যে গণিতবিদের ছায়ায় চলছে আমাদের ডিজিটাল জীবন

বাগদাদের সেই গণিতবিদ, যার নামে অ্যালগরিদম

● দ্য পাবলিশ

আগস্ট ১৭, ২০২৬

যে গণিতবিদের ছায়ায় চলছে আমাদের ডিজিটাল জীবন The Publish

ইলাস্ট্রেশন : মাহমুদ / দ্য পাবলিশ / ছবি : পা. ডো.


রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। রফিক তার ফোনের স্ক্রিনে বুড়ো আঙুল ছোঁয়ায়, আর যন্ত্রটা এক মুহূর্তেই তার মুখ চিনে নেয়, আনলক হয়ে যায়। সে একটা ঠিকানা টাইপ করে, আর মানচিত্র নিজে থেকেই হিসেব কষে বলে দেয় কোন রাস্তা দিয়ে গেলে বারো মিনিট বাঁচবে। ব্যাংকের অ্যাপে ঢুকে সে বন্ধুকে কিছু টাকা পাঠায়, আর সেকেন্ডের মধ্যে এক শহরের একাউন্ট থেকে আরেক শহরের একাউন্টে সংখ্যাগুলো পৌছে যায়, কেউ একটা কাগজের নোটও স্পর্শ করে না। তারপর সে একটা চ্যাটবটকে জিজ্ঞেস করে একটা প্রশ্ন, আর মেশিনটা কয়েক মুহূর্তের মধ্যে একটা উত্তর দেয়, যেন কেউ ভেতরে বসে ভাবছে, খুব জটিল কিছু।

রফিক এসবের কোনোটাই লক্ষ করে না। কেউ করে না। আমরাও করি না। ফোন আনলক হওয়ার সেই মুহূর্তে কেউ ভাবে না যে তার মুখের অনুপাত মাপার জন্য মেশিনটা কতগুলো জ্যামিতিক হিসেব কষে ফেলল সেকেন্ডে। গুগল ম্যাপ যখন রাস্তা বলে দেয়, কেউ ভাবে না লক্ষ লক্ষ সম্ভাব্য পথের মধ্যে থেকে একটামাত্র পথ বেছে নেওয়ার পেছনে কতগুলো সমীকরণ কাজ করল। টাকা পাঠানোর সময় কেউ ভাবে না দুটো ব্যাংকের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য যোগাযোগ তৈরি করতে কী পরিমাণ গাণিতিক কাঠামো লাগে। এই না-ভাবাটাই আসলে সবচেয়ে বড় সফলতার প্রমাণ। কারণ যে প্রযুক্তি নিখুঁতভাবে কাজ করে, সে নিজেকে আড়াল করে ফেলে। নিজের জটিলতা লুকিয়ে রাখে একটা মসৃণ, সহজ অভিজ্ঞতার আড়ালে।

এই পুরো দৃশ্যটার ভেতরে কোথাও মানুষের চোখে পড়ে না এমন একটা জিনিস কাজ করে যাচ্ছে অবিরাম। সংখ্যা। ধাপে ধাপে সাজানো নিয়ম। আমরা যাকে বলি প্রযুক্তি, তার মূলে আছে এমন একটা চিন্তা, যার বয়স বারোশো বছরেরও বেশি। আর সেই চিন্তার সুতো ধরে পেছাতে থাকলে গিয়ে পৌঁছানো যায় একটামাত্র শহরে, নবম শতাব্দীর বাগদাদ। আর একজন এমন মানুষের কাছে, যাঁর নাম আজকের দুনিয়ায় প্রায় কেউ মনে রাখে নাই, অথচ যাকে ছাড়া আজকের পৃথিবীর বহু কাজই সম্ভব হতো না। তার নাম মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি।

বাগদাদ, যেখানে পৃথিবীর জ্ঞান একত্র হতো

নবম শতাব্দীর বাগদাদ কল্পনা করতে গেলে আজকের কোনো শহরের সঙ্গে তার তুলনা করা যায় না। এই শহর তখন সদ্য তৈরি হচ্ছে, আব্বাসীয় খলিফাদের রাজধানী, আর তার বুক চিরে বইছে টাইগ্রিস নদী। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ী, দূত, পণ্ডিত আর অনুবাদক এসে জড়ো হতেন এখানে। বাজারে মিশত পারস্যের রেশম, ভারতের মশলা, চীনের কাগজ। রাতের বেলা শহরের আকাশের নিচে বসে জ্যোতির্বিদরা মাপতেন তারা, দিনের বেলা লাইব্রেরিতে বসে অনুবাদকরা উল্টাতেন গ্রিক পাণ্ডুলিপির পাতা।

খলিফা আল-মামুনের সময়ে এই শহরের কেন্দ্রে গড়ে উঠেছিল একটা প্রতিষ্ঠান, যার নাম বাইত আল-হিকমা অর্থাৎ জ্ঞানের গৃহ। এটা ঠিক আজকের কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ছিল না, আবার শুধু একটা লাইব্রেরিও ছিল না। এখানে গ্রিক দর্শন আর বিজ্ঞানের পাণ্ডুলিপি অনুবাদ হতো আরবিতে, সঙ্গে পারস্য আর ভারতীয় জ্ঞানের ধারাও এসে মিশত। ইতিহাসবিদরা এই নিয়ে একমত যে এটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানকেন্দ্রগুলোর একটি।

এই প্রতিষ্ঠানের শিকড় খুঁজতে গেলে আরেকটু পেছাতে হয়, ইরাকের বাইরে, পারস্যের গুন্দিশাপুর নামের এক প্রাচীন একাডেমিতে। যেখানে ইসলামের আবির্ভাবের বহু আগে থেকেই গ্রিক, সিরিয়াক, ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্র আর জ্যোতির্বিজ্ঞান পড়ানো হতো। আব্বাসীয়রা যখন ক্ষমতায় এল, তারা এই জ্ঞানের ঐতিহ্যকে নিজেদের রাজধানীতে নিয়ে এল। এই কারণেই বাইত আল-হিকমার প্রথম কাজগুলোর মধ্যে ছিল চিকিৎসাশাস্ত্র আর জ্যোতির্বিজ্ঞানের গ্রিক পাণ্ডুলিপি অনুবাদ, ধীরে ধীরে যার পরিসর বেড়ে দর্শন, গণিত, আর প্রকৌশলবিদ্যা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যাঁরা এই অনুবাদের কাজগুলা করতেন তাঁদের প্রায় সবাই আরব ছিলেন না। অনেক পণ্ডিতরাই পারস্য আর মধ্য এশিয়া থেকে এসে জড়ো হয়েছেন, আর আব্বাসীয় খলিফারা সচেতনভাবেই এই বৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করতেন। জ্ঞান কোথা থেকে আসছে তা নিয়ে তাঁদের কোনো কৃপণতা ছিল না, বরং সেটাকে টেনে আনাটাই ছিল রাষ্ট্রনীতির অংশ।

