মেয়েটি হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়েছে। যখন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে কোলে তুলে নিতে চাইলো তখনই সে তাকে বাঁধা দিয়ে তার বুকে টেনে নিয়ে বলে উঠে—তুমিই আমার ডাক্তার। সকাল ফুটতে ফুটতে সে তার সেই বাঁধাকে অতিক্রম করে যা তাকে স্বাদের কাপে পূর্ণ চুমুক দিতে বারণ করতো। আর এভাবেই তার জন্য অবাধ যৌনাচারের বিস্তৃত পথ উন্মুক্ত হয়ে গেলো।

এসব বলতে বলতে আমি তার দু’গালজুড়ে অশ্রুধারা বয়ে যেতে লক্ষ্য করলাম। সে আমাকে সেই দুর্ভাগ্যময় দিনের বর্ণনা দিচ্ছিলো যেদিন সে তার অতি মূল্যবান জিনিসটি হারিয়েছে যার মালিক হয় একজন মহীয়সী নারী। এবং যেদিন তার জন্য পাপাচারের দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়। তার বয়ান মতে সেটি ছিলো তার জন্য অতি তিমিরকালো দিন। সেদিন থেকে সে তার বিভিন্ন বন্ধুদের সাথে সেক্স করতো এবং একটা করে পিল খেতো। তার বাবা-মায়ের অনুপস্থিতর দিনগুলোই মূলত তাকে যাচ্ছেতাই করার অপরচুনেটি এনে দিয়েছিলো। তার হবু বর ঐদিনের পর থেকে আর তার কাছে যাওয়া অফ রেখেছিল যাতে এমন ভুল আর সংগঠিত না হয়। এদিকে সে ওয়েস্টার্ন মেয়েদের মতো একেকদিন তার একেক বন্ধুর সাথে সেক্স করে বেড়াতো। মদ্যপান করতো। এবং নানান মাস্তি করে চলতো। একদিন সে পিল খেতে ভুলে গেলো এবং এটাকে তেমন একটা গুরুত্বও দিলো না। মনে মনে ভাবলো একটা পিল না খেলেই কী? এতে ত আর প্রেগন্যান্ট হবো না। আর এতেই সে লক্ষ্যে করে তার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গেছে। আমি যখন তার গর্ভ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেছিলাম তখন সে কনফিডেন্টলি বললো সে গাভিন হয়ে গেছে। যখন সে তিনমাসের গর্ভবতী তখন পেটে বাচ্চার আকৃতি তৈরি হবার আগে এক ডাক্তারের কাছে গিয়ে গর্ভপাত করাতে চাইলো। যে ডাক্তারের কাছে সে গর্ভপাত করাতে গিয়েছিলো সে সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতি প্রয়োগ করার ফলে তার জরায়ু ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আর এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এই অবস্থায় তাকে আমাদের হসপিটালে নিয়ে আসা হয়। তার অবস্থা ছিলো খুবই নাজুক। যোনিপথে প্রচন্ড রক্তক্ষরণের ফলে তার ব্লাড প্রেসার লো হয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে সে বেহুঁশ হয়ে পড়ে। পরে তার সাথে কথা বলে একমত হলাম যে আমরা তার জরায়ু কেটে ফেলবো—যেহেতু এটা ছাড়া সুস্থ হওয়ার বিকল্প কোনো উপায় নেই‌। অপারেশন থিয়েটারে তার পেট কাটার পর দেখতে পেলাম তার জরায়ু এমনভাবে নষ্ট হয়েছে যাকে আর সুস্থ করার কোনো উপায় নেই। এখন সুস্থতার একমাত্র পথ জরায়ু সমূলে কেটে ফেলা। কোনো তরুণীর জীবনের উন্মেষকালে জরায়ু কেটে ফেলাটা বিরাট বিপর্যয় হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ জরায়ু কেটে ফেলার মধ্য দিয়ে সে সারাজীবনের জন্য মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়। এটা এমন এক স্বাদ যার মূল্য কেবল সেসব নারীরা জানে যারা এই স্বাদ গ্রহণ করা থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত হয়েছে। পরিশেষে মেয়েটিকে এক চরম মূল্য দিতে হলো!

