খোদার বন্দনা
আল্লার বন্দনা করি আল্লা মালিক মাবুদ
যার হাতে হাশরের তামাম সাক্ষী সাবুদ।
আল্লার বন্দনা করি তার হাতে সব
বন্দিয়া যায় পক্ষীকুল তার কলরব।
আল্লার বন্দনা করে ভাইস্যা ওঠা চর
মায়ারপঙ্খী নাও ডোবে কান্দে সদাগর।
নাও ডোবে তরী ডোবে ডোবে গরু মোষ
সাপের ফণার মতো নদী মানে পোষ।
আল্লা গো বন্দনা করি মহররম মাসে
বেহুলার লোহু ঝরে কাঁটাতার পাশে।
বন্দিয়া যাই আল্লাতালা বন্দি রহমান
গান গায় চন্দ্রাবতী যেন সোয়াচান।
বন্দিয়া যাই আল্লাতালা চর সরলিয়া
কারবালাতে হোসাইন এই দ্যাশেতে রিয়া।
আল্লা গো বন্দিয়া যাই তোমার রূপ-রস
পশ্চিমে কাবার স্মৃতি পুবেতে ওরস।
যে জমিনে শুয়ে আছেন মুর্শিদ-পীর-ওলী
রক্তে ভাসে সেই না জমিন শিশু হয় বলি।
জমিনে পড়ছে লোহু বলিতে এলাম
সভার চরণে আমি জানাই সেলাম।
সালাম জানাই যত মন্দির, মসজিদ
আদিবাসী, সাঁওতাল, বিহারী, দলিত।
আরও যত জাতি আছেন জানাই সালাম
পেশ করি এ সভায় আমার কালাম।
নবীবন্দনা
নবীজির নাম জপি নবীজি দয়ায়
তার বিনা বুক ফাটে খালি হতাশায়।
তার বিনা মনে হয় মরচুয়ারিতে
আমার শরীর কাটে হীরা ধার শীতে।
দয়াল নবীজি মোর পথের বকুল
তার বিনা আমি কবি পাথার অকূল।
সরল সরল পাতা পূবালী শিশির
খোদার হাবিব ডাকি খাদিজা নিশির।
যত বিষ তত মধু তত ভালোবাসা
ধূলার রসুল জিভে মিঠাই ভাষা।
আমার রসুল তিনি বুক ভরা শ্বাস
সহজ সকাল বেলা সুরের বিভাস।
রসুলের নাম জপি রসুলেই ঘুম
পউষ মাইস্যা শীতে দরদি উশুম।
তার বিনা ছাতি ফাটে বুক ভরা খাঁখাঁ
ইয়া নবী ইয়া হাবিব সালামালাইকা।
পীর-অলী-আউলিয়া স্মরণ
আমার পীরের দোয়া আমার মাথায়
আমার মাঠের পাশে, নকশি কাঁথায়।
পুবেতে বন্দনা তার পশ্চিমে মাজার
কৈলাশ পর্বত আর বসিলা বাজার।
দক্ষিণে খলিফা তার উত্তরে মুরিদ
ক্ষীর নদী পাড়ি দেন আমার সুহৃদ।
কোথায় আজমির শরিফ মহাস্থানগড়
কোথায় ধরমপুর শৈশব, কৈশোর।
এখানে নদীই যেন এক জিন্দাপীর
ঢেউয়ে ঢেউয়ে কাঁপে কথা কিসসা নবীর।
যখন আইলো জুলাই ২৪ সাল
চারদিকে রক্ত আর জানের আকাল।
সাঈদ পাতলো বুক প্রসারি দু হাত
সেই দৃশ্য লাগে যেন পীরের বায়াত।
আকাশ বাতাস বন্দি, বন্দি পীরকুল
বন্দি পীর জাবিরের শাহাদাত আঙ্গুল।
গাজীপুর, কুমিল্লা বন্দি বন্দি চিটাগং
বন্দি যত জিন্দাপীর ২৪ এর জং।
বন্দি অলী-আউলিয়া পীরের চরণ
বন্দি ২৪, মোহাম্মদপুর, শহিদী মরণ।
কী যে গান গাইমু আমি বন্দনা করি ইতি
জনে জনে শুনায়া যাই রোবায়েত গীতি।
জুলাইয়ের পুঁথি
আদব-লেহাজ গুরুজনে কবি জালাল খাঁ
বিষ্টি পইড়া আনাজ ভেজে করি বর্ণনা।
হাজার বাউল নাইমা আসে জুলাই মাসের কূলে
ভাই মইরা খুশবু হলো চাম্পা কাঁঠাল ফুলে।
আদব-লেহাজ জিন্দা নদী পীর-অলীদের নজর
কোন শহীদের কানে বাজে হায়াত শেষের ফজর!
