তেলাপোকার বিদ্রোহে উত্তাল ভারত

দিল্লির রাজপথে তরুণ তেলাপোকাদের বিক্ষোভে কাঁপছে মোদির মসনদ

● The Publish

জুলাই ২৫, ২০২৬


জন্তর মন্তরের ফুটপাত তখন গরম পিচের মতো তেতে আছে। ২০ জুলাই, সোমবার, দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চলেছে, তবু দিল্লির আকাশ থেকে রোদ সরছে না। হাজার হাজার তরুণ তরুণী কাঁধে ব্যাগ, হাতে প্ল্যাকার্ড আর মুখে তেলাপোকার মুখোশ পরে দাঁড়িয়ে আছে সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার রাস্তায়। কারও হাতে ছেঁড়া নোটবই, কারও গলায় জাতীয় পতাকা জড়ানো। একজন তরুণী রাস্তার মাঝে বসে গোলাপ ফুল বিলি করছেন পুলিশের দিকে, যেন এই দৃশ্যটাই আজকের প্রতিবাদের ভাষা, সহিংসতা নয়, বরং একধরনের নীরব অভিমান।

তারপর হঠাৎ বদলে যায় দৃশ্যপট। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করতেই পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোঁড়ে, লাঠিচার্জ শুরু হয়। প্রায় দেড়শো জন আহত হন, বহু মানুষকে আটক করা হয়। এই এক দিনের সংঘর্ষ দিল্লির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজপথ সমাবেশগুলোর একটি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। 

ব্যারিকেডের ওপর দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া তরুণদের ওপর কাঁদানে গ্যাস আর লাঠির আঘাত নেমে আসার দৃশ্য বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের প্রথম পাতায় জায়গা করে নেয়।

স্লোগানগুলো ছিল অদ্ভুত মিশ্র, একদিকে বিপ্লবী কবিতার লাইন, অন্যদিকে ইন্টারনেট মিমের ভাষা। “তেলাপোকা জিন্দাবাদ”, এই স্লোগান পরদিন জন্তর মন্তরের সমাবেশেও শোনা গিয়েছিল বলে জানিয়েছে ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, শিক্ষা বাঁচাও, ভবিষ্যৎ বাঁচাও। দূর থেকে খাবার ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে ভাত আর মুরগির প্লেট পাঠাচ্ছিলেন সমর্থকরা, যারা নিজেরা রাস্তায় নামতে পারেননি।

এই আন্দোলন নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে গত এক দশকের অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন প্রশ্ন, একটি ব্যঙ্গাত্মক সোশ্যাল মিডিয়া রসিকতা কীভাবে মাত্র দুই মাসে ভারতের রাজধানীর রাজপথ কাঁপিয়ে দেওয়া গণআন্দোলনে রূপ নিল? ভারত এই জায়গায় পৌঁছাল কীভাবে?

ভারতের নয়াদিল্লিতে ২২ জুলাই, ২০২৬, বুধবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে আয়োজিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে পোস্টার বহনকারী বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন। (এপি ছবি/বিপিন)

নামের আড়ালে অপমান

ঘটনার সূত্রপাত হয় আদালতকক্ষে, রাস্তায় নয়। ১৫ মে, ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের একটি শুনানিতে, যেখানে ভুয়া ডিগ্রি ও পেশাগত সততা সংক্রান্ত একটি মামলার বিচার চলছিল, তখনকার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন যে কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো, যারা চাকরি পায় না, পেশায় জায়গা পায় না, আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাংবাদিক, সোশ্যাল মিডিয়া কর্মী কিংবা তথ্য অধিকার আন্দোলনকারী হয়ে সবাইকে আক্রমণ করতে শুরু করে। এই মন্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত বেকার তরুণদের প্রতি অবমাননা হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। বিচারপতি কান্ত পরে স্পষ্ট করেন যে তার মন্তব্য শুধু জাল ডিগ্রিধারীদের নিয়ে ছিল, তরুণ প্রজন্ম নিয়ে নয়, এবং তরুণদের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু ততক্ষণে বাক্যটি নিজের জীবন পেয়ে গেছে।

