প্রলোগ
জুলাইয়ের এক সন্ধ্যায় ঢাকার বাইরে, মানিকগঞ্জের একটি বাজারে ফ্যান হঠাৎ থেমে যায়। দোকানিরা অভ্যস্ত হাতে হারিকেন বের করেন, কেউ কেউ মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালান। রাস্তার পাশে জেনারেটরের শব্দ ওঠে। একজন প্রবীণ ক্রেতা বিরক্ত গলায় বলেন, আবার লোডশেডিং। কথাটা এত স্বাভাবিক শোনায় যে কেউ প্রশ্ন করে না, ঠিক কেন। অথচ প্রশ্নটা করা দরকার ছিল। কারণ বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে এখন প্রায় ২৯,৫৯৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানো আছে, যেখানে সর্বোচ্চ চাহিদা সাধারণত আঠারো হাজার মেগাওয়াটের আশপাশে ওঠানামা করে। কাগজে-কলমে দেশের হাতে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি সক্ষমতা থাকার কথা। তারপরও ২০২৬ সালের আগস্টে দেশের একটা বড় অংশ, বিশেষত গ্রামাঞ্চল, দিনে ষোলো ঘণ্টা পর্যন্ত অন্ধকারে কাটিয়েছে। প্রশ্নটা তাই সহজ না। বাংলাদেশ কি সত্যিই বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকারে যাচ্ছে, নাকি এমন একটা ব্যবস্থার কারণে, যেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, কিন্তু সেগুলো চালানোর জ্বালানি নাই?
বর্তমান পরিস্থিতি
২০২৬ সালের গ্রীষ্মে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কয়েক দফায় রেকর্ড ছুঁয়েছে। আগস্টের মাঝামাঝি, ১১ থেকে ১২ তারিখের মধ্যরাতে, চাহিদা দাঁড়ায় ১৫,২৪৯ মেগাওয়াটে, সরবরাহ ছিল ১২,৯৩৫ মেগাওয়াট, ফলে ঘাটতি ছোঁয় ২,৩১৪ মেগাওয়াট। আর কিছু গ্রামীণ এলাকায় লোডশেডিং গড়ায় দিনে ষোলো ঘণ্টা পর্যন্ত। ময়মনসিংহে চাহিদার প্রায় ৩০.৫৭ শতাংশ বিদ্যুৎই মেলেনি সেদিন।
এই সংকটের কেন্দ্রে একটা নির্দিষ্ট ঘটনা আছে। ২১ জুলাই কক্সবাজারে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগে। এই ক্ষতিতে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট/দিন গ্যাস সরবরাহ কমে যায়, যা জাতীয় গ্যাস সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশের সমান।
প্রায় একই সময়ে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা দেওয়ায় বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহও ব্যাহত হয়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মতো এশিয়ার কয়েকটি ক্রেতা দেশের জন্য এলএনজি সরবরাহে এই বিঘ্নের সময়সীমা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এর ফলে দেশে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হয়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানির ঘাটতির কারণে জাতীয় গ্রিডের তালিকাভুক্ত ১৪৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংকটে পড়ে।
এখানেই লেখার শুরুতে করা প্রশ্নের প্রথম উত্তর মিলে। লোডশেডিং, উৎপাদন ঘাটতি, ট্রান্সমিশন সীমাবদ্ধতা আর বিতরণ বিপর্যয়, চারটে আলাদা সমস্যা, প্রায়ই একসঙ্গে মিশে যায়। ২০২৬ সালের এই সংকট মূলত জ্বালানি ঘাটতিজনিত, অর্থাৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র বসে আছে কিন্তু তা চালানোর জ্বালানি নাই। আর এই বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করছে গ্রামাঞ্চল। ঐতিহাসিকভাবে শহর আর গ্রামের মধ্যে তিন-চার ঘণ্টা বনাম এক-দুই ঘণ্টার এই ফারাক বারবার ফিরে এসেছে। এই বছর বৈষম্য এতটাই প্রকট হয়ে ওঠে যে সরকার ঢাকাতেও পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং চালু করতে বাধ্য হয়, যাতে গ্রামের সেচ ও কৃষিতে কিছুটা সমতা আসে।

যে সংকট থেকে শুরু
