কমনীয় জিনিস গুলো অনেক মৌলিক কিন্তু প্লেটোর কথায় আমি ঘাড় বাঁকিয়ে দেখেছিলাম ঐসব আসলের ছায়া
ছায়ার পিছে মন পড়ে থাকে
বাসকপাতার বনের ভেতর দিয়ে তুমি চলে যেতে তোমার দেহ নিয়ে
আমি তার ছায়া নিয়ে পড়ে থাকতাম
জগত কত অধরা!
শবেবরাতের রাত্রে দলবেঁধে অছি মিয়া মসজিদ ঘিরে ফেলতাম
কী আনন্দের ধর্মের বরাত হুজুর কত পারত্রিক সুরে আমাদের একটু একটু পাপের ক্ষয় মোচন করে বেহেশতের দিকে নিয়ে যেতেন
কিশোর কিছু দুরাচার শয়তান থাকে পাড়ায় হালিশহরের গলিতে ও মোড়ে তারা এসে তোমার কমনীয়তার কথা পাড়ে
বেয়াদব চোখ হুজুরের মর্তবা ছেড়ে শেফালি ঘোষের কণ্ঠে চড়ে বসে
দিব্যি ছায়ার পিছে পিছে সেই লোভাতুর শহর নগর জনপদে ঘাপটি মেরে থাকা মানুষের কমনীয় রিরংসার হাওয়ায় যেয়ে
এ জীবন বেহেশতের বাইরে ছিটকে গিয়ে পড়ে
(৩০/০৪/২০২৩)
স্মৃতিচারণা যেদিন তোমার জীবন সারাৎসার হবে
আমি তোমার আস্তানা ছেড়ে চলে যাব
জগত বহমান জলধি
তোমার স্থির পঙ্কে যেসব পুষ্প এখন ফুটে আছে
সেসব মৃত
এই পঙ্কের মোহে আমার বহ্নিকে তুমি ডুবিয়ে নিও না
(৩০/০৪/২০২৩)
মৃত্যু এক অপরিজ্ঞাত কৌতুক হয়ে হাজির থেকে
আমাদের গরীব জীবন মহিমান্বিত করে দিয়েছে
ঐখানে সমতল মহান পরকাল ধর্ম কেবল, আর কেউ অপরিমিত ভাষা বলে না
এই এক মহিমান্বিত কৌতুক সমস্ত ভাষা কারু চারু
লেবাসহীন শুষ্ক অজ্ঞতার সারল্য
আমরা গরীবের দল ঝাঁকে ঝাঁকে মৃত্যুর কথা বলি
মৃত্যু আমাদের অপার অতল অতিময় ভাষার নীরবে অধিষ্ঠি এনে দেয়
হে অভিজ্ঞতাবাদী চর কোথায় তোমার জগতত্রাস ফিসফাস দুরভিসন্ধি,কেন মৃত্যুর কাছে মরা সভ্যতার বিমুখ পশ্চাদ্গম বিকৃতি হয়ে পড়ে থাক
আমরা মৃত্যুর পরে কথা বলব হে অভিজ্ঞ মাগবাজ ভাষার সন্ত্রাস
(০১/০৫/২০২৩)
প্রতিটি সহজ অথবা গূঢ়ার্থ সংকেত শরাবিরুদ্ধ
তুমি নিজে একটা সংকেত
আজীবন চোখের সামনে গূঢ় হয়ে আছ
আবার তুমিই প্রেমে প্রকৃতিতে সংসারের আনাচকানাচে মাধুরি মিশানো হরফে আমার নাম লিখে রেখেছ
জগতে আমার তেমন অধিষ্ঠা নেই, সেই দীনতা তোমার কাছে নিরুপম মনে হয়েছে দিন দিন
আমার জন্য করুণা জমিয়ে তুলে সুগভীর সরোবর হয়ে আজ নিজের সম্ভ্রমের হদ্ হারিয়ে ফেলেছ
(১১/০৫/২০২৩)
ক্ষুদ্র শয়তান দৈহি রোমাঞ্চকর হয়ে চলে গেছে
বৃহৎ শয়তান মনে ও কর্ণে সংগীতে রয়ে গেছে
(২৬/০৫/২০২৩)
তোমার রূপ স্থায়ী যেখানে অধিষ্ঠা হয়ে আছে
ততোদূর ধৈর্য আমার চোখ রক্ষা করেনি
মানুষের পাড়ায় পাড়ায় আমার মৃত্যু হয়েছে
প্রেমের অপমৃত্যুর সুর মানুষ লোকগান বানিয়ে গায়
(০৫/০৬/২০২৩)
যখন বাতাসে অবরোধ শুয়ে থাকে নিঃশ্বাসের আগে
শিশুদের হাতে থাকে না খাবার
এতিম মেয়েটি বলে আমার ঈদ নিঃস্ব আমার পিতাকে আসাদের লোকেরা মেরে ফেলেছে আলেপ্পোর রাস্তায়
তখন!
যখন ভূমধ্যসাগর বয়ে আনে চারবছর বয়সী শিশুর সলিল সমাধি
আদিঅন্তহীন মরুর অব্যাখ্যেয় অনিশ্চয়তায়
পেশাদার ফটোশিকারীর স্নেহহীন ফোকাস উপেক্ষা করে গূঢ় কোনো আশা নিয়ে একাকী হেঁটে চলে সম্পূর্ণ পরিবার হারানো এক পঞ্চবর্ষী শিশু
তখন!
যখন ইয়েমেন দেশের ঝাঁঝালো বারুদের ফাঁকে
নিথর লাশেদের পাশে ক্ষুধায় অবস হতে থাকা চার বছরের ছেলেটি একটা রুটির আভাস পেয়ে হাত তালি দেয় এত এত দ্রুত আর খুশীতে বিহ্বল হয়ে খাবে কিনা দ্বিধাগ্রস্ত হয়
তখন!
আমি সেই মুজাদ্দিদ শিশুটির পিছে পিছে হাঁটি
আল্লাহকে সব বলে দেবার জন্য চলে গেছে সে
(০২/০৭/২০২৩)
তুমি অনেক সাংকেতিক কালে একটা দূরত্বের কথা
নীহারিকা ছায়ালোক বাসকপাতার কথা বলতে বলতে
আমাদের চরণতলে হালিশহর মেলে ধরতে
আমরা জগতের ক্লেশ দূরস্মৃত হয়ে এক কোমল স্নিগ্ধার দেশে চলে চলে যেতাম
হালিশহর
একটা জলতোলা চাপকলের হাতলে তোমার হাত মাটির রচনা হয়েও তোমার চোখ এ পৃথিবী একবার পায় তারের মতো গড়াতে গড়াতে আমার দেহসব দৈব এক আচানক পরাণপুরে থিতু না হবার শিহরে পুলকে মৃত্যুর কল্পিত সাধের মতো হারিয়ে গেলে তুমি অতঃপর
জানি
ভাষা এক মাজুর প্রেমিক মানুষের কল্পনার
উভয় মিলে গড়ে তোলে আরো দূর সাধের অমরা
ভাষা ও সংগীতের তারে পুরা দুনিয়া শুকাতে দিয়ে কে যেন ছেড়ে গেছে আকাশ পাতাল
হালিশহর
তোমার অমল নৈরাজ্যের নিচে বসে সুরা ইয়াসীন শ্রবি
(০৩/০৮/২০২৩)