২০১৮, অগাস্টের শেষ দিকে। স্টকহোমের পার্লামেন্ট ভবনের সামনের ফুটপাথে একটা মেয়ে দাড়িয়ে, বয়স পনেরো, বিনুনি বাঁধা, হাতে লেখা কার্ডবোর্ডের লেখাটি বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায় “জলবায়ুর জন্য স্কুল ধর্মঘট”। স্কুল নেই, বন্ধু নেই পাশে, শুধু সে আর একটা প্রশ্ন: বড়রা কেন কিছু করছে না? সে বছর, সুইডেনের সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ওই জায়গাতেই বসে থাকত সে। কেউ তখনো জানত না, এই একলা প্রতিবাদ একদিন একশোরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়বে।
নাম তার গ্রেটা টিন্টিন এলেওনোরা এর্নমান থুনবার্গ। জন্ম ৩ জানুয়ারি, ২০০৩, স্টকহোমে। বাবা স্ভান্তে থুনবার্গ অভিনেতা, মা মালেনা এর্নমান অপেরা গায়িকা, দাদু অলোফ থুনবার্গও অভিনয় জগতের মানুষ ছিলেন। এই নাট্যধর্মী পারিবারিক পরিচয়ের কারণেই হয়তো তার নামটাও খানিকটা অস্বাভাবিক শোনায়, এমনটাই মন্তব্য করেছিল ব্রিটিশ ম্যাগাজিন “দ্য উইক”। ব্যাপারটা মজার, তাই না? একটা পরিবার যাদের পেশাই হলো অন্যের চরিত্রে ঢুকে পড়া, আর তাদের মেয়েটা শেষমেশ নিজের চরিত্রেই এমনভাবে বাঁচল যে গোটা পৃথিবী তাকিয়ে রইল।
দ্য বার্থ অব আ চাইল্ড, বর্ন উইথ ট্রাজেডি
ঘটনার শুরু আরও আগে থেকে। আট বছর বয়সে স্কুলে একদিন তাকে দেখানো হয়েছিল মহাসাগরে ভাসমান প্লাস্টিকের ভিডিও, আর গলে যাওয়া মেরু বরফে আটকে পড়া ভাল্লুকের ছবি। অন্য বাচ্চারা ভুলে গিয়েছিল পরের সপ্তাহেই। গ্রেটা ভুলতে পারেনি। তার মাথায় প্রশ্নটা গেঁথে গিয়েছিল কাঁটার মতো। এগারো বছর বয়সে এসে সেই কাঁটা, বিষ হয়ে ছড়াল। সে কথা বলা প্রায় বন্ধ করে দিল, খাওয়া কমিয়ে দিল। এই সময়টাকে ধরা হয় তার জীবনের গভীর বিষণ্নতার এক অধ্যায় হিসেবে। চিকিৎসকরা পরে তাকে অ্যাসপারজার সিনড্রোমে নির্ণয় করেন, যা এখন অটিজম স্পেকট্রামের অংশ হিসেবে গণ্য হয়।
এই জায়গাটা, একটু থেমে ভাবার দাবি রাখে। আমরা সাধারণত হিরোদের গল্প লিখি বিজয়গাথা দিয়ে, কষ্টের জায়গাগুলো ফুটনোটে রেখে দিই। কিন্তু গ্রেটার বেলায় এই কঠিন মূহুর্তটাই তার আসলে চরিত্র ঠিক করে। নিজেই একবার টুইট করেছিলেন, “আমার অ্যাসপারজার আছে, মানে আমি মাঝে মাঝে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু আলাদা”। আলাদা হওয়াটাকেই তিনি অস্ত্র বানিয়ে ফেললেন। সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এই অবস্থা তাকে দুনিয়াটা সাদা-কালোয় দেখতে শেখায়, কোনো ধূসর জায়গা নেই, “বেঁচে থাকা নিয়ে কোনো ধূসরতা নেই। হয় আমরা সভ্যতা হিসেবে টিকে থাকব, নয়তো থাকব না”।
গ্রেটার বাড়িতেও বিপ্লব ঘটছিল। প্রায় দুই বছর ধরে বাবা-মাকে বোঝাতে চেষ্টা করেন কার্বন নিঃসরণ কমাতে, ভেগান হতে, প্লেনে না চড়তে। গ্রাফ দেখিয়েছেন, পরিসংখ্যান দেখিয়েছেন। কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না, শেষে সরাসরি বলেই দেন, তোমরা আমার ভবিষ্যৎ চুরি করছ। মা মালেনার অপেরা ক্যারিয়ারের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এতে থমকে যায়। বিবিসিকে বাবা স্ভান্তে পরে বলেছিলেন একটা কথা, যেটা শুনলে গায়ে কাঁটা দেয়: “সত্যি বলতে, ও জলবায়ু বাঁচাতে এটা করেনি। ও নিজের সন্তানকে বাঁচাতে করেছিল, কারণ ও দেখেছিল এটা মেয়ের কাছে কতটা মানে রাখে”। ভাবুন তো, একটা পরিবারের ভেতরের এই টানাপোড়েনটাই আসলে আজকের পৃথিবীর রূপক। আমরা সবাই কোনো না কোনো গ্রেটার মুখোমুখি বসে আছি, কেউ গ্রাফ দেখাচ্ছে, আর আমরা শুনছি না, যতক্ষণ না সম্পর্কটাই বাজি ধরা হয়ে যাচ্ছে।