যদি প্রশ্ন করেন, কেন একটা রাজবংশ এত অর্থ আর সময় ঢালত জ্ঞানের পেছনে? এর একটা কারণ ছিল রাজনৈতিক বৈধতা। নতুন রাজধানী, নতুন রাজবংশ। তাই তাদের দরকার ছিল এমন একটা পরিচয় যা শুধু যুদ্ধজয়ের ওপর দাঁড়িয়ে নয়, বরং সভ্যতার শ্রেষ্ঠত্বের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে। জ্ঞানচর্চা তাদের কাছে ছিল ক্ষমতার আরেকটা ভাষা। তাছাড়াও আরেকটি কারণ ছিল। একটা সাম্রাজ্য যা ভূমধ্যসাগর থেকে ভারতের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত, তার প্রশাসন চালাতে নির্ভুল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পঞ্জিকা লাগে, কর আদায়ের জন্য নির্ভুল হিসাবরক্ষণ লাগে, ভূমি জরিপের জন্য লাগে জ্যামিতি। তাই বিজ্ঞান তাদরে জন্য কখনোই নিছক বিলাসিতা ছিল না, ছিল রাষ্ট্রক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একটা হাতিয়ার। আর সেই হাতিয়ার শাণ দেওয়ার কাজেই একদিন যুক্ত হলেন একজন তরুণ গণিতবিদ, যার জন্মস্থান ছিল বাগদাদ থেকে অনেক দূরে, মধ্য এশিয়ার এক অঞ্চলে।

যাঁকে নিয়ে ইতিহাস প্রায় নীরব

খোয়ারিজমির জীবন সম্পর্কে যতটা না জানা যায়, তার চেয়ে বেশি অজানাই থেকে যায়। ঐতিহাসিকরা মনে করেন তাঁর জন্ম হয়েছিল আনুমানিক ৭৮০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে, খোয়ারিজম অঞ্চলে, যা আজকের উজবেকিস্তান আর তুর্কমেনিস্তানের সীমান্ত এলাকায় পড়ে। তাঁর নামের শেষে যে “আল-খোয়ারিজমি” শব্দটা জুড়ে আছে, সেটা আসলে কোনো পদবি নয়, বরং তাঁর জন্মভূমির পরিচয়, ঠিক যেমন আমরা কাউকে বলি “বাংলাদেশি”।

তাঁর পারিবারিক শিকড় নিয়েও একটা কৌতূহলী প্রশ্ন আছে। কিছু প্রাচীন সূত্র ইঙ্গিত দেয় যে তাঁর পূর্বপুরুষরা হয়তো জরথুস্ত্রীয় অর্থাৎ অগ্নিউপাসনা ধর্মাবলম্বী ছিলেন, পরে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর নিজের লেখা বইয়ের ভূমিকায় যে ধর্মীয় নিষ্ঠা আর বিনয় প্রকাশ দেখা যায়, তাতে বোঝা যায় তিনি নিজে ছিলেন একজন প্রথাগত মুসলমান। এই দুইয়ের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই, শুধু এটুকু বোঝা যায় যে তাঁর পরিবারের ইতিহাস আর তাঁর নিজের বিশ্বাস, দুটো আলাদা বিষয়।

তিনি কবে বাগদাদে এসে পৌঁছালেন, কীভাবে খলিফার নজরে পড়লেন, এসব নিয়ে সরাসরি কোনো বিবরণ পাওয়া যায় না। যা জানা যায় তা হলো, আনুমানিক ৮২০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ তিনি বাইত আল-হিকমায় কাজ করছিলেন, আর তাঁর দুটো প্রধান গ্রন্থ তিনি উৎসর্গ করেছিলেন স্বয়ং খলিফা আল-মামুনকে। এটা থেকে বোঝা যায়, তিনি ছিলেন রাজদরবারের ঘনিষ্ঠ এক পণ্ডিত, যাঁর কাজে খলিফার সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা ছিল। এই সময়ে তাঁর সহকর্মী ছিলেন বানু মুসা নামে পরিচিত তিন ভাই, যাঁরা যন্ত্রকৌশল আর জ্যামিতি নিয়ে কাজ করতেন, আর তাঁদের সঙ্গে মিলেই আল-খোয়ারিজমি একটা প্রকল্পে যুক্ত হয়েছিলেন, পৃথিবীর পরিধি মেপে দেখার সেই বিখ্যাত অভিযানে। তাঁর মৃত্যু হয় আনুমানিক ৮৫০ খ্রিস্টাব্দে, বাগদাদেই, তবে কোথায় তাঁকে সমাহিত করা হয়েছিল তার কোনো চিহ্ন টেকেনি।

দশম শতাব্দীর গ্রন্থতালিকাকার ইবনে আল-নাদিম তাঁর বিখ্যাত সংকলন আল-ফিহরিস্তে আল-খোয়ারিজমির একটা সংক্ষিপ্ত জীবনী আর তাঁর রচিত বইয়ের একটা তালিকা রেখে গিয়েছিলেন, যা আজ পর্যন্ত এই মানুষটা সম্পর্কে জানার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর একটা। কিন্তু এই তালিকার বাইরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, তাঁর পরিবার, তাঁর শিক্ষাগুরু, এমনকি তাঁর চেহারা নিয়েও কোনো নির্ভরযোগ্য বিবরণ টেকেনি। যে মানুষটা পরবর্তী বারোশো বছরের গণিতকে দিক দেখিয়েছেন, তাঁর নিজের একটা প্রতিকৃতিও কোথাও অবশিষ্ট নেই।

