ল্যাম্পপোস্টের নিচে শহীদ কাদরী

যখন শহীদ কাদরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ’উত্তরাধিকার’ প্রকাশিত হয়, তখন বাংলা কবিতা মূলত হয় প্রকৃতি নয়তো আন্দোলনের ভাষায় কথা বলত।

● দ্য পাবলিশ

আগস্ট ১৫, ২০২৬

ল্যাম্পপোস্টের নিচে শহিদ কাদরী The Pubish

ইলাস্ট্রেশন : মাহমুদ / দ্য পাবলিশ / ছবি : পা. ডো.


রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারোটা। নীলক্ষেতের একটা পুরনো বইয়ের দোকানের সামনে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে টর্চের আলোয় একটা সস্তা সংস্করণ উল্টেপাল্টে দেখছে। বৃষ্টি সবে থেমেছে, রাস্তার পাশের ল্যাম্পপোস্টের নিচে জমে থাকা পানিতে দোকানের হলুদ বাতি ভাঙা প্রতিফলন ফেলছে। এই দৃশ্যটার সঙ্গে ঢাকার যে কারও পরিচয় আছে। কিন্তু এই দৃশ্যটা যদি কোনো কবিতার লাইন হতো, সেটা সম্ভবত শহীদ কাদরীর কবিতা হতো। কারণ বাংলা কবিতায় ল্যাম্পপোস্ট, রেস্তোরাঁর কড়িকাঠ, ভাঙা ফুটপাত আর মাঝরাতের নিঃসঙ্গতাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বানিয়ে তোলার কাজটা তাঁর আগে খুব কম কবিই করেছেন।

একটা শহর

১৯৬৭ সালে যখন শহীদ কাদরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘উত্তরাধিকার’ প্রকাশিত হয়, তখন বাংলা কবিতা মূলত হয় প্রকৃতি নয়তো আন্দোলনের ভাষায় কথা বলত। রবীন্দ্রনাথ থেকে নজরুল হয়ে তিরিশের পঞ্চপাণ্ডবের ধারা পেরিয়ে বিভাগোত্তর চল্লিশের দশকে ঢাকাকেন্দ্রিক যে কবিতাচর্চা শুরু হয়েছিল, শহীদ কাদরী ছিলেন তারই পরের প্রজন্মের একজন, যাঁরা ভাষা আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে কবিতার একটা বাঁকবদল ঘটান বলে চিহ্নিত হন। কিন্তু তাঁর কবিতা এই ধারাবাহিকতাকে মেনে চলেনি, তার ভেতরে একটা নতুন বিষয় ঢুকিয়ে দিয়েছিল, শহর নিজেই, তার যাবতীয় ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তা নিয়ে।

উত্তরাধিকারের কবিতাগুলোয় যে শহরের ছবি পাওয়া যায়, সেটা কোনো রোমান্টিক পটভূমি না। একটা কবিতায় তিনি লেখেন রেস্তোরাঁর কড়িকাঠ থেকে মাঝরাতে ঝুলে থাকা কিছু একটার কথা, প্রশ্ন তোলেন সেটা বাদুড় নাকি বেলুন, স্বপ্ন নাকি হতাশা, এই দ্বিধা নিয়ে (‘উত্তরাধিকার’ কবিতা)। আরেকটি কবিতায় জন্মের মুহূর্তটাকেই তিনি দেখেন একটা নগর-দুর্ঘটনার মতো করে, নবজাতক যেন এক দীপহীন ল্যাম্পপোস্টের নিচে সন্ত্রস্ত শহরের কোলে উগরে পড়েছে। এই চিত্রকল্পগুলো নিছক নাগরিক আসবাবের তালিকা না। এখানে শহর একটা মানসিক অবস্থা, যেখানে জন্ম নেওয়াই একধরনের বিপদ। এই বোধ থেকেই তাঁকে বাংলা কবিতায় নাগরিকতা ও আধুনিকতাবোধের একজন গুরুত্বপূর্ণ সূচনাকারী বলে ধরা হয়।

