কী হবে, যদি পাঠ্যবইয়ে ’৭১-এর নায়ক হন নিজামী?

আওয়ামী লীগ আমলে একমাত্র নায়ক মুজিব। বিএনপি কি পারবে জিয়াকে সেই আসনে বসাইতে?

● Kazi Sayeed Mahmud

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

কী হবে, যদি পাঠ্যবইয়ে ’৭১-এর নায়ক হন নিজামী? The Publish

ইলাস্ট্রেশন : দ্য পাবলিশ


জামায়াত খুবই বর্তমানপছন্দ দল, তাঁরা অতীতে ফিরতেই চায় না। তাঁরা ’৭১ এর কোনো ক্রেডিট চায় না, কথা বলতেও পছন্দ বোধ করে না, অন্যান্য দলের মতো। কিন্তু ধরেন ভবিষ্যতের কোন এককালে, তাঁরা চাইল, কী হবে তবে? 

ওয়েল, মূল ঘটনায় আসা যাক।

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে যুক্ত হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা প্রবন্ধ স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি, তার সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ডায়েরির ছবিও। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী উদ্দেশ্য হলো জিয়ার অবদানকে “নিরপেক্ষ” ও “নির্মোহভাবে” পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরা। আওয়ামী লীগের আমলে মুজিব ছিলেন একমাত্র নায়ক, এখন সেই তালিকায় জিয়া ফিরছেন। অবশ্য, বর্তমান সরকার শেখ মুজিবকে ইতিহাস থেকে এখনো ফেলে দেননি। তৃতীয় শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে ২০২৫ সাল থেকে ‘আমাদের চার নেতা’ নামক একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। এই অধ্যায়ে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পাশাপাশি শেখ মুজিবুর রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবনী ও রাজনৈতিক অবদান ছবিসহ আলোচনা করা হয়েছে।

তো ধরা যায়, আগামী বছর, মানে ২০২৭ সালে নবম-দশমের কোন এক ক্লাসে শিক্ষক নতুন বই খুলে যখন শিক্ষার্থীদের ৭১-এর ইতিহাস নিয়ে পড়াবেন, তার শুরুটা কিছুটা এমন হতে পারে।
স্যার বলবেন, বাবারা, আজ থেকে একাত্তরের আসল ইতিহাস পড়ব। পেছনের বেঞ্চ থেকে একজন হাত তোলে বলবে, স্যার, গতবার যেটা পড়েছিলাম? শ্রদ্ধেয় শিক্ষক একটু থেমে হয়তো বলবেন, ওটা ছিল আগের সরকারের ইতিহাস।

মুক্তিযুদ্ধ একটাই হয়েছিল, নয় মাস ধরে। কিন্তু তার নায়ক তালিকা হালনাগাদ হয় প্রতি সরকারের সঙ্গে, যেন ইতিহাসও একটা সফটওয়্যার, নতুন ভার্সন আসে নতুন প্রশাসনের সঙ্গে। কিন্তু ঘটনাটা যদি এখানেই শেষ না হয়!

ধরেন, কোনো এক ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে সরকার গঠন করল। এটা ভবিষ্যদ্বাণী না, একটা কাল্পনিক চিত্রমাত্র, বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে সেটা স্পষ্ট হয়। গত নির্বাচনে, অর্থাৎ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে, জামায়াত পেয়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন সংখ্যা, প্রধান বিরোধী দলের আসনে। এই কল্পনাটা তাই আপাতত কল্পনাই। কিন্তু কল্পনা মানে অসম্ভব না। আর কল্পনার সুবিধা হলো, সেখানে প্রশ্ন করা যায় যা বাস্তবে জিজ্ঞেস করতে দ্বিধা হয়। জামায়াত যদি কোনোদিন পাঠ্যবইয়ের কলম হাতে পায়, তাহলে তাদের সবচেয়ে বড় সম্পাদকীয় চ্যালেঞ্জ হবে ১৯৭১, কারণ সেই বছরের ইতিহাসে দলটির অবস্থান বিব্রতকর মাত্রায় স্পষ্ট।

সেই ইতিহাসটা একটু মনে করিয়ে দেওয়া যাক, কারণ ভুলে যাওয়াই তো সবচেয়ে সহজ রাজনৈতিক কৌশল। ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, স্বাধীনতাকে ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে চিহ্নিত করেছিল, এবং পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গণহত্যা-অভিযানকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়েছিল। শান্তি কমিটি, আলবদর ও আলশামসের মতো সহযোগী বাহিনী গঠনে যুক্ত ছিল, যেসব বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের চিহ্নিত করে হত্যা ও নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। এটা কোনো বিতর্কিত দাবি না, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নথিভুক্ত রায়।

