শান্তির ঘোষণার পরেও ঘুমাতে পারেনি তারা

গাজায় আবারও ইসরায়েলি বিমান হামলা, নিহত অন্তত চারজন

● দ্য পাবলিশ নিউজরুম

আগস্ট ২, ২০২৬

শান্তির ঘোষণার পরেও ঘুমাতে পারেনি তারা The Publish

ইলাস্ট্রেশন : মাহমুদ / দ্য পাবলিশ / রয়টার্স


রোববার সকালে দেইর আল-বালাহর একটি ভবনে ধুলো এখনও থিতু হয়নি, এমন সময় ওয়াশিংটনে ঘোষণা করা হচ্ছিল যে যুদ্ধ থামার পথ পরিষ্কার হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজায় অন্তত চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো। আর এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সবেমাত্র ঘোষণা দিয়েছেন যে গত বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের পথে “অগ্রগতি” হয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান গাজা সিটি ও দেইর আল-বালাহর দুটি ভিন্ন অ্যাপার্টমেন্টে হামলা চালায়। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহতে এক দম্পতি প্রাণ হারান, স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই, আহত হন আরও চারজন। গাজা সিটিতে আরেকটি হামলায় মারা যান দুজন, তাদের একজন শিশু।

এই মৃত্যুগুলো এমন এক মুহূর্তে ঘটল, যখন কূটনৈতিক ভাষায় সবকিছু প্রায় চূড়ান্ত মনে হচ্ছিল। ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, হামাস যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি উদ্যোগের অধীনে নিরস্ত্র হতে রাজি হওয়ার পর আলোচনায় একধরনের অগ্রগতি এসেছে, যার লক্ষ্য গত বছর মিশরে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করা। শুক্রবার প্রেসিডেন্টের “বোর্ড অফ পিস” একটি ১৫-দফা রোডম্যাপ প্রকাশ করে, যেখানে চুক্তি কার্যকর করার শেষ ধাপগুলো লেখা আছে। কাগজে-কলমে এটি একটি সমাপ্তির রূপরেখা। মাটিতে এটি এখনও কেবল একটি প্রস্তাব, যার বাস্তবায়ন আটকে আছে এক পুরনো, পরিচিত অচলাবস্থায়: কে আগে সরবে, হামাস অস্ত্র ছাড়বে নাকি ইসরায়েল বাহিনী প্রত্যাহার করবে।

হামাসের অবস্থান স্পষ্ট, তারা তাদের অস্ত্র সংরক্ষণাগারে জমা রাখবে কেবল তখনই, যখন ইসরায়েল তার সামরিক অভিযান বন্ধ করবে এবং পূর্ববর্তী চুক্তি অনুযায়ী বাহিনী প্রত্যাহার করবে। অন্যদিকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, সেনাবাহিনী তাদের বর্তমান অবস্থান ছাড়বে না, যতক্ষণ না হামাস “প্রকৃত নিরস্ত্রীকরণ” সম্পন্ন করে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সর্বশেষ উদ্যোগ নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, তার নীরবতা নিজেই একধরনের বার্তা বহন করে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির নীরব থাকেননি। তিনি প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং হামাস নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্পের ওয়াশিংটন যখন যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করছে, তখন নেতানিয়াহুর জোটের ভেতরেই একটি অংশ সেই সমাপ্তিকে মানতে নারাজ।

এই টানাপোড়েনের একটি ভিন্ন স্তরও উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত ফাতাহর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাহলানের মন্তব্যে। দাহলান বলেছেন, ট্রাম্পের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার তাকে জানিয়েছেন যে তিনি গাজায় হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে দাহলান জানালেও, তার নিজের ভাষ্যেই বাস্তবায়নের শর্ত একটাই, ইসরায়েলকে তার দৈনন্দিন সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট দাহলানের এই বক্তব্যে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, ইসরায়েলও নীরব থেকেছে।

শেষ পর্যন্ত রোববারের চিত্রটি এক ধরনের দ্বিখণ্ডিত বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। একদিকে ওয়াশিংটনের ঘোষণা, রোডম্যাপ, বোর্ড অফ পিস, “ব্রেকথ্রু” শব্দটির পুনরাবৃত্তি। অন্যদিকে দেইর আল-বালাহ ও গাজা সিটির দুটি অ্যাপার্টমেন্ট, যেখানে কূটনীতির ভাষা পৌঁছানোর আগেই সব শেষ হয়ে গেছে। যুদ্ধবিরতি নামক শব্দটি যতবার উচ্চারিত হয়, গাজার আকাশ ততবারই তার নিজের উত্তর দেয়।


Picture of দ্য পাবলিশ নিউজরুম

দ্য পাবলিশ নিউজরুম

শেয়ার

আরও পড়েন

দুর্গের ভেতরে কয়েক হাজার সৈন্য, বাইরে প্রায় লক্ষাধিক উসমানীয় সেনা। এই লড়াই চলেছিল এক মাস, আর দুর্গ পতনের আগেই শেষ অভিযানে মৃত্যুবরণ করেন সুলতান সুলেমান।

দ্য পাবলিশ

উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে তাঁর সিনেমায় ফিরে যাওয়ার জন্য এই দশটি ছবি একটি ভালো শুরু।

দ্য পাবলিশ নিউজরুম

ছবিটি দেখে পাবলো পিকাসো বলেন “চার্চিল চাইলে পেশাদার চিত্রশিল্পী হতে পারতেন, যদি না তাঁর সময় অন্য কাজে ব্যস্ত থাকত”।

কালচারাল করেসপন্ডেন্ট

যখন একটা গেমের পেছনে এত বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়, তখন ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ প্রায় থাকে না বললেই চলে।

দ্য পাবলিশ নিউজরুম

Scroll to Top