পরদিনই, ১৬ মে, বস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে সদ্য স্নাতক, রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দীপকে, যিনি আগে আম আদমি পার্টির হয়ে কাজ করেছিলেন, এক্স-এ প্রশ্ন তোলেন, সব তেলাপোকা যদি একজোট হয় তাহলে কী হবে। তিনি তখন শিকাগোয় ছিলেন। রসিকতাটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়, আর দীপকে দ্রুত একটি ওয়েবসাইট আর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলেন, নাম দেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ’ যা একদিকে বিচারপতির মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’র নামের সঙ্গে একটি ইচ্ছাকৃত ধ্বনিসাদৃশ্য। যোগদানের শর্ত হিসেবে রসিকতা করে বলা হয়, বেকার হতে হবে, অলস হতে হবে, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকতে হবে, আর পেশাদারভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করতে জানতে হবে।

এই আত্ম-উপহাসের রাজনীতি, নিজেকে গালি হিসেবে দেওয়া নামেই পরিচয় দেওয়ার এই কৌশল, ইন্টারনেট মিম সংস্কৃতির চেনা পথ। ক্ষমতার ভাষায় অপমানিত হওয়া একটি শব্দকে বেছে নিয়ে সেটাকেই পরিচয়ের ব্যাজ বানিয়ে ফেলা, বিশ্লেষকদের মতে এই কৌশলই আন্দোলনটিকে দ্রুত তরুণদের মধ্যে সংহতির প্রতীক করে তোলে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুই কোটিরও বেশি মানুষ দীপকের অ্যাকাউন্টগুলো ফলো করতে শুরু করেন, সংখ্যাটা দীপকে নিজেও প্রত্যাশা করেননি বলে জানিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন। সিএনবিসি জানিয়েছে, অনুসরণকারীর সংখ্যা বাইশ কোটির বেশিতে পৌঁছেছিল, যদিও ২২ জুলাই বুধবার সরকারের নির্দেশে ভারতে এক্স-এ সিজেপির অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার জন্য দীপকে সরাসরি মোদীকে দায়ী করেছেন।

ভারতের মুম্বাইতে বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র চলমান সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন। (এপি ছবি/রফিক মকবুল)

নিট পরীক্ষা

সিজেপির প্রাথমিক দাবি ছিল মাত্র একটি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। কিন্তু এই দাবির শিকড় অনেক গভীরে, ভারতের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সংকটে।

নিট-ইউজি, অর্থাৎ চিকিৎসাশাস্ত্রে ভর্তির জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা, প্রতি বছর প্রায় বিশ লক্ষ শিক্ষার্থী দেয়। ২০২৬ সালে ৩ ও ৭ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা দুটি প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাতিল করে জাতীয় টেস্টিং এজেন্সি, এরপর ২১ জুন পুনঃপরীক্ষা নেওয়া হয় এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই তদন্তে নামে। শিক্ষামন্ত্রী প্রধান নিজেই ১৫ মে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বীকার করেন যে অনুমান-প্রশ্নপত্রের ছদ্মবেশে আসল প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফাঁস প্রায় বিশ লক্ষ শিক্ষার্থীকে প্রভাবিত করেছিল এবং একাধিক আত্মহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এটি প্রথম নয়। ২০২৪ সালেও একই ধরনের নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি সংসদ কাঁপিয়ে দিয়েছিল, তখন প্রধান দাবি করেছিলেন যে সমস্যাটি শুধু ভারতের পাটনার একটি কেন্দ্রে হয়েছে এবং গত সাত বছরে কোনো প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ নেই। সেই দাবিকে ঘিরেও তীব্র বিতর্ক হয়েছিল, বিরোধী দল কংগ্রেস তখনো প্রধানের পদত্যাগ চেয়েছিল। ফলে ২০২৬ সালের প্রতিবাদকারীদের অনেকের কাছে এবারের ঘটনা নতুন কোনো বিচ্যুতি নয়, বরং একটি পুনরাবৃত্ত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সর্বশেষ অধ্যায়।

কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশ্নফাঁস আসলে একটি অনুঘটক মাত্র, মূল সংকট আরও গভীরে। আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট অব ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া ২০২৬ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রতি দশজন তরুণ স্নাতকের প্রায় চারজনই বেকার, আর স্নাতক শেষ করার এক বছরের মধ্যে স্থায়ী বেতনভুক্ত চাকরি পান তাদের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।

এনপিআরের প্রতিবেদনে গবেষক অ্যাব্রাহামের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পঁচিশ বছরের কম বয়সী স্নাতকদের প্রায় চল্লিশ শতাংশ বেকার, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ হারগুলোর একটি।

বিশ্বব্যাংকের উপাত্ত অনুযায়ী পনেরো থেকে চব্বিশ বছর বয়সীদের মধ্যে সামগ্রিক বেকারত্বের হার ২০২৫ সালে ছিল ষোলো শতাংশের কিছু বেশি। এই দুটি উপাত্তের ব্যবধান বলে দেয়, শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব সাধারণ জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র।

গবেষক ক্রেইগ জেফরির দীর্ঘদিনের কাজ দেখায়, শিক্ষিত ভারতীয় তরুণরা প্রায়ই সরকারি চাকরির জন্য বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিতে থাকেন, অথচ পরিসংখ্যানগতভাবে তাদের অধিকাংশই কখনো সেই চাকরি পান না।

এই দীর্ঘ অপেক্ষা, কোচিং সেন্টারের ব্যয়বহুল চাপ, আর বারবার পরীক্ষা বাতিলের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক জমাট ক্ষোভ, যা নিট কেলেঙ্কারিতে কেবল একটি উপলক্ষ খুঁজে পেয়েছে। তাই প্রতিবাদকারীদের দাবির তালিকায় শুধু প্রধানের পদত্যাগ নেই, আছে এনটিএ বিলুপ্তির দাবি, প্রস্তাবিত বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল ২০২৫ প্রত্যাহারের দাবি, এবং প্রশ্নফাঁসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিও।

ভারতের মুম্বাইতে বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র চলমান সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন। (এপি ছবি/রফিক মকবুল)

আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মুখ

অভিজিৎ দীপকে। ত্রিশ বছর বয়সী প্রতিষ্ঠাতা, রাজনৈতিক যোগাযোগে স্নাতকোত্তর, যিনি একটি রসিকতা থেকে শুরু করা আন্দোলনের নেতৃত্বে নিজেকে হঠাৎ আবিষ্কার করেন। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে বসে আন্দোলন পরিচালনা করলেও পরে তিনি দিল্লিতে ফিরে সরাসরি নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। আল-জাজিরাকে তিনি বলেছেন, ক্ষমতাসীনরা মনে করে নাগরিকরা তেলাপোকা আর পরজীবী।

সৌরভ দাস আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে যুক্ত হয়েছেন এক সাংবাদিক হিসেবে, যিনি পরে সিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বরে পরিণত হন। আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত বিচার আদালতের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, দেশে বহু সমস্যার জন্য দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো প্রকৃতপক্ষে কতটা সমাধান দিয়েছে তা সবাই জানে।

সোনম ওয়াংচুক, লাদাখের পরিবেশ ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী, যিনি এর আগে লাদাখের রাজ্যমর্যাদা ও সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলভুক্তির দাবিতে একাধিকবার আটক হয়েছেন, এবার ছাত্রদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অনশনে বসেন। জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তিনি কেবল লবণ পানির ওপর টিকে ছিলেন। তার সম্পৃক্ততা আন্দোলনকে নতুন নৈতিক ওজন দেয়, কারণ ওয়াংচুক ভারতীয় জনমানসে দীর্ঘদিন ধরে অহিংস প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

রাহুল গান্ধী, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়ে আটক হন এবং ছাত্রদের ওপর পুলিশি সহিংসতার জবাবদিহি দাবি করেন। কংগ্রেসসহ একাধিক বিরোধী দল আন্দোলনকে সমর্থন জানালেও, বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দেন যে সিজেপি নিজেকে সচেতনভাবে দলনিরপেক্ষ পরিচয় হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে, যাতে এটি কোনো একক বিরোধী দলের প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত না হয়।