“হাউ ডেয়ার ইউ”
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে পোল্যান্ডের কাতোভিচে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে (COP24) প্রথম বড় মঞ্চে দাঁড়ান গ্রেটা। আলোচকদের সামনে বলেন, “আপনারা সত্যিটা বলার মতো পরিপক্ব নন। সেই বোঝাও আপনারা আমাদের শিশুদের ঘাড়ে ফেলে দিয়েছেন। কিন্তু আমি জনপ্রিয় হওয়া নিয়ে চিন্তিত নই, আমি জলবায়ু ন্যায়বিচার আর বেঁচে থাকা গ্রহ নিয়ে চিন্তিত”।
তারপর ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ, প্রথম বিশ্বব্যাপী সমন্বিত স্কুল ধর্মঘট, ১৩৩টি দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী একদিনে ক্লাস ছেড়ে রাস্তায় নামে। সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ জলবায়ু কর্মসূচি শীর্ষ সম্মেলনে তার ভাষণটা এখন প্রায় কিংবদন্তি। “হাউ ডেয়ার ইউ” দিয়ে শুরু, বিশ্বনেতাদের অভিযুক্ত করেন তারা তার “স্বপ্ন আর শৈশব চুরি করেছে” বলে। ওই বক্তৃতা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের ভাষায় লেখা ছিল না, ছিল ক্ষোভে, যা একজন কিশোরীর গলায় শোনাটা আমাদের সবাইকে একটু অস্বস্তিতে ফেলেছিল। কারণ ক্ষোভটা ন্যায্য ছিল।
ওই বছরই, ২০১৯, টাইম ম্যাগাজিন তাকে “পার্সন অফ দ্য ইয়ার” ঘোষণা করে, ১৬ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে এই সম্মান পান গ্রেটা। প্লেনে না চড়ার নীতি মেনে চলতে গিয়ে আটলান্টিক পার হতে তিনি বেছে নেন বায়ু আর সৌরশক্তি চালিত একটা পালতোলা নৌকা, প্লিমাথ থেকে নিউইয়র্ক, পনেরো দিনের যাত্রা। প্রতীকী, নিশ্চয়ই। কিন্তু প্রতীক বানানোর জন্য নয়, বরং নিজের কথার সাথে নিজের জীবনযাপন মিলিয়ে রাখার জেদ থেকেই এই সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশ, যে দেশটার নাম গ্রেটার বক্তৃতায় বারবার ঘুরেফিরে আসে না, অথচ গল্পের কেন্দ্রে থাকে।
এবার একটু থামি, আর ভাবি আমাদের নিজেদের জায়গাটা নিয়ে। গ্রেটা থুনবার্গ যে কথাটা বারবার বলেন, “আমরা সবাই একই নৌকায় নেই”, সেই কথাটার সবচেয়ে নির্মম উদাহরণ বোধহয় বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে (CCVI) যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ম্যাপলক্রফট বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ আর ঢাকাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শহর হিসেবে চিহ্নিত করেছিল, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস আর ভূমিধসের কারণে। ইউনিসেফের ২০১৯ সালের প্রতিবেদন বলছে, প্রায় এক কোটি বিশ লাখ শিশু এমন নদীর পাশে বাস করে যা নিয়মিত পাড় ভাঙে, সাড়ে চুয়াল্লিশ লাখ থাকে ঘূর্ণিঝড়প্রবণ উপকূলীয় এলাকায়, আর ত্রিশ লাখ খরার ঝুঁকিতে। মোট মিলিয়ে প্রায় এক কোটি নব্বই লাখ শিশু জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি ঝুঁকিতে আছে এই দেশে।