তাঁর জাতিগত পরিচয় নিয়েও একটা কৌতূহলী আলোচনা আছে ইতিহাসবিদদের মধ্যে। খোয়ারিজম অঞ্চল সেই সময় ছিল পারস্য সংস্কৃতির প্রভাবাধীন এক ভূখণ্ড, আর তাঁর নাম, তাঁর জন্মস্থান থেকে অনুমান করে অধিকাংশ আধুনিক ইতিহাসবিদ তাঁকে পারস্যদেশীয় পণ্ডিত হিসেবেই চিহ্নিত করেন, যিনি লিখতেন আরবি ভাষায়, কারণ আরবি তখন ছিল বিজ্ঞান আর প্রশাসনের ভাষা, ঠিক যেমন এক শতাব্দী আগে লাতিন ছিল ইউরোপের পণ্ডিতদের সাধারণ ভাষা। এই ভাষাগত পরিচয় আর জাতিগত পরিচয়ের মধ্যেকার পার্থক্যটা মনে রাখা জরুরি, কারণ ইতিহাসে বহু সময় ভাষাকেই জাতিসত্তা ভেবে ভুল করা হয়। আল-খোয়ারিজমি আরবিতে লিখেছেন মানে এই নয় যে তিনি আরব ছিলেন, ঠিক যেমন ইবনে সিনা বা আল-বিরুনি আরবিতে লিখলেও তাঁরা ছিলেন পারস্য আর মধ্য এশিয়ার সন্তান। এই বহুস্তরীয় পরিচয়ই আসলে আব্বাসীয় যুগের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের একটা চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য, যেখানে ভাষা ছিল ভাগাভাগি করা একটা মাধ্যম, কিন্তু চিন্তার উৎস ছিল বহু ভিন্ন সংস্কৃতি থেকে।

এই সংক্ষিপ্ত জীবনী পড়ে হতাশ হওয়ার কিছু নাই। যে মানুষটার চিন্তা পুরো সভ্যতাকে বদলে দিতে পারে, তাঁর নিজের জীবনকাহিনি হয়তো কোথাও লেখাই থাকে না। ইতিহাস অনেক সময় মানুষকে মনে রাখে না, ধারণাকে মনে রাখে।

আল-খোয়ারিজমির কাজ বোঝার আগে একটা কথা বোঝা জরুরি। তিনি শূন্য থেকে কিছু তৈরি করেননি। তাঁর সামনে তখন খোলা ছিল চারটে ভিন্ন জ্ঞানধারা, আর তাঁর আসল কৃতিত্ব ছিল এই ধারাগুলোকে একত্র করে একটা নতুন সংশ্লেষ তৈরি করা।

গ্রিক ধারা থেকে এসেছিল জ্যামিতির কঠোর যুক্তিনির্ভরতা, ইউক্লিডের সেই ঐতিহ্য যেখানে প্রতিটা সিদ্ধান্তকে প্রমাণ করে দেখাতে হয়, কোনো কিছু গ্রহণ করা যায় না শুধু বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে। ভারতীয় ধারা থেকে এসেছিল সংখ্যা নিয়ে একেবারে ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গি, দশমিক স্থানীয় মান পদ্ধতি, শূন্যের ধারণা, আর ঋণাত্মক সংখ্যা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা। পারস্যের ধারা থেকে এসেছিল প্রশাসনিক আর জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার একটা দীর্ঘ ঐতিহ্য, সাসানীয় সাম্রাজ্যের আমলাতন্ত্র যে ধরনের নিখুঁত হিসাবরক্ষণ দাবি করত তার উত্তরাধিকার। আর সিরিয়াক ধারা থেকে এসেছিল অনুবাদের একটা প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য, কারণ সিরিয়াক ভাষাভাষী খ্রিস্টান পণ্ডিতরা বহু আগে থেকেই গ্রিক পাণ্ডুলিপি নিজেদের ভাষায় অনুবাদ করে রেখেছিলেন, আর সেই অনুবাদগুলোই পরে আরবি অনুবাদের ভিত্তি হয়ে ওঠে।

খোয়ারিজমি গ্রিক জ্যামিতির যুক্তিনিষ্ঠা ব্যবহার করেছিলেন বীজগণিতের সমাধানকে প্রমাণ করার জন্য, ভারতীয় সংখ্যা পদ্ধতিকে সংগঠিত করেছিলেন একটা লিখিত পদ্ধতিতে, পারস্যের প্রশাসনিক গণনার প্রয়োজনকে মাথায় রেখে তাঁর সমস্যাগুলো বেছে নিয়েছিলেন, উত্তরাধিকার বণ্টন, জমি জরিপ, বাণিজ্যিক চুক্তি, এসবের বাস্তব উদাহরণ দিয়ে। ইতিহাসবিদ দিমিত্রি গুতাস তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে এই ধরনের সংশ্লেষ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং গোটা বাগদাদি বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্কৃতিই এই ধরনের আন্তঃসাংস্কৃতিক মিশ্রণের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। একটা সভ্যতা যত বেশি ভিন্ন ভিন্ন জ্ঞানধারাকে নিজের মধ্যে হজম করতে পারে, ততই তার নতুন কিছু তৈরি করার সম্ভাবনা বাড়ে। আল-খোয়ারিজমি ছিলেন সেই হজম প্রক্রিয়ার সবচেয়ে উজ্জ্বল ফসলগুলোর একটা।

আল-খোয়ারিজমির সবচেয়ে বিখ্যাত রচনার নাম কিতাব আল-জাবর ওয়াল-মুকাবালা, বাংলায় বলা যায় “পুনর্স্থাপন ও সমতাকরণের মাধ্যমে গণনার সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ”। নামটা শুনতেই জটিল লাগে, কিন্তু এর ভেতরের ধারণাটা আশ্চর্যরকম সহজ আর ব্যবহারিক।

ধরেন, এক ব্যবসায়ীর কথা, যাঁর কাছে জমি বিভাজন, উত্তরাধিকার বণ্টন বা ব্যবসায়িক লেনদেনের হিসেব মেলাতে হয়। কিংবা, যেমন ধরেন দুই ভাইয়ের সম্পত্তির অনুপাত এরকম, বা কারও ঋণ শোধ করতে গেলে কত দিতে হবে এরকম। আল-খোয়ারিজমি দেখালেন, এই ধরনের যেকোনো সমস্যাকে একটা নির্দিষ্ট রূপে সাজানো যায়, আর তারপর কিছু নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করলে অজানা রাশিটার মান বের করে ফেলা যায়, প্রতিবার নতুন করে না ভেবেই।

“আল-জাবর” শব্দটার অর্থ মোটামুটি “পুনরুদ্ধার” বা “পূর্ণকরণ”। এর মানে হলো, সমীকরণের এক পাশে যদি কোনো রাশি বিয়োগ অবস্থায় থাকে, সেটাকে অন্য পাশে নিয়ে গিয়ে যোগ অবস্থায় বসিয়ে দেওয়া, যাতে দুই পাশ আবার সমান হয়। আর “মুকাবালা” মানে হলো দুই পাশের একই ধরনের রাশিগুলো একসঙ্গে করে ফেলা, যাতে সমীকরণটা সরল হয়ে যায়। আজকের স্কুলপড়ুয়া কোনো শিক্ষার্থী যখন কোনো সমীকরণের একপাশ থেকে সংখ্যা সরিয়ে অন্যপাশে নিয়ে যায়, সে অজান্তেই সেই একই কাজ করছে যা এক সহস্রাব্দেরও আগে বাগদাদে বসে একজন মানুষ প্রথমবার নিয়ম করে লিখে গিয়েছিলেন।