আজকের সংকট বুঝতে হলে ফিরতে হবে সতেরো বছর আগে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল ২৭টি, উৎপাদনক্ষমতা প্রায় পাঁচ হাজার মেগাওয়াট, আর বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় ছিল দেশের ৪৭ শতাংশ মানুষ। ২০০০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চাহিদা আর সরবরাহের ফারাক গড়ে দুই হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি ছিল, আর দেশের ৮০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ আসত প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে, যে গ্যাস তখনকার হিসাবে চলতি হারে ২০৩১ সালের মধ্যে ফুরিয়ে যাওয়ার কথা।
সরকার তখন বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় একটি জরুরি কর্মসূচি নেয়। ২০০৯ সালের অক্টোবরে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় পরবর্তী পাঁচ বছরে প্রায় ৭,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যোগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য রেন্টাল ও কুইক-রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব অস্থায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০১০ সালে সংসদে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন’ পাস করা হয়, যা পরে সংশ্লিষ্ট মহলে ‘দায়মুক্তি আইন’ নামে পরিচিতি পায়। সে সময়ের এক বিশ্বব্যাংক বিশ্লেষণে বলা হয়, আমদানিকৃত তরল জ্বালানিনির্ভর রেন্টাল বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট খরচ প্রচলিত বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি হলেও, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প ও হাসপাতালসহ অর্থনীতিতে যে সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছিল, তা বিবেচনায় এই অতিরিক্ত ব্যয়কে যুক্তিযুক্ত মনে করা যেতে পারে।

সমস্যা হলো, তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য আনা এই জরুরি ব্যবস্থা কখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ২০২০ সালেও একাধিক রেন্টাল প্ল্যান্টের মেয়াদ বাড়ানো হয়, আর ২০২১ সালে সরকার নতুন করে চারটি রেন্টাল প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের একাধিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, ২০০৯-এর জরুরি সমাধান ধীরে ধীরে একটা স্থায়ী কাঠামোয় পরিণত হয়। দ্য ডেইলি স্টারের এক ইতিহাস আড্ডায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলম যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন তার সারকথা হলো, একটা বিদ্যুৎ ঘাটতি সমাধান করা হয়েছিল আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়িয়ে।

ক্ষমতা বনাম বাস্তবতা
২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ইনস্টলড ক্যাপাসিটি বেড়েছে ছয় গুণেরও বেশি, ৫,০০০ থেকে ২৫,৭৩০ মেগাওয়াটে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা সাতাশ থেকে একশ তিপ্পান্নয়। তবে ২০২৬ সালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা কিছু কমে ১৩৭টি হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি নাগাদ গ্রিড-সংযুক্ত ক্ষমতা দাঁড়ায় প্রায় ২৮,৯১৯ মেগাওয়াটে। বিদ্যুৎ সুবিধার আওতাও ২০০৯ সালের ৪৭ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় শতভাগে পৌঁছায়।
কিন্তু সংখ্যাগুলো বিভ্রান্তিকর হতে পারে যদি ইনস্টলড ক্যাপাসিটি আর প্রকৃত উৎপাদনক্ষমতাকে এক করে দেখা হয়। জ্বালানি বিশ্লেষণ সংস্থা আইইইএফএর হিসাবে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশের রিজার্ভ মার্জিন, অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ক্ষমতার অনুপাত, দাঁড়ায় ৬৬.১ শতাংশে, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ধরা হয় মাত্র ২০ শতাংশের কাছাকাছি। অর্থাৎ, আমাদের কাছে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতা আছে।