শাহাদাতের শেরোয়ানি কে পরে মন্থরে!
কোন শহীদের পাগড়ি বান্ধে ফেরেশতা অন্তরে!
আদব-লেহাজ কাহ্ন পা আর ডোম্বী নারীর শোক
আবু সাঈদ আগলে রাখেন চর্যাপদের শ্লোক।
আদব-লেহাজ আরাকান ও আলাওলের প্রতি
ভাই পোড়ানো ভ্যানে কান্দে করুণ পদ্মাবতী।
আদব-লেহাজ গফুর হালী রসের কারখানা
সোনাবন্ধু শহীদ হইয়া বানাইলো দেওয়ানা।
মাটির ঘরের এই কাঠামো পইচা হবে সার
বন্ধু আমার বাইঁচা থাইকো নদীরও ওই পাড়।
মনের বাগান রইলো পইড়া জংলা করি সাফ
নদীর পানি নেও রে বইয়া আমার পরিতাপ।
আদব-লেহাজ মাতাল রাজ্জাক পুড়ি মোদের জ্বরে
মাইটা ঘরে ঘুমায় কন্যা শহীদ হওয়ার পরে।
আদব-লেহাজ দুর্বিন শাহ শরীর মাটির ফল
বন্ধু আমার শহীদ হইয়া হইলো নদীর জল।
আদব-লেহাজ রাধারমণ সলাম মরমীয়া
ভাই মরেছে দিনদুপুরে ভ্রমর কইয়ো গিয়া।
আদব-লেহাজ গুরুজনে আব্দুল করিম শা
আনাজ ভেজা বিষ্টিতে সব করি বর্ণনা।
কন্যা ২৪
কী করিব বর্ণনা এই পোড়া দ্যাশের কথা
ঘোর লাগে চারদিকে মরে তরুলতা।
জবান বন্দী, খোয়াব বন্দী, সুর পুইড়া ছাই
কন্যার শরীরে নামে বেহুলা লখাই।
কী আর বলিবো কথা কী করিবো পেশ
জান বাজি রাইখা নামে কন্যা সবিশেষ।
আল্লাতালার নাম জপি রাকাতে রাকাত
নবীজির কথা বলে নিজাম ডাকাত।
খলিফা চারের স্মৃতি গাই তৃণখাতে
আহলে বায়াত যেন থাকে দুধেভাতে।
মহুয়া, মলুয়া নামে গীতিকা জুড়িয়া
নগর বাহিরে ডোম্বি তোহোরি কুড়িয়া
কন্যা নামে মাঠেপথে হাতে নিয়া লাঠি
ফসলে যেমন জাগে ধুধু পলিমাটি।
কন্যা ঢাকা, নরসিংদি কন্যা জিগাতলা
কন্যার জবান জিয়ন কাঠি কাঞ্চা সোনার দলা।
কন্যা গেরাম কন্যা শহর কন্যা চিটাগং
কন্যা মিছিল কন্যা স্লোগান চব্বিশ স্বয়ং।
বিচার
নিরল নিরল নিমের পাতা আন্ধার চারিধার
এই দ্যাশেতে খুনির কি আর হইব রে বিচার?
তেঁতুল পাতা তেঁতুল পাতা বনের বৃক্ষ পুইড়া ছাই
এই দ্যাশেতে শিশুর খুনির হইব কী রে বিচার ভাই!
কালি কালো দোয়াত কালো জুলুম কালো অন্ধকার
এই দ্যাশেতে কন্যার খুনির বিচার হউক হাজার বার।
পানি ভরা কলসি ভালো আরও ভালো পুকুরপাড়
এই দ্যাশেতে পোলার খুনির হয় রে যেন ঠিক বিচার।
বাপ ডাকে মায়ে ডাকে বাপের নজর লাগে ভয়
এই দ্যাশেতে বাপের খুনির বিচার যেন হয় রে হয়।
কোথায় পাব হাকিম হুকুম কোথায় বারিস্টার
সাক্ষী রইল ঢাকার গলি, বুড়িগঙ্গার পাড়!