এখানেই রয়েছে আল-খোয়ারিজমির আসল অবদান। তাঁর আগেও মানুষ সমীকরণ সমাধান করত, প্রাচীন ব্যাবিলনীয়রা করত, গ্রিক গণিতবিদ দিওফান্তুস করতেন, ভারতীয় গণিতবিদরাও করতেন। কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের পদ্ধতি ছিল সমস্যা-নির্ভর, প্রতিটা সমস্যার জন্য আলাদা কৌশল। আল-খোয়ারিজমি প্রথম দেখালেন, সব ধরনের রৈখিক আর দ্বিঘাত সমীকরণকে হাতেগোনা কয়েকটা মৌলিক রূপে ভাগ করা যায়, আর প্রতিটা রূপের জন্য একটা সাধারণ, পুনরাবৃত্তিযোগ্য পদ্ধতি বানানো যায়। তিনি সংখ্যার বদলে পদ্ধতির কথা ভাবলেন। এটাই ছিল বিপ্লব। এই কারণেই ইতিহাসবিদরা তাঁকে বলেন বীজগণিতের জনক।

মজার ব্যাপার হলো, এই যুগান্তকারী বইয়ে প্রায় কোনো প্রতীক ছিল না। আজ আমরা যেভাবে অক্ষর আর চিহ্ন দিয়ে সমীকরণ লিখি, তখন তেমন কিছুই ছিল না। পুরো সমাধান লেখা হতো গদ্যের ভাষায়, বাক্যের পর বাক্যে, যেমন কেউ কাউকে মুখে মুখে হিসেবের একটা পদ্ধতি বুঝিয়ে দিচ্ছে। কোনো একটা সমস্যায় যদি বলা হতো, একটা সংখ্যার বর্গের সঙ্গে দশ গুণ করলে যা হয় তা যোগ করলে ঊনচল্লিশ পাওয়া যায়, তাহলে আল-খোয়ারিজমি ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দিতেন কীভাবে সেই সংখ্যাটা বের করতে হবে, ঠিক আজকের কোনো শিক্ষক যেভাবে ব্ল্যাকবোর্ডে ধাপ বুঝিয়ে দেন, অনেকটা সেভাবেই, শুধু চক-ডাস্টারের বদলে ছিল কালি আর চামড়ার পাতা। এক অর্থে বলা যায়, আল-খোয়ারিজমি গণিতকে ভাষার কাছাকাছি নিয়ে এসেছিলেন, তারপর ভবিষ্যতের গণিতবিদরা সেই ভাষাকে ধীরে ধীরে প্রতীকে রূপান্তরিত করেছেন।

তাঁর এই পদ্ধতি ইসলামি বিশ্বে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মিসরের গণিতবিদ আবু কামিল তাঁর কাজের ওপর ভিত্তি করে বীজগণিতকে আরও বিস্তৃত করেন, জটিলতর সমীকরণ সমাধানের পথ খুলে দেন। পরবর্তীতে পারস্যের কবি ও গণিতবিদ ওমর খৈয়াম ত্রিঘাত সমীকরণ নিয়ে কাজ করেন, যেখানে তিনি জ্যামিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন এমন সব সমস্যা সমাধানে যেগুলোর মূল ধারণা আল-খোয়ারিজমির রেখে যাওয়া কাঠামো থেকেই উৎসারিত। এভাবে কয়েক প্রজন্ম ধরে ইসলামি বিশ্বে বীজগণিত একটা স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে পরিণত হয়, বিচ্ছিন্ন সমস্যার সমাধান থেকে সরে গিয়ে একটা সংগঠিত তত্ত্বে রূপ নেয়, বহু শতাব্দী পরে যা ইউরোপে গিয়ে আরও প্রতীকী আর বিমূর্ত রূপ পায়।

এবার এমন একটা গল্প বলা যাক, যা প্রায় প্রত্যেক প্রযুক্তি-ব্যবহারকারীর জীবনে প্রতিদিন হাজারবার ঘটে, অথচ কেউ জানে না তার উৎস কোথায়।

আল-খোয়ারিজমির লেখা আরেকটা বই ছিল হিন্দু সংখ্যা পদ্ধতি নিয়ে গণনার কৌশল বর্ণনা করা। এই বইয়ের মূল আরবি পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গেছে, কিন্তু এর ল্যাটিন অনুবাদ টিকে আছে, যার শিরোনাম ছিল “আলগোরিতমি দে নুমেরো ইন্দোরুম”, অর্থাৎ “ভারতীয় সংখ্যা নিয়ে আলগোরিতমির রচনা”। ল্যাটিন অনুবাদকরা তাঁর নাম “আল-খোয়ারিজমি” উচ্চারণ করতে গিয়ে সেটাকে বদলে ফেলেছিলেন “আলগোরিতমি” নামে।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইউরোপে এই “আলগোরিতমি” নামটা জড়িয়ে গেল সংখ্যা দিয়ে ধাপে ধাপে গণনার সঙ্গে। মধ্যযুগীয় ল্যাটিনে এই ধরনের গণনা-পদ্ধতিকে বলা হতো “algorismus”। পরবর্তীতে সপ্তদশ শতাব্দীতে এই শব্দটা রূপ বদলে হয়ে যায় “algorithm”, অনেকটা “logarithm” শব্দের আদলে, যেখানে গ্রিক “arithmos” অর্থাৎ সংখ্যার প্রভাব যুক্ত হয়। উনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে গিয়ে এই শব্দটা আজকের অর্থ পায়, অর্থাৎ কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য ধাপে ধাপে সাজানো একটা সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি।

আজকের পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে এই শব্দটার ওজন অনুভব করা কঠিন নয়। যখন কেউ গুগলে কিছু খোঁজে, তখন একটা অ্যালগরিদম হাজার হাজার ওয়েবপেজের মধ্যে থেকে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক উত্তরটা বেছে নেয়। যখন কেউ ইউটিউবে একটা ভিডিও শেষ করে, একটা অ্যালগরিদম আন্দাজ করার চেষ্টা করে পরের ভিডিওটা কী হওয়া উচিত। নেটফ্লিক্সের সুপারিশ, টিকটকের ফিড, চ্যাটজিপিটির উত্তর তৈরি করা, এমনকি রোবটের হাঁটাচলা নিয়ন্ত্রণ করা, সবকিছুর কেন্দ্রে আছে এই একই ধারণা, ধাপে ধাপে সাজানো এমন একটা নিয়ম, যা একই ইনপুট দিলে বারবার একই যুক্তিতে একটা নির্দিষ্ট আউটপুটের দিকে এগোয়। আধুনিক অ্যালগরিদম আর নবম শতাব্দীর সমীকরণ সমাধানের পদ্ধতির মধ্যে প্রযুক্তিগত দূরত্ব বিশাল, কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের সুতোটা একই জায়গা থেকে টানা।