তাহলে হিসাবটা কোথায় গরমিল হচ্ছে? জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির শ্বেতপত্র বলছে, গত পাঁচ বছরে সামগ্রিক প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর, অর্থাৎ পূর্ণ ক্ষমতার তুলনায় প্রকৃত ব্যবহারের হার, ওঠানামা করেছে মাত্র ৪২ থেকে ৪৬ শতাংশের মধ্যে। অর্থাৎ কাগজে যত মেগাওয়াট আছে, তার অর্ধেকের কিছু বেশি ব্যবহার করা যাচ্ছে। এখানেই একটা গুরুত্বপূর্ণ বিভাজন দরকার। ইনস্টলড ক্যাপাসিটি মানে একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ শক্তিতে চললে যে বিদ্যুৎ দিতে পারত। ডিপেন্ডেবল ক্যাপাসিটি মানে জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও গ্রিড সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় প্রকৃতপক্ষে যে বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশে এই দুয়ের ফারাক এত বড় যে ত্রিশ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা মানেই ত্রিশ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া নিশ্চিত করে না, বরং জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভর করে সেই সংখ্যার আসল অর্থ।

গ্যাস থেকে আমদানির দিকে যাত্রা
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি মিশ্রণ এখন গ্যাস ৩৮.৪ শতাংশ, কয়লা প্রায় ১৯.৩২ শতাংশ, HSD ২.৩৬ শতাংশ, ক্যাপটিভ ফুয়েল ৮.৬২ শতাংশ, ফার্নেস অয়েল প্রায় ১৭.৩৭ শতাংশ, আমদানি করা বিদ্যুৎ প্রায় ৮.৩ শতাংশ, আর নবায়নযোগ্য উৎস মাত্র প্রায় ৫.৬২ শতাংশ। কয়লা আর ফার্নেস অয়েল প্রায় পুরোটাই আমদানি করা, গ্যাসের একটা বড় অংশও এখন আসে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি থেকে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (IEEFA) এর বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম এবছরের শুরুতে বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রায় ৬২ শতাংশ প্রাথমিক জ্বালানিই আমদানিনির্ভর। যা প্রতিটা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ধাক্কা সরাসরি ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন প্রতিবছর প্রায় দেড়শ মিলিয়ন ঘনফুট করে কমছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালে গড় উৎপাদন ছিল ২,২৯০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রতিদিন, যা ২০২৫ সালে নেমে আসে ১,৯৩৫, প্রায় ৩৬১ মিলিয়ন ঘনফুট পতন তিন বছরে। উৎপাদনরত গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুত জানুয়ারিতে ছিল ৬,৩২১ বিলিয়ন ঘনফুট, জুন নাগাদ নেমে আসে ছয় ট্রিলিয়ন ঘনফুটে। এই হারে চললে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, মজুত আট বছরের মধ্যে ফুরিয়ে যেতে পারে।
এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে। সাগরসীমা নিষ্পত্তির পর চৌদ্দ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে এখনো কোনো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য তেল বা গ্যাসের সন্ধান পায়নি, অথচ একই সমুদ্রসীমার মিয়ানমার অংশে বছরের পর বছর ধরে গ্যাস উত্তোলন চলছে, ভারতও গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস দুটোই তুলছে। জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলমের মতে এর কারণ, অনুসন্ধানে দীর্ঘ অবহেলা এবং লগ্নিকারীদের কাছে অনাকর্ষণীয় শর্ত, যদিও তিনি মনে করেন বঙ্গোপসাগরে