রায়গুলো পড়লে বোঝা যায় ফুটনোটের ভাষায় এই ইতিহাসকে কতটা ছোট করে দেখানো অসম্ভব। মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে যে ষোলোটি অভিযোগ দাখিল হয়েছিল, তার একটিতে বলা হয় ১৯৭১ সালের অগাস্টে চট্টগ্রামের এক জনসভায় তিনি ছাত্র সংঘের সভাপতি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থকদের নির্মূল করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তিনটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

কিন্তু, যেহেতু এই ট্রায়াল আওয়ামিলীগ সরকারের সময়ে ঘটেছিল তাই বলা যায়, এখানে তাদের কাহিনী বলার পক্ষপাতিত্বও থাকতে পারে। গোলাম আজমের মামলায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বক্তব্য ছিল,
“(নিউ ইয়র্ক) – হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আজকে জানিয়েছে যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রাক্তন আমির গোলাম আজমের বিচার তীব্র পক্ষপাতদুষ্ট ছিল এবং তা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার সংক্রান্ত মান বজায় রাখতে পারেনি।”

ঘটনার এই দিকটাও ফেলে দেয়া যায় না। এই পর্যবেক্ষণকে ভবিষ্যতের কোনো পাঠ্যবই কীভাবে এক লাইনের ফুটনোটে গুটিয়ে ফেলবে, সেটা কল্পনা করাই কঠিন, যদিও রাজনীতি সবসময় কল্পনার চেয়ে সৃজনশীল প্রমাণিত হয়।

আর ঠিক এখানেই তৈরি হয় আসল জটিলতা, কারণ জামায়াতের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ইতিহাসেই একটা অস্বস্তিকর সত্য লুকিয়ে আছে। দলটির সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের সদ্য প্রকাশিত স্মৃতিকথায় উঠে এসেছে, দুই দশকে অন্তত ছয়বার দলের ভেতরে একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তাব ও খসড়া তৈরি হয়েছিল, কিন্তু প্রতিবারই তা দলের প্রভাবশালী অংশের হাতে থেমে গেছে। ২০০১ সালে দুই শীর্ষ নেতা মন্ত্রী হওয়ার পর বিজয় দিবসের আগে এমন একটি বক্তব্যের খসড়া তৈরি হয়েছিল, সেটিও আলোর মুখ দেখেনি। 

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক তাঁর বইয়ে লিখেন, ২০১৬ সালে নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের পর জামায়াতে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়। নতুন আমির নির্বাচিত হওয়ার পর একাত্তরের বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং একটি কমিটি করা হয়। দলের সেক্রেটারি জেনারেল তাঁকে বিবৃতির খসড়া তৈরি করতে বলেন।

কয়েকজন ঘনিষ্ঠজন ও জামায়াতের তৎকালীন বিদেশি আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানের সহায়তায় রাজ্জাক সংক্ষিপ্ত একটি খসড়া প্রস্তুত করেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার রাজনৈতিক বিরোধিতার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ছিল। পাশাপাশি জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে এবং রাষ্ট্র ও দেশের স্বার্থবিরোধী কাজে জড়ায়নি—এমন দাবি ছিল। দল বা তার নেতা-সদস্যদের যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতাও অস্বীকার করা হয়েছিল।

রাজ্জাকের ভাষায়, একাত্তরের ভূমিকা আজও জামায়াতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে রয়ে গেছে—দুই দশকে অর্ধডজনের বেশি খসড়া বিবৃতি তৈরি হলেও একটিও প্রকাশিত হয়নি। জামায়াতের রাজনীতি থেকে বিদায় নেয়ার পেছনে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। একাত্তরের ভূমিকার জন্য দলটির ক্ষমা না চাওয়া, দলটির নাম পরিবর্তন না করার বিষয়ে শীর্ষ নেতাদের অনড় অবস্থান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের সংস্কার করতে না পারাসহ বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেন তিনি। রাজ্জাক নিজে ২০২৫ সালে মারা যান, প্রশ্নের নিষ্পত্তি না দেখেই।

খোদ আইনমন্ত্রী পর্যন্ত সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, ২০১৬ সালে সেই বিবৃতি স্বাক্ষরিত হলে জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হয়ে যেত।

এই ঘটনা দ্বারা বুঝা যায়, জামায়াত ৭১ নিয়ে আলোচনা করতে পছন্দ বোধ করেন না। যে দল নিজের অন্তর্বর্তী বৈঠকে একটা ক্ষমা চাওয়ার বাক্য পাস করাতে পারেন না, দুই দশক ধরে ছয়বার চেষ্টা করেও, সেই দলের কাছ থেকে পাঠ্যবইয়ে নিজেদের নায়ক বানানোর প্রত্যাশা করা মানে কল্পনাশক্তিকে বেশ কষ্ট দেওয়া। তবু কল্পনার খাতিরে যদি সেই কষ্টটা করা হয়, তাহলে একটা নতুন পাঠ্যবইয়ের সম্পাদকীয় ভাষা কেমন দেখাতে পারে?