গ্রেটার নিজের লেখা বই, দ্য ক্লাইমেট বুক-এ একটা অধ্যায় আছে যার নাম “আমরা সবাই একই নৌকায় নেই”। সেখানে আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক সালেমুল হক স্পষ্ট করে লেখেন, জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বিধ্বস্ত মানুষেরা “অসামঞ্জস্যভাবে দরিদ্র, অশ্বেতাঙ্গ মানুষ”। কিন্তু সালেমুল হক এটাও মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশের মানুষকে শুধু অসহায় শিকার ভাবলে ভুল হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি লেখেন, ঘূর্ণিঝড় এলে একা থাকা বৃদ্ধা বিধবাকে নিরাপদে সরিয়ে আনার জন্য নির্দিষ্ট হাইস্কুলের দুই শিক্ষার্থীকে আগে থেকেই দায়িত্ব দেওয়া থাকে। এই যে সমষ্টিগত প্রস্তুতি, এটা গ্লোবাল নর্থে প্রায় দেখাই যায় না।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির এক প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে, গ্রেটা থুনবার্গের ঘোষিত কিছু জলবায়ু কর্মসূচি বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে, আর তার প্রভাবে দেশীয় নীতিনির্ধারকরাও নড়েচড়ে বসেছেন। কক্সবাজার আর বরিশালের মতো জায়গায় তরুণ জলবায়ু কর্মীরা নিজেদের ধর্মঘট সংগঠিত করেছেন, ঠিক গ্রেটার আদলেই, যদিও তাদের বেশিরভাগের নাম কখনো আন্তর্জাতিক পত্রিকার শিরোনাম হয় না।
শিক্ষাবিদ ও সাক্ষরতা কর্মী ফিরোজ আলম একটা প্রশ্ন তুলেছিলেন, যেটা নিয়ে কথা বলা যায়। ২০১৯ সালে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের একটা ছবিতে গ্রেটার পাশে দাঁড়ানো উগান্ডার জলবায়ু কর্মী ভ্যানেসা নাকাতেকে ক্রপ করে বাদ দেওয়া হয়, আর তার কারণ হিসেবে বলা হয় “নিছক কম্পোজিশনের কারণে”। আলম লেখেন, বাংলাদেশের ওই এক কোটি নব্বই লাখ শিশু কি কখনো বিশ্বের নজরে পড়বে, নাকি তাদের গল্পও কম্পোজিশনের কারণে ফ্রেমের বাইরে চলে যাবে? প্রশ্নটা অস্বস্তিকর, কিন্তু আমাদের নিজেদের সাংবাদিকতার জন্যও এটা একটা আয়না।
২০১৯ সালেব্রাজিলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো তাকে প্রকাশ্যে “দুষ্টু মেয়ে” বলে কটাক্ষ করেছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অনেক জলবায়ু-সংশয়বাদী নেতা তার সমালোচনায় সরব হয়েছেন, একটা গবেষণায় দেখা গেছে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রকাশিত পাঁচশো সাতান্নটি মতামত-নিবন্ধে এই বিরোধিতার ধরন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, তার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ যতই হয়েছে, ততই যেন তার পক্ষে জনমত আরও দৃঢ় হয়েছে। বিজ্ঞানীরা ব্যাপারটাকে ডাকেন “গ্রেটা এফেক্ট“, যার প্রভাবে ধনী দেশগুলোতেও জলবায়ু উদ্বেগ আগের চেয়ে বেড়েছে, এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র দেশগুলোর তুলনাতেও।