সম্ভাবনা এখনো ফুরিয়ে যায়নি। এর বিপরীতে ২০১৮ সাল থেকে সরকার এলএনজি আমদানিকেই মূল সমাধান হিসেবে বেছে নেয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানিতে খরচ হয় প্রায় ৪০৭ বিলিয়ন টাকা, যা দ্য ডিপ্লোম্যাটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী দেশীয় গ্যাসের তুলনায় প্রতি ইউনিটে প্রায় আঠারো গুণ বেশি দাম। প্রশ্নটা তাই আসলে জ্বালানির অভাব নিয়ে না, প্রশ্নটা হলো, কোন জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাংলাদেশ বেছে নিয়েছে তা নিয়ে।

ক্যাপাসিটি চার্জ: বিদ্যুৎ কিনুন বা না কিনুন, দিতে হবে টাকা
ক্যাপাসিটি চার্জ বা ধারণক্ষমতা মাশুল বোঝা জরুরি, কারণ এটাই বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকটের কেন্দ্রে। সহজ কথায়, বেসরকারি বা ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সরকারের এমন চুক্তি থাকে যে, সরকার সেই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনুক বা না কিনুক, কেন্দ্রটিকে প্রস্তুত রাখার জন্য একটা নির্দিষ্ট অর্থ দিতে হবে। সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ২০২২ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, এই ভর্তুকি হিসাব করা হয় একটা কেন্দ্র তার সম্পূর্ণ ক্ষমতা সরবরাহ করলে যে রাজস্ব পেত তার ৬০ শতাংশ হিসেবে, অর্থাৎ বিদ্যুৎ না দিয়েও একটা কেন্দ্র তার সম্ভাব্য আয়ের বড় অংশ নিশ্চিত করে ফেলে। আর উপরের ডাটা মতে, একটা কেন্দ্রের যে ক্ষমতা রয়েছে আমরা সেই ক্ষমতা ব্যবহার করতে সক্ষম নই। তাই আমরা বিদ্যুৎ কিনি বা না কিনি, দুই দিকেই আমাদের লস হচ্ছে।
এই ব্যবস্থা কত টাকার দাঁড়িয়েছে তার হিসাবে সূত্রভেদে পার্থক্য আছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী নাসরুল হামিদ সংসদে জানান, চৌদ্দ বছরে বিরাশিটি বড় বেসরকারি উৎপাদনকারীকে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ৭.৫ ট্রিলিয়ন টাকা এবং ছোট তেলভিত্তিক রেন্টাল উৎপাদকদের ২.৮ ট্রিলিয়ন টাকা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বনিকবার্তার প্রতিবেদন বলছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সরকার বেসরকারি ও রেন্টাল কেন্দ্রকে দিয়েছে ১,০৫ ট্রিলিয়ন টাকা। আবার অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্র বলছে, ২০১০-১১ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ক্যাপাসিটি ও রেন্টাল পেমেন্ট প্রায় এক লাখ পনেরো হাজার কোটি টাকা (১,১৫,০০০০,০০,০০০)। তিনটি সূত্রের হিসাবের মধ্যে যথেষ্ট ফারাক আছে, যা সময়কাল, হিসাবপদ্ধতি এবং কোন খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে বদলে যেতে পারে। এই লেখায় কোনো একটি সংখ্যাকে চূড়ান্ত ধরা হয়নি, বরং সরকারি ও স্বাধীন হিসাবের মধ্যে এই পার্থক্যটাই তুলে ধরা জরুরি মনে হয়েছে।
শহুরে মানুষ স্বস্তিতে থাকবে আর গ্রামের কৃষক ভুগবে, এটা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী, এবং সে কারণেই ঢাকায় লোডশেডিং চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংখ্যার আকার যাই হোক, প্রবণতা স্পষ্ট। শুধু ২০২২-২৩ অর্থবছরে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ খরচ হয় ১৭,৬২১ কোটি টাকা, আগের বছরের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি, আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ধারণক্ষমতা মাশুল ৩৮,০০০ কোটি টাকা ছোঁয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো, এই টাকা কোথা থেকে আসে? মূলত বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ভর্তুকি থেকে, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকেই যায়। আইইইএফএর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৩-২৪ সাল পর্যন্ত বিপিডিবির বার্ষিক ব্যয় বেড়েছে ২.৬ গুণ, রাজস্ব বেড়েছে মাত্র ১.৮ গুণ, ফলে সরকারকে মোট ১০.৬৪ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ ভর্তুকি দিতে হয়েছে।