শহীদ কাদরীর জন্ম ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট, অবিভক্ত ভারতের কলকাতার পার্ক সার্কাসে। দেশভাগের পরপরই পরিবারের সঙ্গে তিনি চলে আসেন ঢাকায়, এবং প্রায় তিন দশক এই শহরেই কাটিয়ে দেন। যে ঢাকায় তিনি বেড়ে ওঠেন, সেটা তখনও পাকিস্তান রাষ্ট্রের একটা প্রাদেশিক রাজধানী, ভাষা আন্দোলনের রক্তক্ষরণ যার সাম্প্রতিক স্মৃতি। মাত্র এগারো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কবিতা ‘পরিক্রমা’ ‘স্পন্দন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, অর্থাৎ তাঁর কবি হয়ে ওঠার সময়টা মিলে যায় স্বাধীনতা-উত্তর একটা নতুন রাষ্ট্রের ভেতরে বেড়ে ওঠা এক প্রজন্মের অস্থিরতার সঙ্গে।

ষাটের দশকের ঢাকা ছিল একটা আশ্চর্য জায়গা, একদিকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, অন্যদিকে একটা তরুণ বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের জন্মযন্ত্রণা। এই দ্বৈততার ভেতরেই শহীদ কাদরী তাঁর কবিতার ভাষা তৈরি করেন, যেখানে রাজনৈতিক আবহ থাকে, কিন্তু সরাসরি স্লোগান থাকে না। উত্তরাধিকারের চল্লিশটি কবিতার বেশির ভাগ লেখা হয়েছিল ১৯৬১ থেকে ৬৭ সালের মধ্যে, আর মাত্র তিনটি কবিতা তার চেয়েও পুরনো, ১৯৫৬ সালের, যেগুলোকে তিনি নিজেই বলেছিলেন কৈশোরিক প্রচেষ্টায় নির্মিত। এই দীর্ঘ রচনাকালই বলে দেয়, উত্তরাধিকার তাড়াহুড়োয় লেখা কোনো তরুণ কবির প্রথম উচ্ছ্বাস নয়, বরং একজন কবির নিজের ভাষা খুঁজে পাওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়া।

এই প্রজন্মের সংকটটা বোঝা জরুরি। যাঁরা ১৯৫২-পরবর্তী পূর্ব বাংলায় বেড়ে উঠেছিলেন, তাঁদের সামনে দুটো ভাষ্য প্রস্তুত ছিল, একটা রাষ্ট্রীয়, উর্দুকেন্দ্রিক এবং ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ভাষ্য, অন্যটা ভাষা আন্দোলনের রক্ত থেকে জন্ম নেওয়া বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভাষ্য। শহীদ কাদরীর কবিতা কোনো ভাষ্যকেই সরাসরি গ্রহণ করেনি। তিনি একটা তৃতীয় জায়গা খুঁজে নেন। ব্যক্তি মানুষের মনস্তত্ত্ব, যেখানে রাষ্ট্র আর জাতীয়তা পটভূমিতে থাকে, সামনে থাকে একজন মানুষের একলা রাত। এই কারণেই তাঁকে নিছক ভাষা আন্দোলনের কবি বা মুক্তিযুদ্ধের কবি বলে বাক্সবন্দি করা কঠিন। তাঁর কবিতা রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের ধারাভাষ্য নয়, বরং সেই ঘটনাপ্রবাহের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়া একজন মানুষের ভেতরের বিবরণ।

প্রেম, যা রোমান্স নয় এবং রাষ্ট্র

শহীদ কাদরীর প্রেমের কবিতাগুলো পড়লে প্রথমেই যেটা চোখে পড়ে, তা হলো এখানে প্রেমিকা কোনো আদর্শায়িত মূর্তি নন। তাঁর কবিতায় শরীর, চুম্বন, ঊরু, স্তনের মতো শব্দ সরাসরি আসে, অথচ সেগুলো কামজ উদযাপনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্র আর ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। একটা কবিতায় তিনি বলেন যে, চেয়ার-টেবিল-সোফাসেট তাঁর নয়, এমনকি নিজের শরীরের অংশগুলোও তাঁর নিজের নয়, শুধু প্রেমিকের ব্যাকুল অবয়বই তাঁর, তারপর প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্রপ্রধান কি তাঁর এই প্রস্তাব মেনে নেবেন। এইখানেই তাঁর প্রেমের কবিতা রোমান্টিক ধারা থেকে সরে যায়। ভালোবাসা এখানে একটা রাজনৈতিক অবস্থান, রাষ্ট্রের সম্পত্তির ধারণার বিরুদ্ধে ব্যক্তির শেষ আশ্রয়।