শূন্য থেকে শুরু হওয়া বিপ্লব

এবার একটু পেছনে যাওয়া যাক, এমন একটা মুহূর্তে যেখানে ইউরোপের একজন ব্যবসায়ী তাঁর হিসেবের খাতা খুলে বসেছেন। তাঁর সামনে রোমান সংখ্যা, যেমন MCMXLIV। এই সংখ্যা দিয়ে যোগ বিয়োগ করা যায় বটে, কিন্তু গুণ বা ভাগ করতে গেলে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। কারণ রোমান সংখ্যায় কোনো স্থানীয় মান নেই, প্রতিটা অক্ষরের মান স্থির, আর শূন্যের কোনো অস্তিত্বই নেই।

আল-খোয়ারিজমির লেখা সংখ্যাতত্ত্বের বইটা এই সমস্যার সমাধান নিয়ে আসে। ভারতীয় গণিতবিদদের তৈরি করা দশমিক স্থানীয় মান পদ্ধতিকে তিনি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন, যেখানে একই অঙ্ক তার অবস্থানের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন মান বহন করে, আর শূন্য এখানে শুধু “কিছু নেই” বোঝানোর প্রতীক নয়, বরং একটা পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা, যা স্থান ধরে রাখে আর হিসেবকে নির্ভুল করে তোলে। এই ব্যাখ্যাগুলো নিয়ে গেল হিসেব করার পুরো প্রক্রিয়াটাকে, যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, এমনকি বর্গমূল বের করাকেও, অনেক সহজ আর দ্রুততর করে তোলার পথে।

ধরেন, এমন একজন ব্যবসায়ী, যিনি রোমান সংখ্যায় হিসেব রাখতে গিয়ে অ্যাবাকাসের ওপর নির্ভরশীল, আর তাঁর পাশের আরেকজন, যিনি কাগজে-কলমে দশমিক পদ্ধতিতে সরাসরি হিসেব করে ফেলতে পারছেন। ইতালির বণিক নগরীগুলোয়, বিশেষ করে ফ্লোরেন্সে, এই নতুন পদ্ধতি বাণিজ্যের গতিকে বদলে দেয়। পরবর্তী শতাব্দীগুলোয় ব্যাংকিং, হিসাবরক্ষণ, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, সবকিছুর ভিত্তি হয়ে ওঠে এই একই সংখ্যা পদ্ধতি। আজ যে কম্পিউটার শূন্য আর একের ভাষায় কথা বলে, যে ডিজিটাল অর্থনীতি প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি সংখ্যার হিসেব কষে, তার শিকড় এই একই জায়গায়, যেখানে একজন বাগদাদি পণ্ডিত ভারতীয় সংখ্যাচিন্তাকে এমনভাবে লিখে গিয়েছিলেন যে তা সীমানা পেরিয়ে টিকে যায়।

এখানে একটা কথা স্পষ্ট করে বলা দরকার। শূন্যের ধারণা বা দশমিক স্থানীয় মান পদ্ধতি আল-খোয়ারিজমির নিজের আবিষ্কার নয়, এটা ভারতীয় গণিতবিদদের অবদান, বিশেষত ব্রহ্মগুপ্তের মতো পণ্ডিতদের। আল-খোয়ারিজমির ভূমিকা ছিল ভিন্ন, কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি এই পদ্ধতিকে এমনভাবে সংগঠিত করে লিখে গিয়েছিলেন যে তা আরব বিশ্ব হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এক অর্থে তিনি ছিলেন সেতু, যাঁর ওপর দিয়ে ভারতের চিন্তা পশ্চিমে হেঁটে গিয়েছিল।

এই সেতুটার গুরুত্ব বোঝা যায় তখনই, যখন আমরা ভাবি আধুনিক কম্পিউটার আসলে কী করে। একটা কম্পিউটার তার ভেতরে প্রতিটা তথ্যকে রূপান্তরিত করে শূন্য আর একের একটা দীর্ঘ ধারায়, যাকে বলা হয় বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি। এই পদ্ধতি দশমিক পদ্ধতির থেকে ভিন্ন, কিন্তু এর ভিত্তি একই দার্শনিক অন্তর্দৃষ্টির ওপর দাঁড়িয়ে, যে অঙ্কের মান তার অবস্থানের ওপর নির্ভর করে বদলে যায়, আর একটা প্রতীক দিয়ে “কিছু না থাকা”কেও নির্ভুলভাবে প্রকাশ করা যায়। যেদিন প্রথমবার কেউ বুঝেছিল শূন্য একটা প্রকৃত সংখ্যা, একটা স্থানধারী নয়, শুধু একটা ফাঁকা জায়গা নয়, বরং হিসেবের একটা সক্রিয় অংশ, সেদিনই আসলে গণনার ভবিষ্যতের একটা দরজা খুলে গিয়েছিল, যে দরজা দিয়ে বহু শতাব্দী পরে হেঁটে গেছে ট্রানজিস্টর, প্রসেসর, আর মোবাইল ফোনের চিপ।

আল-খোয়ারিজমির পরিচয় শুধু বীজগণিত আর সংখ্যাতত্ত্বেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন একজন জ্যোতির্বিদও। তাঁর তৈরি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সারণি, যাকে বলা হয় জিজ, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান হিসেব করার জন্য ব্যবহৃত হতো, নামাজের সময় নির্ধারণ, চান্দ্র মাসের হিসেব, এমনকি কেবলার দিক নির্ণয়ের মতো ব্যবহারিক প্রয়োজনেও এই সারণিগুলো কাজে লাগত। পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিম জ্যোতির্বিদরা এই সারণিকে ভিত্তি ধরে নিজেদের পর্যবেক্ষণ যোগ করে আরও নিখুঁত করে তোলেন, আর এই ঐতিহ্য পরবর্তীতে ইউরোপীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানেও প্রভাব ফেলে।