আরেকটা মজার স্বীকৃতিও আছে তার নামে, যদিও সেটা পোকামাকড়ের জগতে। ব্রিটিশ গবেষকরা নতুন আবিষ্কৃত এক প্রজাতির বিটল পোকার নাম রাখেন “নেলোপটোডেস গ্রেটি“, তার নামেই। কে ভেবেছিল, একটা ক্ষুদ্র পোকার নামকরণও একদিন রাজনৈতিক বিবৃতি হয়ে উঠবে।
সমুদ্রের ওপারে গাজা এবং আমার বাংলাদেশ
২০২৩ সালের দিকে গ্রেটা স্কুল-জীবন পেরিয়ে সরাসরি রাজপথের সংঘাতে নেমে আসেন। জার্মানির একটা গ্রাম ভেঙে কয়লাখনি তৈরির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে যোগ দিয়ে কিছু সময়ের জন্য আটক হন, পরে বলেন, “জলবায়ু প্রতিবাদ কোনো অপরাধ নয়”। নরওয়েতে আদিবাসী সামি জনগোষ্ঠীর জমিতে নির্মিত বায়ুকল ভাঙার দাবিতে অসলোর সরকারি দপ্তরের সামনে অবরোধে অংশ নেন, পুলিশ তাকে কোলে তুলে সরিয়ে দেয়, ছবিটা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। লন্ডনে জ্বালানি সম্মেলনের পাশে এক বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হন গ্রেটা, পরে অবশ্য আদালত তাকে নির্দোষ দাবি করেন।
এরপর তার মনোযোগ সরে আসে আরও বিস্তৃত মানবাধিকার প্রশ্নে। রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন, আর জলবায়ু ন্যায়বিচারকে সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য বলে যুক্তি দেন গ্রেটা। ২০২৫ সালের জুনে গাজাগামী মানবিক সহায়তা জাহাজ “মাদলিন”-এও ছিলেন তিনি, ইসরায়েলি বাহিনী জাহাজটি আটক করে আশদোদ বন্দরে নিয়ে যায়, পরে তাকে ফ্রান্স হয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। অক্টোবরে আরেকটি ফ্লোটিলায় অংশ নিয়ে আবারও আটক হন গ্রেটা, প্রায় একশো সত্তর জন সহযাত্রীর সঙ্গে গ্রিসে নির্বাসিত করা হয়। এথেন্স বিমানবন্দরে নেমে সমর্থকদের বলেন, তাদের আটকাবস্থার অপব্যবহার নিয়ে তিনি অনেকক্ষণ কথা বলতে পারতেন, “কিন্তু সেটাই আসল গল্প নয়”।
এই লাইনটাতেই বোধহয় গ্রেটা থুনবার্গের আসল চরিত্র ধরা পড়ে। নিজের কষ্টকে কখনো গল্পের কেন্দ্রে রাখেননি তিনি। সবসময় ক্যামেরা ঘুরিয়ে দিয়েছেন তাদের দিকে, যাদের কষ্টটা শোনার মতো কেউ নেই। গ্রেটা থুনবার্গের গল্পে ট্র্যাজেডি বলতে যদি কিছু থাকে, সেটা বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ে কাউকে হারানোর গল্প নয়। সেটা একটা এগারো বছরের মেয়ের নীরবতা, যে দুনিয়ার ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল কারণ বড়রা সেটা নিতে অস্বীকার করছিল। সেটা একটা পরিবারের ভাঙা ক্যারিয়ার, একটা মেয়ের হারানো কৈশোর, যেটা সে নিজের ভাষাতেই বলেছিল, “চুরি হয়ে যাওয়া।”
আমরা বাংলাদেশে বসে গ্রেটার গল্প পড়ি অনেকটা দূরবীন দিয়ে দূরের আগুন দেখার মতো। অথচ আগুনটা আমাদের দরজার সামনেও জ্বলছে, প্রতি বছর একটু একটু করে নদী যাদের ভিটে গিলে খায়, প্রতি ঘূর্ণিঝড়ে যাদের নাম খবরের কাগজের পাতায় একটা সংখ্যা হয়ে থাকে। গ্রেটা থুনবার্গ একাই গোটা পৃথিবী বদলাননি, কেউ একা পারে না। কিন্তু তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, একজন মানুষের একটা ফুটপাথে বসে থাকার সিদ্ধান্তও কখনো কখনো ইতিহাসের গতিপথ বাঁকিয়ে দিতে পারে।