আবার একাকিত্বের কবিতাগুলোয় শহরটাই যেন প্রধান চরিত্র হয়ে ওঠে। মাঝরাতে বিপদ-সংকেত জ্বালিয়ে বসে থাকা এক জোড়া মূল্যহীন চোখ, কম্পমান কম্পাসের মতো পড়ে থাকা একজন মানুষ, এই ছবিগুলো একটা প্রজন্মের মানসিক বিচ্ছিন্নতাকে ধরে রাখে, যে প্রজন্ম গ্রামীণ বাংলার সমষ্টিগত জীবন থেকে বেরিয়ে এসে শহরের নতুন নিঃসঙ্গতায় হঠাৎ একা পড়ে গিয়েছিল।

এই একাকিত্ব অবশ্য নিছক বিষণ্নতার উদযাপন নয়। শহীদ কাদরীর কবিতায় একলা মানুষটা প্রায়ই সজাগ, প্রায়ই সচেতনভাবে নিজের বিচ্ছিন্নতাকে পর্যবেক্ষণ করছে। এই আত্ম-সচেতনতাই তাঁর কবিতাকে নিছক অভিযোগ থেকে আলাদা করে। তিনি কাঁদেন না, বরং দেখেন। শহরের প্রতিটি বস্তু, প্রতিটি শব্দ, তাঁর কাছে একধরনের প্রমাণ হয়ে ওঠে যে আধুনিক জীবন মানুষকে যতটা সংযুক্ত করে, ততটাই বিযুক্ত করে দেয়। মধ্যবিত্ত জীবনের এই দ্বিধা, যেখানে একজন মানুষ ভিড়ের মধ্যেও একা, চাকরি-সংসারের নিরাপত্তার মধ্যেও অস্থির, শহীদ কাদরীর আগে বাংলা কবিতায় এত নিখুঁতভাবে ধরা পড়েনি।

শহীদ কাদরীকে কোনো একটা রাজনৈতিক শিবিরের প্রতীক বানানো কঠিন, কারণ তাঁর কবিতায় রাষ্ট্র সবসময় প্রশ্নবিদ্ধ, কিন্তু কখনো সরলীকৃত নয়। তাঁর কবিতায় দেশপ্রেম আছে, কিন্তু সেটা স্লোগানের ভাষায় নয়, বরং সংশয়ের ভাষায় প্রকাশ পায়। দেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা আর বিশ্ববোধ তাঁর কবিতার ভাষা ও ভঙ্গিকে যেভাবে বৈশিষ্ট্যায়িত করে, তাতে বোঝা যায় তিনি রাষ্ট্রকে দেখেছেন একজন নাগরিকের চোখে। মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক টালমাটাল সময় তাঁর প্রজন্মের অনেক কবিকেই প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কবিতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। শহীদ কাদরী সেই পথে হাঁটেননি। তাঁর কবিতায় রাষ্ট্র আসে পারিবারিক আসবাবের রূপকে, ব্যক্তিগত অধিকারের প্রশ্নে, যেন রাজনীতি আর প্রেম একই বাক্যের ভেতর বাস করতে পারে।

নির্বাসন, অথবা স্মৃতির ভূগোল

দীর্ঘ তিন দশক ঢাকায় কাটানোর পর শহীদ কাদরী দেশ ছাড়েন। বার্লিন, লন্ডন আর বোস্টন হয়ে অবশেষে থিতু হন নিউইয়র্কে। এই দীর্ঘ প্রবাসকে অনেক সমালোচক স্বেচ্ছানির্বাসন বলে অভিহিত করেন, কারণ এটা রাজনৈতিক নির্বাসন ছিল না, বরং একজন কবির নিজেকে নিজের শহর থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত। প্রশ্ন হলো, একজন কবি যখন তাঁর শহর ছেড়ে চলে যান, তখন কবিতায় সেই শহরের কী হয়?