তাঁর আরেকটা কাজ ছিল ভূগোল নিয়ে, যার নাম কিতাব সুরাত আল-আরদ, পৃথিবীর বিবরণ। এই গ্রন্থে তিনি প্রাচীন গ্রিক জ্যোতির্বিদ টলেমির লেখা ভূগোল গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে কাজ করেছিলেন, কিন্তু শুধু অনুবাদ করেননি, বরং প্রায় দুই হাজার চারশোর বেশি স্থানের স্থানাঙ্ক নতুন করে হিসেব করে টলেমির ভুলগুলো সংশোধন করেছিলেন, বিশেষত ভূমধ্যসাগর, এশিয়া আর আফ্রিকার মানচিত্রে। এই কাজের পেছনে ছিল খলিফা আল-মামুনের একটা উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প, পৃথিবীর পরিধি মাপা আর একটা নির্ভরযোগ্য বিশ্বমানচিত্র তৈরি করা, যেখানে সত্তরজনেরও বেশি ভূগোলবিদ একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। এই প্রকল্প শুধু বিজ্ঞানের জন্য ছিল না, বরং বাণিজ্যপথ, হজযাত্রার দিকনির্দেশ, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, সবকিছুর জন্যই প্রয়োজনীয় ছিল।

তাঁর জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সারণিগুলোও একই ধরনের ব্যবহারিক প্রয়োজন থেকে জন্ম নিয়েছিল। একটা সাম্রাজ্যে যেখানে দিনে পাঁচবার নামাজের সময় নির্ভুলভাবে জানা দরকার, যেখানে রমজানের চাঁদ দেখার তারিখ নিয়ে বিতর্ক এড়াতে হয়, সেখানে গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধির নির্ভুল হিসেব নিছক কৌতূহল ছিল না, ছিল প্রশাসনিক প্রয়োজন। আল-খোয়ারিজমির সারণি এই প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে গ্রিক আর ভারতীয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মডেলকে একত্র করে এমন একটা রূপ দেয়, যা পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে মুসলিম বিশ্বের অসংখ্য মানমন্দিরে ব্যবহৃত আর সংশোধিত হতে থাকে। এই সারণিগুলো নিয়ে গবেষণা করেছেন ইতিহাসবিদ ডেভিড কিং, যিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ইসলামি বিশ্বে জ্যোতির্বিজ্ঞান আর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল, আর সেই জড়িয়ে থাকার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল নিখুঁত গণনার একটা ক্রমাগত চাহিদা।

আজকের জিপিএস, যা মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর যেকোনো বিন্দুকে একটা নির্ভুল স্থানাঙ্কে রূপান্তরিত করে, তার সঙ্গে সরাসরি প্রযুক্তিগত যোগসূত্র না থাকলেও, এই একই চিন্তার পূর্বসূরি এখানে দেখা যায়, পৃথিবীকে সংখ্যা দিয়ে বর্ণনা করার সেই আকাঙ্ক্ষা, যা একদিন বাগদাদের একটা ঘরে বসে সত্তরজন মানুষ মিলে বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করেছিলেন। বিমান চলাচলের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সমুদ্রগামী জাহাজের নেভিগেশন, স্যাটেলাইট কক্ষপথের হিসেব, এই সবকিছুর গোড়ায় একই প্রশ্ন কাজ করে, পৃথিবীর একটা বিন্দুকে কীভাবে নিখুঁতভাবে সংখ্যায় প্রকাশ করা যায়। সেই প্রশ্নের একটা প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ উত্তর লেখা হয়েছিল বাগদাদে, কাগজে-কলমে, কোনো উপগ্রহ ছাড়াই।

আধুনিক পৃথিবীর একটা সবচেয়ে অদ্ভুত প্যারাডক্স হলো এই, আমরা যত বেশি ডিজিটাল হয়ে উঠছি, তত বেশি আমাদের গোপনীয়তা নির্ভর করছে সংখ্যার ওপর। কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড, কারও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার এনক্রিপশন, কারও ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন, সবকিছুর নিরাপত্তা দাঁড়িয়ে আছে বিশাল বিশাল সংখ্যাকে ভাঙা আর গুণ করার গাণিতিক জটিলতার ওপর। আধুনিক ক্রিপ্টোগ্রাফি নির্ভর করে এমন গাণিতিক সমস্যার ওপর, যা কম্পিউটারের পক্ষেও সমাধান করতে কার্যত অসম্ভব পরিমাণ সময় লাগে, অথচ সঠিক চাবি থাকলে মুহূর্তের মধ্যে খুলে ফেলা যায়। এই পুরো কাঠামোটা দাঁড়িয়ে আছে বীজগণিতের সেই মূল নীতির ওপর, যেখানে অজানা রাশিকে সাজিয়ে, ভেঙে, পুনর্গঠন করে একটা সমাধানে পৌঁছানো হয়, ঠিক যেভাবে আল-খোয়ারিজমি তাঁর পাঠকদের শিখিয়েছিলেন একটা অজানা সংখ্যাকে কীভাবে ধাপে ধাপে বের করে আনতে হয়।

ব্যাংকিং আর অর্থনীতির জগতেও এই একই ঐতিহ্যের ছাপ স্পষ্ট। যে অ্যালগরিদম শেয়ারবাজারে সেকেন্ডের ভগ্নাংশে হাজার হাজার লেনদেন সম্পন্ন করে, যে সূত্র ব্যাংকের ঝুঁকি নির্ধারণ করে, যে হিসেব একটা ঋণের সুদ কষে, এগুলোর প্রতিটাই শেষ পর্যন্ত একটা সমীকরণে গিয়ে দাঁড়ায়, যেখানে কিছু রাশি জানা, কিছু রাশি অজানা, আর কাজটা হলো সেই অজানাকে বের করে আনা। প্রকৌশলবিদ্যার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে, একটা সেতু কতটা ভার সইতে পারবে, একটা ভবনের কাঠামো কতটা নিরাপদ, একটা বিমানের ডানা কীভাবে বাতাসের চাপ সামলাবে, এই প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে থাকে এমন সব সমীকরণে যাদের শেকড় গিয়ে ঠেকে সেই একই ঐতিহ্যে, সমস্যাকে বিমূর্ত প্রতীকে রূপান্তরিত করে সমাধান খোঁজার সেই পদ্ধতিতে, যার প্রথম নিয়মমাফিক রূপ লেখা হয়েছিল বাগদাদে।

প্রোগ্রামিংয়ের জগতেও এই ঐতিহ্যের প্রতিধ্বনি স্পষ্ট। একজন প্রোগ্রামার যখন কোনো সমস্যার সমাধান লেখেন, তিনি আসলে একটা পদ্ধতি লেখেন, ধাপে ধাপে সাজানো একগুচ্ছ নির্দেশ, যা একই ইনপুট দিলে বারবার একই যুক্তিতে একটা নির্দিষ্ট ফলাফলের দিকে এগোয়। এই সংজ্ঞাটা এতটাই মৌলিক যে কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রথম পাঠেই একে শেখানো হয়, অথচ এই সংজ্ঞার শব্দগত উৎসই ভুলে যাওয়া হয় প্রায় সবসময়।