অধ্যায়ের শিরোনাম হতে পারে, “একাত্তর: আমরা আসলে কী বলতে চেয়েছিলাম”। শান্তি রক্ষার বদলে হয়তো লেখা থাকবে সম্প্রীতি রক্ষা পরিষদ, আলবদরকে ডাকা হবে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বাহিনী নামে, এবং নিজামীর চট্টগ্রামের সেই ভাষণ পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত হবে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান হিসাবে, যেভাবে শেখ মুজিবের ভাষণ আওয়ামী লীগ বর্ণনা করেছিল। ফুটনোটে লেখা থাকতে পারে, সে সময় স্বাধীনতার সংজ্ঞা নিয়ে জাতীয়ভাবে একধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, যার প্রভাব থেকে কোনো রাজনৈতিক দলই সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল না।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে হয়তো থাকবে, একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে ইতিহাসবিদরা কী বলেন,

ক) দূরদর্শী রাষ্ট্রনৈতিক অবস্থান, খ) ধর্মীয় ঐক্যের প্রচেষ্টা, গ) প্রশ্নটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সংবেদনশীল, ঘ) উপরের কোনোটিই নয়। আর শিক্ষক হয়তো ক্লাসে বলবেন, ইতিহাস জটিল, বাবারা, সবকিছুকে সাদাকালো ভাবতে নাই, এই বলে ঠিক সেই যুক্তিটা ব্যবহার করবেন যেটা ব্যারিস্টার রাজ্জাক নিজের দলকে বোঝাতে গিয়ে দুই দশক ব্যর্থ হয়েছিলেন।

কথাটা মিথ্যা না, ইতিহাস সত্যিই জটিল। সমস্যা হলো, জটিলতার এই যুক্তিটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রায় সবসময় ব্যবহৃত হয় নিজের অস্বস্তিকর অংশ আড়াল করার জন্য। আওয়ামী লীগ মুজিবকে একচ্ছত্র নায়ক বানিয়ে জিয়ার অবদান আড়াল করেছিল, এখন সেই সংশোধন ঘটছে। জামায়াতের কল্পিত ভবিষ্যৎ সংস্করণ যদি একই কৌশলে নিজেদের যুদ্ধাপরাধের ইতিহাসকে জাতীয় ঐক্যের গল্পে রূপান্তরিত করতে চায়, তাহলে সেটা হবে সবচেয়ে চরম রূপ, কারণ এখানে প্রশ্নটা কে বেশি কৃতিত্ব পাবে তা না, প্রশ্নটা হলো যারা বিরোধিতা করেছিল তারা কীভাবে কৃতিত্বের দাবিদার হয়ে উঠবে।

কোনো রাজনৈতিক দলই যেন মুক্তিযুদ্ধকে নিজের একচেটিয়া উত্তরাধিকার হিসেবে দাবি করতে না পারে, যেভাবে পারেনা ২৪এর আন্দোলনকে। একাত্তর কোনো দলের সম্পত্তি না, চব্বিশও কোনো দলের সম্পত্তি না। কিন্তু দল সরকারে এসে বইটা খুলে প্রথমে খুঁজে বের করে, কোথায় নিজেদের পক্ষের ইতিহাসটা আরেকটু বেশি জরুরী ভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়। তারপর নতুন করে হাতে নেয় কলম।

যাইহোক, যদি দূর ভবিষ্যতের কোন এককালে শেখ মুজিবের মৃত্যুর ঘটনা পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হয়, আর তার শিরোনাম যদি এমন হয়, “যেভাবে মরিলেন একজন বাকশাল”। তবে কারো দুঃখ হোক বা না হোক সেই ছেলেটির অবশ্যই হবে, যে ক্লাস থ্রি থেতে শেখ মুজিবকে একজন নায়ক হিসাবে দেখে আসছে, আর ক্লাস টেনে উঠতেই জানতে পারলো; এ তো তার কল্পনা মাত্র। খুবই দুঃখ হবে, খুব! 

সম্পাদকীয় নোট: মতামত সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব।


Picture of Kazi Sayeed Mahmud

Kazi Sayeed Mahmud

সাংবাদিক ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর

 
 

 

 

শেয়ার করুন

পড়তে পারেন

“আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা আমাদের বাচ্চাদেরকে নানাভাবে আদর করেন। কিন্তুক, সবগুলাই যে ভাল, তা মোটেও নয়।”

আবু তাহের তারেক

বাংলাদেশে নিখোঁজ হওয়া ঠেকানোর বা দ্রুত সন্ধান পাওয়ার ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত।

The Publish

নেপালের একটি পাহাড়ের ধস, বাংলাদেশের একটি নদীভাঙা গ্রামের গল্পের সঙ্গে কীভাবে জড়িয়ে যায়, সেই সুতোটাই টানবো আজ।

দ্য পাবলিশ সম্পাদকীয়

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের প্রকাশিত নথি বদলে দিয়েছিল যুদ্ধ আর কূটনীতি নিয়ে জনগণের বোঝাপড়া।

The Publish Newsroom

Scroll to Top