শহীদ কাদরীর ক্ষেত্রে উত্তরটা জটিল। জীবদ্দশায় তাঁর প্রকাশিত চারটি বইয়ের শেষটি, ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’, বেরোয় ২০০৯ সালে, নিউইয়র্ক-পর্বের অনেক পরে। এই বইয়ের কবিতাগুলোয় ঢাকা আর একটা বাস্তব রাস্তার নাম থাকে না, বরং হয়ে ওঠে একটা আকাঙ্ক্ষার ভূগোল, যেখানে শীতের হাওয়া আর বরফে জ্বলতে থাকা ঋতুর মধ্যেও তিনি তাঁর সংরক্ষিত চুম্বনের আগুন পাঠাতে চান শ্রাবণ-আষাঢ়ে রোরুদ্যমান বাংলার কাছে। এখানে দেশ একটা প্রায় দৈহিক আকাঙ্ক্ষার বিষয়, দূরত্ব যাকে আরও তীব্র করে তোলে। তাঁর মৃত্যুর পর অগ্রন্থিত তেইশটি কবিতা নিয়ে প্রকাশিত পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ ‘গোধূলির গান’-এও এই প্রবাসী স্বর স্পষ্ট। ঢাকা তখন আর একটা দেখা যাওয়া শহর নয়, স্মৃতি থেকে পুনর্নির্মিত একটা মানচিত্র, যেখানে প্রতিটি রাস্তার নাম কিছুটা ঝাপসা, কিন্তু আবেগটা তীক্ষ্ণ।

শহীদ কাদরীর ভাষা নিয়ে যা সবচেয়ে বেশি বলা দরকার তা হলো সংযম। তাঁর সমসাময়িক অনেক কবিই বিপুল উৎপাদনশীল ছিলেন, অথচ শহীদ কাদরী জীবদ্দশায় মাত্র চারটি কাব্যগ্রন্থে সীমাবদ্ধ থাকেন, মোট দেড় শতাধিক কবিতা লিখে। এই স্বল্পপ্রজতা তাঁর কাছে অক্ষমতা ছিল না, বরং একধরনের নান্দনিক কঠোরতা। প্রতিটি কবিতায় শব্দ নির্বাচনে একটা প্রায় ভাস্করের মতো যত্ন দেখা যায়, যেখানে নাগরিক শব্দভাণ্ডার, বিষণ্নতা আর মৃদু ব্যঙ্গ পাশাপাশি থাকে।

আজকের ঢাকার সঙ্গে শহীদ কাদরীর ঢাকার মিল খুব কম। তাঁর সময়ের নির্জন রাস্তা, ফাঁকা ফুটপাত আর একলা ল্যাম্পপোস্টের জায়গায় এখন যানজট, নিয়ন আলো আর অবিরাম নোটিফিকেশনের শহর। তবু তাঁর কবিতার একাকিত্বের বোধ অদ্ভুতভাবে টিকে থাকে, হয়তো আরও তীব্র হয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে মানুষ আগের চেয়ে বেশি সংযুক্ত, অথচ সেই সংযোগের ভেতরেই একধরনের নতুন নিঃসঙ্গতা তৈরি হয়েছে, যা তাঁর কবিতার মাঝরাতের কম্পমান কম্পাসের ছবির সঙ্গে অস্বস্তিকরভাবে মিলে। রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রশ্নেও তাঁর কবিতা এখনও কথা বলে, কারণ রাষ্ট্র আর ব্যক্তির সংঘাত এখনও বাংলাদেশের একটা কেন্দ্রীয় বাস্তবতা।