ইউরোপ যখন তাঁকে পড়তে শুরু করে

আল-খোয়ারিজমির মৃত্যুর প্রায় তিনশো বছর পর, দ্বাদশ শতাব্দীতে, ইউরোপে শুরু হয় এক বিশাল অনুবাদ আন্দোলন। স্পেনের টলেডো শহর তখন হয়ে উঠেছিল খ্রিস্টান আর মুসলিম জ্ঞানের এক সন্ধিস্থল। এখানে বসে ইংরেজ পণ্ডিত রবার্ট অব চেস্টার আর ইতালীয় পণ্ডিত জেরার্ড অব ক্রেমোনার মতো অনুবাদকরা আরবি পাণ্ডুলিপি ল্যাটিনে অনুবাদ করতে শুরু করেন। এর মধ্যেই ছিল আল-খোয়ারিজমির বীজগণিতের গ্রন্থ, আর তাঁর সংখ্যাতত্ত্বের বই।

এই অনুবাদগুলো ধীরে ধীরে ইউরোপের নবগঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ঢুকে পড়ে। যেসব ছাত্র বোলোনিয়া, প্যারিস বা অক্সফোর্ডে বসে অঙ্ক শিখতেন, তাঁদের পাঠ্যক্রমে এসে যোগ হয় এই আরবি-থেকে-ল্যাটিন হয়ে আসা জ্ঞান।

এই গল্পের সবচেয়ে মানবিক অংশটা জড়িয়ে আছে এক ইতালীয় ব্যবসায়ী-পরিবারের ছেলের সঙ্গে। পিসা শহরের লিওনার্দো, যাঁকে ইতিহাস মনে রেখেছে ফিবোনাচ্চি নামে, তাঁর বাবা ছিলেন উত্তর আফ্রিকার একটা বন্দরে কর্মরত এক কাস্টমস কর্মকর্তা। কিশোর বয়সে বাবার সঙ্গে সেখানে গিয়ে লিওনার্দো স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শেখেন হিন্দু-আরবি সংখ্যা পদ্ধতি, আর তাৎক্ষণিকভাবেই বুঝে যান, রোমান সংখ্যার তুলনায় এই পদ্ধতিতে হিসেব করা কতটা দ্রুত আর সহজ। দেশে ফিরে তিনি লেখেন লিবের আবাচি নামের একটা বই, যেখানে তিনি এই সংখ্যা পদ্ধতি ইতালীয় ব্যবসায়ীদের কাছে পরিচিত করিয়ে দেন। একজন কিশোরের বন্দরনগরীতে কাটানো কয়েকটা বছর, এভাবেই একদিন বদলে দেয় গোটা ইউরোপীয় বাণিজ্যের হিসেবরক্ষণ পদ্ধতিকে।

এভাবেই ধীরে ধীরে রোমান সংখ্যার জায়গা নিতে শুরু করে দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি, প্রথমে ব্যবসায়ীদের হাত ধরে, পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে, তারপর গোটা মহাদেশে। এই পরিবর্তন যে খুব মসৃণভাবে হয়েছিল তা নয়। বহু শহরে ব্যাংকার আর হিসাবরক্ষকরা দীর্ঘদিন নতুন সংখ্যা পদ্ধতি নিয়ে সন্দিহান ছিলেন, কারণ আরবি অঙ্কে খাতাপত্র জালিয়াতি করা সহজ, এই আশঙ্কায় কিছু শহরে সরকারিভাবে এই পদ্ধতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাও জারি হয়েছিল কিছুকালের জন্য। কিন্তু এই পদ্ধতির গাণিতিক সুবিধা এতটাই স্পষ্ট ছিল যে শেষ পর্যন্ত কোনো নিষেধাজ্ঞাই তাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি।

রেনেসাঁর সময়কার গণিতবিদরা, যাঁরা পরবর্তীতে বীজগণিতকে আরও উন্নত প্রতীকী রূপ দেন, তাঁরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে এই ল্যাটিন অনুবাদের ওপর দাঁড়িয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। এক অর্থে বলা যায়, ইউরোপীয় গণিতের আধুনিকীকরণের প্রথম ধাপটা এসেছিল একটা অনুবাদ থেকে, একটা এমন পাণ্ডুলিপি থেকে যার লেখকের নামটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল ভাষান্তরের পথে।

এখানে একটা প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়। কেন প্রায় প্রতিটা মানুষ “অ্যালগরিদম” শব্দটা জানে, অথচ আল-খোয়ারিজমির নাম শোনেইনি?

এর উত্তর আংশিকভাবে আছে ইতিহাসের এক সাধারণ প্রবণতার মধ্যে। সভ্যতা প্রায়শই আবিষ্কারকে মনে রাখে, আবিষ্কারককে ভুলে যায়। যে শব্দ একবার ভাষায় ঢুকে যায়, সেটা আর কারও নামের সঙ্গে যুক্ত থাকে না, সেটা হয়ে ওঠে সবার সম্পত্তি, কারও একার নয়। “অ্যালগরিদম” শব্দটা এতটাই সাধারণ হয়ে উঠেছে যে এর পেছনে একটা মানুষের মুখ আছে, এই কথাটাই এখন অদ্ভুত শোনায়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইতিহাস লেখার রাজনীতিও। ইউরোপকেন্দ্রিক ইতিহাসচর্চায় দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি স্বর্ণযুগের অবদানকে প্রায়ই শুধু “গ্রিক জ্ঞানের সংরক্ষক” হিসেবে দেখানো হয়েছে, যেন এই সময়টুকু ছিল শুধু একটা সেতু, নিজস্ব কোনো সৃজনশীলতা ছাড়া। আধুনিক গবেষকরা, যেমন জর্জ সালিবা বা জিম আল-খলিলি, এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, দেখিয়েছেন যে বাগদাদের পণ্ডিতরা শুধু অনুবাদ করেননি, বরং মৌলিক গবেষণা করেছেন, নতুন গাণিতিক শাখা তৈরি করেছেন, পুরনো জ্ঞানের ভুল সংশোধন করেছেন। আল-খোয়ারিজমির জীবনই তার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ।