রাজধানী বনাম গ্রাম
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় প্রায় ৮০টি সমবায় সংস্থার মাধ্যমে ৪কোটি গ্রাহক বিদ্যুৎ পান। ২০২৬ সালের সংকটের মধ্যে এই সংস্থাগুলো একাধিকবার পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে, কারণ ক্ষুব্ধ মানুষ কোথাও কোথাও উপকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। গ্রামাঞ্চলে দিনে ১৬ ঘন্টা অবধি কারেন্ট থাকে না এমনও দেখা গেছে।
এই বৈষম্য নতুন না। ২০২২ সালের সংকটেও গ্রামে তিন থেকে চার ঘণ্টা, শহরে এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের প্যাটার্ন দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এই বৈষম্য এতটা তীব্র রূপ নেয় যে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সংসদে খোলাখুলি স্বীকার করেন, শহুরে মানুষ স্বস্তিতে থাকবে আর গ্রামের কৃষক ভুগবে, এটা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী, এবং সে কারণেই ঢাকায় লোডশেডিং চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘোষণা নিজেই একটা স্বীকারোক্তি। এত বছর ধরে সংকটের বোঝা মূলত গ্রামের ওপর চাপিয়ে রাখা হয়েছিল, আর যখন সেই বোঝা শহরের দোরগোড়ায় পৌঁছাল, তখনই এটা রাজনৈতিকভাবে জরুরি হয়ে উঠল। বিদ্যুৎ সংকট তাই নিছক একটা কারিগরি সমস্যা না, এটা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নগর-গ্রাম বৈষম্যেরও একটা আয়না।
আয়না
বাংলাদেশের সংকট বোঝার জন্য দুটো তুলনা কার্যকর হতে পারে। পাকিস্তানের ঘটনা বাংলাদেশের সাথে বিস্ময়করভাবে মিলে। সেখানেও ডলারে সূচকিত ক্যাপাসিটি পেমেন্ট, বিতরণ কোম্পানির অনাদায়ী বিল, আর জ্বালানি সরবরাহকারীদের কাছে বকেয়ার একটা চক্র তৈরি হয়েছে, যাকে বলা হয় সার্কুলার ডেবট। এই চক্রের যান্ত্রিকতা সহজ, বিতরণ কোম্পানি ভোক্তার কাছ থেকে পুরো খরচ আদায় করতে পারে না, ফলে কেন্দ্রীয় ক্রয় সংস্থাকে বিল দিতে পারে না, তার ফলে স্বাধীন উৎপাদকরাও জ্বালানি সরবরাহকারীদের বিল দিতে পারে না, আর এতে জ্বালানি সরবরাহ কমে যায় আর লোডশেডিং বেড়ে যায়। তবে পাকিস্তানের একটা দিক লক্ষণীয়। সেখানে ছাদ সোলারের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, ২০২৫ সালে বিতরণকৃত সোলার ক্ষমতা পৌঁছায় আনুমানিক ৩৪,০০০মেগাওয়াটে, যা গ্রিডের চাহিদা ২০২২ সালের তুলনায় ১১ শতাংশ কমিয়ে দেয়, আর এলএনজি চাহিদায় নেমে আসে ১৫.৪ শতাংশে। উচ্চ বিদ্যুৎ মাশুলের চাপেই মানুষ নিজেরাই বিকল্প খুঁজে নিয়েছে, সরকারি প্রণোদনার আগেই।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার এসকমের ঘটনা ভিন্ন পথে গেছে। ২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া লোড শেডিং ২০২৩ সালে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়, বছরে ৩৩৫ দিন লোডশেডিং হয়। এরপর সরকার একটা সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পেছনে বিপুল অর্থ ও দীর্ঘ সময় অপচয় না করে, সরকার ঋণ ত্রাণের শর্ত হিসেবে বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সংস্কারে জোর দেয়। এক বছরের মধ্যে এসকম ৫,৫০৬ মেগাওয়াট ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে, নতুন কেন্দ্র বসানোর চেয়ে অনেক দ্রুত ও সস্তায়। পাশাপাশি বেসরকারি