আর নির্বাসনের অভিজ্ঞতা তো এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং একটা প্রজন্মের স্বাভাবিক জীবনধারা। যে তরুণ বাংলাদেশিরা আজ লন্ডন, টরন্টো বা মেলবোর্নে বসে দেশের খবর স্ক্রল করেন, তাঁরা কোনো না কোনোভাবে শহীদ কাদরীর সেই দূরত্বের আকাঙ্ক্ষার ভেতরেই নিজেদের খুঁজে পেতে পারেন। ফারাকটা শুধু এই যে তাঁর সময়ে দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল চিঠি আর মাঝেমধ্যে টেলিফোনের মতো ধীর মাধ্যমে, আর আজকের প্রবাসীর হাতে আছে সরাসরি সম্প্রচারিত একটা শহর, যাকে সে প্রতিদিন স্ক্রিনে দেখে অথচ ছুঁতে পারে না। এই বৈপরীত্যই শহীদ কাদরীর কবিতাকে নতুন করে পড়ার একটা কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দূরত্ব কমে গেলেই যে বিচ্ছিন্নতা কমে যায় না, বরং কখনো কখনো আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে, এই বোধ তাঁর কবিতায় আগে থেকেই লেখা ছিল।

তবে আরেকটা দিকও বলা দরকার, তাঁর কবিতার জগৎ ছিল আবেগঘন এবং প্রায়ই ব্যক্তিগত। আজকের পাঠক যদি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বা সরাসরি সামাজিক ভাষ্য খোঁজেন, তাহলে তাঁরা কিছুটা হতাশ হতে পারেন। তাঁর কবিতায় সংঘবদ্ধ প্রতিবাদ নাই, নীতিগত অবস্থানের ঘোষণা নাই, এমনকি অনেক সময় স্পষ্ট উপসংহারও নাই। শহীদ কাদরী উত্তর দেন না, প্রশ্ন রাখেন, এবং সেই প্রশ্ন রেখে যাওয়ার ক্ষমতাই সম্ভবত তাঁর কবিতাকে সময়ের সীমা পেরিয়ে টিকিয়ে রেখেছে। যে কবিতা উত্তর দেয় না, সেটাই বারবার নতুন সময়ের হাতে নতুন প্রশ্ন হয়ে ফিরে আসতে পারে।

২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট নিউইয়র্কের একটা হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর ভ্রমণপথ, কলকাতা থেকে ঢাকা, তারপর বার্লিন-লন্ডন-বোস্টন হয়ে নিউইয়র্ক, নিজেই একটা কবিতার মতো, যেখানে প্রতিটি শহর আগেরটার ওপর একটা নতুন স্তর জমা করেছে। নীলক্ষেতের সেই ছেলেটা হয়তো জানেই না তার হাতে ধরা বইটার লেখক কোন শহর থেকে কোন শহরে হেঁটেছিলেন। কিন্তু বৃষ্টি-ধোয়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে বইয়ের পাতা ওল্টানোর ওই মুহূর্তটাই দেয় বলে, একটা শহর আর তার একাকী মানুষদের মধ্যেকার যে কথোপকথন শহীদ কাদরী শুরু করেছিলেন, সেটা এখনও শেষ হয় নাই।


Picture of দ্য পাবলিশ

দ্য পাবলিশ

অনুসন্ধান, গল্প, প্রবন্ধ ও মুক্তচিন্তার স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম।
শেয়ার

আরও পড়েন

দুর্গের ভেতরে কয়েক হাজার সৈন্য, বাইরে প্রায় লক্ষাধিক উসমানীয় সেনা। এই লড়াই চলেছিল এক মাস, আর দুর্গ পতনের আগেই শেষ অভিযানে মৃত্যুবরণ করেন সুলতান সুলেমান।

দ্য পাবলিশ

উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে তাঁর সিনেমায় ফিরে যাওয়ার জন্য এই দশটি ছবি একটি ভালো শুরু।

দ্য পাবলিশ নিউজরুম

ছবিটি দেখে পাবলো পিকাসো বলেন “চার্চিল চাইলে পেশাদার চিত্রশিল্পী হতে পারতেন, যদি না তাঁর সময় অন্য কাজে ব্যস্ত থাকত”।

কালচারাল করেসপন্ডেন্ট

যখন একটা গেমের পেছনে এত বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়, তখন ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ প্রায় থাকে না বললেই চলে।

দ্য পাবলিশ নিউজরুম

Scroll to Top