আরেকটা কারণও আছে, যা হয়তো আরও গভীর। ভাষা যখন কোনো ধারণাকে গিলে ফেলে, তখন সেই ধারণার পেছনের মানুষটা মুছে যেতে থাকে ধীরে ধীরে, প্রায় লক্ষ্যণীয়ভাবেই না। কেউ যখন বলে “লজিক”, সে জানে না অ্যারিস্টটলের নাম মনে করার দরকার আছে কিনা। কেউ যখন বলে “ভোল্ট”, সে খুব কম সময়ই ভাবে আলেসান্দ্রো ভোল্টার কথা। শব্দ যত বেশি ব্যবহৃত হয়, তত দ্রুত সে তার উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটা স্বতন্ত্র সত্তা হয়ে ওঠে। “অ্যালগরিদম” শব্দটার ভাগ্যেও এটাই ঘটেছে, শুধু পার্থক্য এই যে এই শব্দটা আজ প্রতিদিন কোটি কোটি বার ব্যবহৃত হয়, প্রতিটা সার্চ ইঞ্জিন কোয়েরিতে, প্রতিটা সুপারিশ ব্যবস্থায়, প্রতিটা প্রোগ্রামিং ক্লাসের প্রথম পাঠে।

আবার সেই ফোনের স্ক্রিনের কাছে ফিরে যাওয়া যাক। যে মানুষটা আঙুল ছুঁইয়ে ফোন আনলক করল, তার পেছনে যে ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করছে, তা নির্ভর করে জটিল গাণিতিক সমীকরণের ওপর, যেখানে সংখ্যাকে ভাঙা আর জোড়া লাগানোর একই মূলনীতি লুকিয়ে আছে যা একদিন আল-জাবরের পাতায় প্রথম লেখা হয়েছিল। যে মানচিত্র তাকে পথ দেখাল, তার ভেতরে বাস করে সেই একই আকাঙ্ক্ষা, পৃথিবীকে স্থানাঙ্কে বেঁধে ফেলার, যা একদিন সত্তরজন ভূগোলবিদ মিলে বাগদাদে বসে করার চেষ্টা করেছিলেন। যে ব্যাংক লেনদেন এক সেকেন্ডে সম্পন্ন হলো, তার ভিত্তি সেই দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি, যা রোমান সংখ্যার জায়গা নিয়ে ইউরোপীয় বাণিজ্যকে নতুন গতি দিয়েছিল। আর যে চ্যাটবট একটা বাক্য তৈরি করল, তার ভেতরে অসংখ্য স্তরে স্তরে সাজানো আছে অ্যালগরিদম, সেই শব্দ, যার জন্ম হয়েছিল একটা ভুল উচ্চারণ থেকে, এক ল্যাটিন অনুবাদকের কলমে, একজন মানুষের নাম বিকৃত হয়ে।

কোনো মানুষ যখন তার ফোন হাতে নেয়, সে জানে না যে সে আসলে একজন মৃত মানুষের সঙ্গে করমর্দন করছে, যাঁর নাম সে কখনো শোনেনি। অথচ তার প্রতিটা স্পর্শ, প্রতিটা হিসেব, প্রতিটা সিদ্ধান্ত কোথাও না কোথাও গিয়ে ঠেকে সেই মানুষটার কাছে, যিনি বারোশো বছর আগে টাইগ্রিস নদীর তীরে বসে ভাবছিলেন, কীভাবে একটা অজানা রাশির মান বের করা যায়, যাতে দুই ভাইয়ের সম্পত্তি ঠিকভাবে ভাগ হয়, বা একটা ঋণের হিসেব মিলে যায়।

সভ্যতা এভাবেই এগোয়, নীরবে, নাম ভুলে গিয়ে, কিন্তু ধারণাকে বাঁচিয়ে রেখে। আল-খোয়ারিজমি নিজে হয়তো কখনো ভাবেননি যে তাঁর একটা বইয়ের নাম একদিন হয়ে উঠবে গণিতের একটা গোটা শাখার নাম, আর তাঁর নিজের নামের একটা বিকৃত রূপ হয়ে উঠবে এই শতাব্দীর সবচেয়ে ব্যবহৃত শব্দগুলোর একটি। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন তিনি লিখছেন একটা ব্যবহারিক পুস্তিকা, যাতে বাগদাদের কেরানিরা জমি ভাগ করতে পারে, ব্যবসায়ীরা লাভক্ষতির হিসেব মেলাতে পারে, বিচারকরা উত্তরাধিকারের বিরোধ মেটাতে পারেন। তিনি জানতেন না যে তাঁর সেই ব্যবহারিক পুস্তিকা একদিন সমুদ্র পেরিয়ে, ভাষা বদলে, নাম বিকৃত হয়ে, এমন এক সভ্যতার ভিত্তি হয়ে উঠবে যার কল্পনাও তিনি করতে পারতেন না।

তবু প্রতিবার যখন একটা ফোন আনলক হয়, একটা মানচিত্র পথ দেখায়, একটা মেশিন একটা বাক্য বানায়, একটা ব্যাংক লেনদেন নিশ্চিত হয়, একটা স্যাটেলাইট নিজের অবস্থান জানান দেয়, কোথাও একটা ক্ষীণ প্রতিধ্বনি বেজে ওঠে, বাগদাদের সেই ঘর থেকে, যেখানে একজন মানুষ কাগজে কলম বসিয়ে প্রথমবার লিখেছিলেন, কীভাবে একটা অজানাকে জানা যায়। তাঁর নাম আমরা মনে রাখি না, কিন্তু তাঁর প্রশ্নটা আমরা প্রতিদিন হাজারবার জিজ্ঞেস করি, যন্ত্রের কাছে, নিজেদের অজান্তেই। আর হয়তো এটাই সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি, যা একজন মানুষ পেতে পারেন, নিজের নাম হারিয়ে গিয়েও নিজের প্রশ্নটাকে অমর করে যাওয়া।


Picture of দ্য পাবলিশ

দ্য পাবলিশ

অনুসন্ধান, গল্প, প্রবন্ধ ও মুক্তচিন্তার স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম।
শেয়ার

আরও পড়েন

দুর্গের ভেতরে কয়েক হাজার সৈন্য, বাইরে প্রায় লক্ষাধিক উসমানীয় সেনা। এই লড়াই চলেছিল এক মাস, আর দুর্গ পতনের আগেই শেষ অভিযানে মৃত্যুবরণ করেন সুলতান সুলেমান।

দ্য পাবলিশ

উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে তাঁর সিনেমায় ফিরে যাওয়ার জন্য এই দশটি ছবি একটি ভালো শুরু।

দ্য পাবলিশ নিউজরুম

ছবিটি দেখে পাবলো পিকাসো বলেন “চার্চিল চাইলে পেশাদার চিত্রশিল্পী হতে পারতেন, যদি না তাঁর সময় অন্য কাজে ব্যস্ত থাকত”।

কালচারাল করেসপন্ডেন্ট

যখন একটা গেমের পেছনে এত বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়, তখন ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ প্রায় থাকে না বললেই চলে।

দ্য পাবলিশ নিউজরুম

Scroll to Top