স্ব-উৎপাদনের লাইসেন্স সীমা এক মেগাওয়াট থেকে তুলে দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের মে নাগাদ দেশটি ৩৬৫ দিন লোডশেডিং-মুক্ত থাকার রেকর্ড গড়ে। তবে এই সাফল্যের একটা অন্ধকার দিকও আছে। সমাধান এসেছে মূলত কয়লার ওপর আরও নির্ভর করে, যা এসকমের মোট বিদ্যুতের ৭০শতাংশের বেশি সরবরাহ করে। এসকম (Eskom)-এর কাছে দেশটির পৌরসভাগুলোর বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩বিলিয়ন র্যান্ড এবং বছরে প্রায় ৩৬বিলিয়ন র্যান্ড গতিতে বাড়ছে। যা ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলছে। দুটো দেশের অভিজ্ঞতাই বলছে, একা উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো কখনো সমাধান ছিল না, তাই আর্থিক কাঠামো আর বিতরণব্যবস্থার সংস্কারই আসল কাজ।
সম্ভাবনা আর জমির দ্বন্দ্ব
বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা বহু পুরোনো। ২০১০ সালের একটা জিআইএস-ভিত্তিক গবেষণায় দেখা যায়, দেশের মাত্র ১.৭ শতাংশ জমি গ্রিড-সংযুক্ত সৌর প্রকল্পের জন্য কারিগরিভাবে উপযুক্ত, তা সত্ত্বেও সেই সীমিত জমি থেকেই সম্ভাব্য সৌরক্ষমতা দাঁড়ায় প্রায় ৫০, ১৭৪ মেগাওয়াট, যা দ্য ডেইলি স্টারের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী ২০৪১ সালের প্রক্ষেপিত ৬০,০০০ মেগাওয়াট চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করতে পারত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ২০২৬ সালের আগস্টের ২৪ তারিখের তথ্যানুযায়ী নবায়নযোগ্য শক্তি মোট ইনস্টলড ক্ষমতার মাত্র ৫.৬২ শতাংশ বা ১৮২৫.৫২ মেগাওয়াট।

তবে একটা আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন ঘটছে আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানের বাইরে। ছাদ সৌরবিদ্যুৎ, যা মূলত শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের বিদ্যুৎ বিল কমাতে বসাচ্ছে, সরকারি হিসাবে ছিল ৪১৮ মেগাওয়াট, কিন্তু আইইইএফএর নিজস্ব জরিপে ২৩৯টি প্রতিষ্ঠান মিলিয়েই সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৬৬৭ মেগাওয়াটে, ছোট ইউনিট যোগ করলে যা প্রায় ১ গিগাওয়াট ছুঁতে পারে। এই বৃদ্ধির পেছনে সরকারি প্রণোদনা না, বরঞ্চ ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ মাশুলই মূল চালিকাশক্তি। সরকার এখন ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০,৪৫০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য ক্ষমতা যোগ করার লক্ষ্য নিয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি ছাদ সৌর থেকে আসার কথা। জমির সংকট এড়াতে ভাসমান সৌরবিদ্যুতের কথাও উঠে আসছে, আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশনের হিসাবে জলাশয়ে ১১,০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ভাসমান সৌর সম্ভাবনা আছে। কিন্তু এসব লক্ষ্য অতীতেও বারবার পিছিয়েছে, ২০২১ সালের ১০ শতাংশ লক্ষ্য পূরণ হয় নাই, তাই নতুন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সতর্ক আশাবাদই যুক্তিসঙ্গত।
শৃঙ্খলের সবচেয়ে দুর্বল কড়ি কোথায়
বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো শৃঙ্খলটা একসঙ্গে দেখলে একটা প্যাটার্ন স্পষ্ট হয়। বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়েছে, এমনকি অনেক সময় চাহিদা ও প্রকৃত ব্যবহারের বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত। কিন্তু সেই সম্প্রসারণের সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ পরিকল্পনা এবং গ্রিড অবকাঠামো সমানভাবে এগোয়নি। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমতে থাকলেও নতুন অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব ছিল; সেই ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সালের পর দ্রুত বেড়েছে এলএনজি আমদানি।