নরেন্দ্র মোদী, যিনি প্রায় দুই মাস নীরব থাকার পর ২৩ জুলাই প্রথম সরাসরি মন্তব্য করেন, প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের কঠোর শাস্তি ও দ্রুত বিচার আদালত গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন, বলেন তরুণদের কল্যাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই। তার এই প্রতিশ্রুতি ২০২৪ সালে দেওয়া প্রায় অভিন্ন প্রতিশ্রুতিরই প্রতিধ্বনি, যখন তিনি সংসদে বলেছিলেন প্রশ্নফাঁসকারীদের কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।

ধর্মেন্দ্র প্রধান, শিক্ষামন্ত্রী, আন্দোলনের কেন্দ্রীয় লক্ষ্যবস্তু। তিনি নিজের অবস্থান রক্ষা করে বলেছেন, রক্ষকই যেন ভক্ষক হয়ে উঠেছে, পরীক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিশ্বস্ত শিক্ষকদের একাংশের প্রতারণার প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেন তিনি। ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি নীতিন নভি প্রতিবাদকারীদের সমালোচনা করে বলেছেন, এরা দেশকে ফাঁপা করে দিতে চায় এমন মানুষ। 

ভারতের আহমেদাবাদে বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভের সময় পুলিশ এক বিক্ষোভকারীকে আটক করে। (এপি ছবি/অজিত সোলাঙ্কি)

ভারত কী বলে

এই আন্দোলনকে নিয়ে ব্যাখ্যাও বিভক্ত। সরকারপন্থী মহল একে বহিরাগত উস্কানিতে সংগঠিত বিশৃঙ্খলা হিসেবে দেখাতে চায়। দীপকে নিজেই আল-জাজিরাকে বলেছেন, বাইরে থেকে লোক পাঠিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বিক্ষোভে উসকানি দেওয়া হচ্ছে, প্রতিবাদকে বদনাম করার জন্য।

সমালোচকরা বলছেন, মোদীর বারো বছরের শাসনামলে নাগরিক সমাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কারাবন্দি করার প্রবণতা দেখা গেছে।

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে জন্তর মন্তরের তাঁবুগুলো এখনো গোটানো হয়নি। প্রতিদিন সন্ধ্যায় নতুন করে জড়ো হচ্ছেন মানুষ, কেউ গান গাইছেন বিপ্লবী কবিদের পঙক্তি, কেউ চিৎকার করছেন তেলাপোকা জিন্দাবাদ। এক বিচারপতির একটি বাক্য থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন আর কোনো একটি পরীক্ষা বা কোনো একজন মন্ত্রীর প্রশ্ন নয়, বরং প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ভারতের ক্রমবর্ধমান কর্মহীন প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্র আদৌ কোনো উত্তর রাখে কি না। সেই উত্তর এখনো লেখা হয়নি।


Picture of The Publish

The Publish

An independent platform for research, stories, articles, and free thought.
শেয়ার করুন

পড়তে পারেন

“আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা আমাদের বাচ্চাদেরকে নানাভাবে আদর করেন। কিন্তুক, সবগুলাই যে ভাল, তা মোটেও নয়।”

আবু তাহের তারেক

বাংলাদেশে নিখোঁজ হওয়া ঠেকানোর বা দ্রুত সন্ধান পাওয়ার ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত।

The Publish

নেপালের একটি পাহাড়ের ধস, বাংলাদেশের একটি নদীভাঙা গ্রামের গল্পের সঙ্গে কীভাবে জড়িয়ে যায়, সেই সুতোটাই টানবো আজ।

দ্য পাবলিশ সম্পাদকীয়

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের প্রকাশিত নথি বদলে দিয়েছিল যুদ্ধ আর কূটনীতি নিয়ে জনগণের বোঝাপড়া।

The Publish Newsroom

Scroll to Top