সে হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছিলো এমতাবস্থায় তার হবু স্বামী তার জন্য একটা ফুলের তোড়া নিয়ে আসে এবং তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করে। সে এখনো জানে না আসলে তার হবু স্ত্রীর সাথে কী ঘটেছে। সে মনে করেছে জরায়ুটা তার কোনো সাধারণ রোগের কারণে কাটা হয়েছে। সে যখন চলে যেতে চাইলো তখন মেয়েটি তাকে এংগেজমেন্টের আংটিটি খুলে হাতে দিয়ে বললো, সে আর কখনো বিয়ে করবে না।

এরপরের দিন আমি ল্যাবে বসেছিলাম। তখন এক যুবতী কোলে একটা বাচ্চা নিয়ে প্রবেশ করে বলে, সে আমি যাকে অপারেশন করেছি তার বান্ধবী। তার সুস্থতা নিয়ে জানতে চাইলো এবং আমার কাছে তার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলে আমি অনুমতি দিই। রুমটি ল্যাবের পাশেই ছিলো। একটু পরেই মেয়েটির রুম থেকে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসে। আমি ধারনা করলাম তার অসুস্থতা হয়তো বেড়েছে। তাছাড়া তার মাও তার সাথে সেই রুমে ছিলো এবং অনবরত কান্না করছিলো‌। আমি যখন কান্নার আওয়াজ শুনে ভেতরে ঢুকলাম মেয়েটিকে কাদতে দেখলাম। একটু পর তার বান্ধবীর বাচ্চাটিকে তার কাছে ধরলো। তখন বাচ্চাটি তার চুলে ও বুকে হাত দিচ্ছিলো। যখনই সে বাচ্চাটিকে তার বুকে টেনে নিলো তখন বাচ্চাটি মনে করলো মেয়েটি তাকে দুধ পান করাবে। তখন তার হৃদয়ে মাতৃত্বের উচ্ছল করুণ অনুভূতি জোস মেরে উঠলো! সে যে কখনো বাচ্চা কোলে দুধ পান করাতে পারবে না সেই বিষয়টি পূণরায় অনুভব হলো তার। এভাবে বাচ্চাটি তার বুকে ঘুমিয়ে গেলে, তার পুরো শরীর এক অন্যরকম অনুভুতিতে নেচে উঠলো। সে নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে তীব্র কান্নায় ভেঙে পড়লো!

এই গল্পটি ড. সাবাহ ইসমাইল আস-সামরায়ী’র রচিত “আসরারুল মুস্তাশফা” (Secrets of the Hospital) গ্রন্থের একটি গল্প থেকে অনূদিত।


Picture of তারেক আব্দুল্লাহ

তারেক আব্দুল্লাহ

শিক্ষার্থী, জামেয়া দারুল মা'রিফ আল-ইসলামিয়া।

শেয়ার করুন

পড়তে পারেন

“আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা আমাদের বাচ্চাদেরকে নানাভাবে আদর করেন। কিন্তুক, সবগুলাই যে ভাল, তা মোটেও নয়।”

আবু তাহের তারেক

বাংলাদেশে নিখোঁজ হওয়া ঠেকানোর বা দ্রুত সন্ধান পাওয়ার ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত।

The Publish

নেপালের একটি পাহাড়ের ধস, বাংলাদেশের একটি নদীভাঙা গ্রামের গল্পের সঙ্গে কীভাবে জড়িয়ে যায়, সেই সুতোটাই টানবো আজ।

দ্য পাবলিশ সম্পাদকীয়

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের প্রকাশিত নথি বদলে দিয়েছিল যুদ্ধ আর কূটনীতি নিয়ে জনগণের বোঝাপড়া।

The Publish Newsroom

Scroll to Top