অর্থায়নের কাঠামোও সংকটকে আরও জটিল করেছে। বহু বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তিতে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট, বৈদেশিক মুদ্রা-সূচকায়ন এবং বিনিময় হার-সম্পর্কিত ঝুঁকি এমনভাবে যুক্ত ছিল যে মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও ডলার সংকট সরাসরি বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ বাড়িয়েছে। একই সময়ে উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধির তুলনায় ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন অবকাঠামোর সম্প্রসারণ পিছিয়ে ছিল, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও সেটিকে সবসময় কার্যকরভাবে গ্রিডে ব্যবহার করা যায়নি।
এই শৃঙ্খলে সবচেয়ে দুর্বল কড়িটা তাই একক কোনো বিন্দুতে নাই। দুর্বলতাটা আছে একটা পুনরাবৃত্ত প্যাটার্নে: প্রতিবার সংকট দেখা দিলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে দ্রুততম সমাধান বেছে নেওয়া হয়েছে, আর সেই অস্থায়ী সমাধানগুলো ধীরে ধীরে স্থায়ী কাঠামোর অংশ হয়ে গেছে। রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এসেছিল জরুরি ও স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে, কিন্তু বছরের পর বছর বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক কাঠামোর অংশ হয়ে থেকেছে। এলএনজি এসেছিল দেশীয় গ্যাসের ঘাটতি সামলাতে, কিন্তু ধীরে ধীরে তা একটি কাঠামোগত আমদানিনির্ভরতায় রূপ নিয়েছে। আর বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য তৈরি ক্যাপাসিটি পেমেন্ট ও take-or-pay ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় আর্থিক দায় বাড়িয়েছে।
অতএব
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে একটামাত্র উত্তর খোঁজা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। এটা একই সঙ্গে উৎপাদনক্ষমতার সংকট নয়, জ্বালানির সংকট, অর্থনৈতিক সংকট, আর পরিকল্পনার সংকট, চারটা একসঙ্গে জড়িয়ে আছে। তবে দেড় দশকের ইতিহাস একটা জিনিস স্পষ্ট করে দেয়, শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে এই সংকট কাটানো যায় নাই, যাবেও না। ২০২৬ সালের এই গ্রীষ্মে যে প্রশ্নটা বারবার ফিরে এসেছে, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন বিদ্যুৎ নাই, তার উত্তর আসলে আছে বাংলাদেশ কোন জ্বালানিতে, কোন আর্থিক শর্তে, আর কার জন্য তার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে তার মধ্যে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হয়তো আরেকটা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নাই, প্রশ্নটা আরও মৌলিক, বাংলাদেশ আসলে কোন জ্বালানিতে, কোন অর্থে এবং কোন ভবিষ্যতের জন্য তার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। ●
নোট: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্যসমূহ নির্ভরযোগ্য সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে এবং প্রতিটি তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের হাইপারলিংক প্রদান করা হয়েছে। সরকারি বক্তব্য বা হিসাবের সঙ্গে স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাব বা বিশ্লেষণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের মূল টেক্সটে এবং প্রাসঙ্গিক অংশে পৃথকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।