মনের দুনিয়া প্রসারিত করতে বই পড়া প্রয়োজন

যদি আমি এক মাস বই না পড়ি, তাইলে আমি আক্ষরিক অর্থেই পাগল হয়ে যাবো।

● মরতুজা রশিদ

জুলাই ৩১, ২০২৬

ছবি : দ্য পাবলিশ, রবার্ট গ্রিন


আপনার চিন্তাভাবনা এবং আপনার আইডিয়াগুলো আপনার নিজের না। আপনি সেগুলা উত্তরাধিকার সূত্রে পাইছেন আপনার বাবা-মা’র কাছ থেকে, আপনার সংস্কৃতির কাছ থেকে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা ইতিহাস থেকে। আপনি এই বাস্তবতায়, এই অতীতে নিজেকে গ্রাউন্ড করতে চান। কারণ যদি আপনি ইতিহাসকে উপেক্ষা করেন, যদি বইগুলাকে উপেক্ষা করেন এবং সেগুলাতে যে সব শিক্ষা আছে সেগুলাকে উপেক্ষা করেন, তাহলে আপনার দুনিয়া ক্রমশ ছোট হয়ে যাবে। আপনি সৃজনশীল হতে পারবেন না। হতাশ হয়ে পড়বেন, এবং আপনার জীবনে অমঙ্গল জিনিস ঘটবে।

বই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অ্যাডভেঞ্চার। আমি কি বই পড়ার পক্ষে যুক্তি দিতে পারি? এটা আমার কাছে একটা অদ্ভুত প্রশ্ন, কারণ আমার পুরো জীবন ধরে বই ছিল সবচেয়ে বড় জিনিস। যদি আমার কাছে বই না থাকতো, তাইলে আমি খুবই দুঃখী হয়ে যেতাম। এটা এতটাই উপভোগ্য অভিজ্ঞতা। কিন্তু এভাবেও ভেবে দেখেন। আপনি তো আপনার মাথার ভেতরে আপনার নিজের চিন্তা নিয়ে বাস করেন, তাই না? আর যদি কেউ একদিন কাগজে ছাপিয়ে আপনার এক সপ্তাহের চিন্তাগুলো বের করে দিতো, তাহলে আপনি অবাক হয়ে যেতেন যে সেগুলা কতটা বিরক্তিকর, কতটা তুচ্ছ এবং কতটা অর্থহীন। একই চিন্তা বারবার, বারবার, বারবার ঘুরে ফিরে আসছে। একই বোকা রাগ, একই জিনিস যা আপনাকে বিরক্ত করে ইত্যাদি।

আপনার মন এই চক্রের মধ্যে ঘুরছে আর ঘুরছে। আপনার দুনিয়া খুবই সীমিত। এটা কোনো রহস্য না। আমি এটা জানি, কারণ আমরা সবাই এরকম। ধরেন? আপনি একটা শহরে থাকেন, বিশেষ একটা সংস্কৃতিতে। আপনি প্রতিদিন একই মানুষদের দেখেন। প্রতিদিন একই টিভি শো দেখেন বা একই পডকাস্ট শোনেন। এটা একটা খুবই সংকীর্ণ, সীমিত দুনিয়া এবং আপনি এর জন্য কষ্ট পাচ্ছেন। এটা আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে।

একটা বই আপনাকে আপনার দুনিয়া থেকে বের করে নিয়ে যায়। আপনি প্রাচীন রোমে চলে যেতে পারেন এবং মার্কাস অরেলিয়াসের সাথে থাকতে পারেন, যিনি সম্রাট হয়েও নিজের জীবন এবং নিজের সমস্যাগুলা কীভাবে সামলাবেন তা বোঝার চেষ্টা করছেন। আপনি প্রাচীন গ্রিসে চলে যেতে পারেন, পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধের সময়। প্রাচীন মিশরে গিয়ে সেখানকার সব অদ্ভুত ঘটনা দেখতে পারেন। সময় কাটাতে পারেন লিওনার্দো দা ভিঞ্চির সাথে ইতালির রেনেসাঁ যুগে গিয়ে। অথবা নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সাথে তার যুদ্ধক্ষেত্রগুলা দেখতে পারেন।

আপনি এমন সব আইডিয়ার সংস্পর্শে আসেন যেগুলো আপনার নিজের আইডিয়া না, যেগুলো আকর্ষণীয়, অদ্ভুত এবং অপরিচিত। আপনি অন্য সংস্কৃতির তত্ত্ব এবং জিনিসের সাথে পরিচিত হন যেগুলা প্রায় অন্য গ্রহ থেকে আসা মনে হয়। এই সবই আপনার মনকে খুলে দিবে। বই পড়া একটা ভ্রমণের মতো। বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার মতো। আপনার নিজের ছোট্ট দুনিয়া, আপনার ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে পুরো দুনিয়া দেখা, ইতিহাস দেখা, নিজেকে দেখা।

ধরেন, আপনি আজকের দিনের প্রাণী নন। মানে, আপনি এ যুগের জন্ম নেয়া কোনো প্রাণী নন। আমি জানি না আপনি কবে জন্মেছেন। সেটা দুনিয়া না। দুনিয়া আপনার জন্মের ১০,০০০ বছর আগে থেকেই ছিল। আপনার চিন্তাভাবনা এবং আপনার আইডিয়াগুলা আপনার নিজের না। আপনি সেগুলা উত্তরাধিকার সূত্রে পাইছেন আপনার বাবা-মা’র কাছ থেকে, আপনার সংস্কৃতির কাছ থেকে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা ইতিহাস থেকে। আপনি এই বাস্তবতায়, এই অতীতে নিজেকে গ্রাউন্ড করতে চান। কারণ যদি আপনি ইতিহাসকে উপেক্ষা করেন, যদি বইগুলোকে উপেক্ষা করেন এবং সেগুলোতে যে সব শিক্ষা আছে সেগুলোকে উপেক্ষা করেন, তাহলে আপনার দুনিয়া ক্রমশ ছোট হয়ে যাবে। আপনি সৃজনশীল হতে পারবেন না। আপনি হতাশ হয়ে পড়বেন এবং আপনার জীবনে খারাপ জিনিস ঘটবে।

বই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রোমাঞ্চকর বস্তু। আর আমি ব্যক্তিগতভাবে বুঝতে পারি না যে, যদি আমি এক মাস বই না পড়ি, তাইলে আমি আক্ষরিক অর্থেই পাগল হয়ে যাবো। অবশ্যই এটা একটা আসক্তি, যেটা খুব ভালো যে তা না। কিন্তু আপনি এই আসক্তিটা তৈরি করতে চান। এটাই সম্ভবত সবচেয়ে ভালো আসক্তি যা আপনি পেতে পারেন। আমাদের আজকের দুনিয়ায় আরও বেশি মানুষের বই পড়া দরকার। ●

এই লেখাটি রবার্ট গ্রীনের একটি বক্তব্য থেকে অনূদিত


Picture of মরতুজা রশিদ

মরতুজা রশিদ

শেয়ার

আরও পড়েন

দুর্গের ভেতরে কয়েক হাজার সৈন্য, বাইরে প্রায় লক্ষাধিক উসমানীয় সেনা। এই লড়াই চলেছিল এক মাস, আর দুর্গ পতনের আগেই শেষ অভিযানে মৃত্যুবরণ করেন সুলতান সুলেমান।

দ্য পাবলিশ

উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে তাঁর সিনেমায় ফিরে যাওয়ার জন্য এই দশটি ছবি একটি ভালো শুরু।

দ্য পাবলিশ নিউজরুম

ছবিটি দেখে পাবলো পিকাসো বলেন “চার্চিল চাইলে পেশাদার চিত্রশিল্পী হতে পারতেন, যদি না তাঁর সময় অন্য কাজে ব্যস্ত থাকত”।

কালচারাল করেসপন্ডেন্ট

যখন একটা গেমের পেছনে এত বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়, তখন ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ প্রায় থাকে না বললেই চলে।

দ্য পাবলিশ নিউজরুম

Scroll to Top